আমতলীতে জীবাণুনাশক সংকট

0
19

খালেদ মোশাররফ সোহেল,আমতলী  বিশেষ প্রতিনিধিঃ

করোনা পরিস্থিতির মধ্যে আমতলীতে ওষুধের দোকানগুলোয় জীবাণুনাশকের সংকট দেখা দিয়েছে। অনেক দোকানে স্যাভলন ও ডেটল. হ্যান্ডস্যানিটাইজার একেবারেই পাওয়া যাচ্ছে না। ব্যবসায়ীরা বলছেন, পর্যাপ্ত সরবরাহ না থাকায় এ অবস্থা সৃষ্টি হয়েছে।

আমতলী নুতন বাজার বাধঘাট ফাতেমা মেডিকেলের মালিক মো. নুরুল ইসলাম কাওসার বলেন, বাজারে জীবাণুনাশক ওষুধের সরবরাহ না থাকায় তাঁরা বিক্রি করতে পারছেন না। ক্রেতারা কিনতে এসে ফিরে যাচ্ছেন।

সববুজবাগ এলাকার হোসেন আহমেদ বলেন, ‘স্যাভলন কিনতে গিয়েছিলাম, যা পানিতে মিশিয়ে ব্যবহার করব। কিন্তু ওষুধের দোকানে গিয়ে শুনি স্যাভলন নেই।

খোন্তাকাটা এলাকার গৃহিণী হাফজা বিনতে স্মৃতি বলেন, ‘আমার বাসায় ছোট ছেলে আছে। ছেলের গোসল করাতে ও বাসা জীবাণুমুক্ত রাখার জন্য জীবাণুনাশক কিনতে পারছি না। শহরের কোনো দোকানে স্যাভলন, ডেটলজাতীয় পণ্য নেই।

উপজেলা কেমিষ্ট এন্ড ড্রাগিষ্ট সমিতির সাধারন সম্পাদক মো. হুময়ুন কবির বলেন, জীবাণুনাশক ওষুধের পাশাপাশি ভিটামিন-সি ট্যাবলেটেরও চাহিদা বেড়েছে। ক্রেতারা ভিটামিন–সি সমৃদ্ধ ট্যাবলেট কিনতে আসছেন। কিন্তু এরও সরবরাহ কমে গেছে। তবে বাজারের জীবাণুনাশক পণ্যের বিকল্প হিসেবে সাবান পানি (সোপিওয়াটার) ব্যবহারের পরামর্শ দিয়েছেন।

আমতলী ৫০ শয্যা হাসপাতালের স্বাস্থ্য প্রশাসক ডা: শংকর প্রসাদ অধিকারী মুঠোফোনে বলেন, দেড় লিটার পানিতে চার চামচ সাবানের গুঁড়া মিশিয়ে তা জীবাণুনাশক হিসেবে ব্যবহার করা যেতে পারে।

উপজেলা কেমিস্ট অ্যান্ড ড্রাগিস্ট সমিতি সূত্রে জানা যায়, আমতলী পৌর শহরে ১০০টিসহ এ উপজেলায় প্রায় ৩ শতাধিক ওষুধ বিক্রির ফার্মেসি রয়েছে। এসব ফার্মেসিতে মালিকসহ প্রায় ৫ শতাধিক লোক কাজ করছেন। সব ধরনের দোকানপাট বন্ধ থাকলেও ফার্মেসিগুলো জরুরি সেবা দিতে সব সময় প্রস্তুত রয়েছে। তবে বাজারে জীবাণুনাশকের সরবরাহ কমে গেছে।

এই সমিতির সভাপতি মো. দেলোয়ার হোসেন বলেন, আমতলীর ওষুধ ব্যবসায়ীরা মূলত ঢাকার মিটফোর্ড থেকে এসব ওষুধ ও হাতমোজাসহ অন্যান্য উপকরণ এনে থাকেন। কিন্তু এসব এখন ওখানেও পাওয়া যাচ্ছে না।

আমতলীতে এসব পণ্যের যে চাহিদা, তার সরবরাহ নেই। সরকার যেহেতু জীবাণুনাশক পণ্য শুল্কমুক্ত করেছে, তাই প্রতিটি কোম্পানির সেভাবে তৈরি করা দরকার। এখন সরবরাহ পর্যাপ্ত পেলেই দোকানগুলো জনগণকে সরবরাহ করতে পারবে। তিনি আরও বলেন, ‘করোনার এই মুহূর্তে ফার্মেসির লোকজন, মানে আমরা ঝুঁকি নিয়ে মানুষের সেবা দিয়ে আসছি। কিন্তু আমাদের সুরক্ষার জন্য কোনো সুরক্ষা সরঞ্জাম নেই। বিষয়টি সরকারের নজরে আনা উচিত বলে মনে করি।’

এ ব্যাপারে বরগুনা জেলা ঔষধ প্রশাসনের তত্ত্বাবধায়ক (ভারপ্রাপ্ত) সচীন কুমার ঢালী মুঠোফোনে বলেন,‘হঠাৎ করে জীবাণুনাশক পণ্যের চাহিদা বেড়ে গেছে। কিন্তু প্রয়োজনীয় সরবরাহ না পাওয়ায় সমস্যা হচ্ছে। বিষয়টি উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করেছি।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here