আমতলীর লক্ষাধীক মানুষ আতংকে

খালেদ শোশাররফ সোহেল আমতলী প্রতিনিধিঃ    আমতলী উপজেলার চাওড়া, হলদিয়া, কুকুয়া, সদর ইউনিয়ন ও পৌরসভার উপরদিয়ে প্রবাহিত ৩০ কিলোমিটার দৈর্ঘ্য ও ২০০ মিটার প্রস্থ  চাওড়া- সুবন্দি বদ্ধ নদী কচুরীপানায় বছরের পর ভরপুর থাকায়  পানি পচে দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পরিবেশ দুষিত হওয়ায়  ও প্রতিদিন হাজার হাজার মশার বংশ বৃদ্ধির  কারখানা বলে  পরিচিত এ  নদীর ৩০ কিলোমিটারে  প্রতিদিন মশার বংশ বৃদ্ধি পায় বলে দু- পাড়ের প্রায় লক্ষাধিক মানুষ  ভাইরাসসহ বিভিন্ন রোগ ব্যাঁধি ছড়িয়ে পড়ার  আতংকে রয়েছে।

বরগুনা পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, ১৯৮২ সালে আমতলীর চাওড়া ও পায়রা নদীর ভয়াবহ ভাঙ্গনের হাত থেকে আমতলী শহরকে রক্ষায় সংযোগস্থল চৌরাস্তায় পানি উন্নয়ন বোর্ড বাঁধ নির্মাণ করে। কালের বিবর্তনে চাওড়া নদী মরা নদীতে পরিনত হয়। ত্রিভুজ আকৃতির ৩০ কিলোমিটার দৈর্ঘ্য ও ২০০ মিটার প্রস্থ এ নদীটি উপজেলার হলদিয়া, কুকুয়া, চাওড়া, আমতলী সদর ইউনিয়ন ও পৌরসভার ২৫টি গ্রামের  উপর দিয়ে প্রবাহিত। নদীর ভৌগলিক অবস্থানের কারনে সুবন্দি অংশে রামনাবাঁধ নদী, ঘুঘুমারী অংশে টিয়াখালী ও আমতলীর অংশে পায়রা নদীর সাথে সংযোগ রয়েছে। প্রকৃতিক জলোচ্ছাস ও লবনাক্ততার হাত থেকে মানুষ ও সম্পদ রক্ষায় ২০০৯ সালে বামনাবাঁধ নদীর একাংশ সুবন্দি নামক স্থানে পানি উন্নয়ন বোর্ড বাঁধ নির্মাণ করে। চাওড়া ও সুবন্দি নদীর পানিপ্রবাহ নিশ্চিত করার জন্য বিশ্ব ব্যাংকের অর্থায়নে ২০১৫ সালে দু’ব্যান্ডের ¯øুইজ  নির্মাণ করেছে।

এদিকে ১৯৬৭ সালে জুলেখা খালে পাঁচ কপাট ও উত্তর টিয়াখালী খালে পাঁচ কপাট এবং ঘুঘুমারিতে এক কপাটের ¯øুইজ  নির্মাণ করে পানি উন্নয়ন বোর্ড। সুবন্দির তিনটি জলকপাট থেকে পানি নিস্কাসনের কারনে নদীর ১০ কিলোমিটার পর্যন্ত পানি’র স্বাভাবিক প্রবাহ রয়েছে। জুলেখা, উত্তর টিয়াখালী ও ঘুঘুমারি খালের জল কপাট বন্ধ করে একটি প্রভাবশালী মহল মাছ চাষ করে আসছে। এছাড়াও জুলেখার ¯øুইজ খালের লক্ষী নামক স্থানে তিনটি বাঁধ, উত্তর টিয়াখালী ¯øুইজের  আউরা বৈরাগী নামক স্থানে বাঁধসহ খালের বিভিন্ন স্থানে বাঁধ দিয়ে মাছ চাষ করে পানি প্রবাহ বন্ধ করে রেখেছে।

হলদিয়া হাটের  মো. নান্নু মিয়া  বলেন,  মশার কারনে    বাসা বাড়ীতে থাকা  যাচ্ছেনা । চন্দ্রা  গ্রামের কৃষক   আব্দুর রব  জানান, খালের কচুরীপানা পচে  পানি নষ্ট হয়ে গেছে এক দিকে পঁচা পানির দুর্গন্দ  ও মশার কারনে মহাবিপদের মধ্যে বসবাস করছি।

আমতলী ৫০ শয্যা  বিশিষ্ট  হাসপাতালের প্রশাসক ডা: শংকর প্রসাদ অধিকারী মুঠোফোনে বলেন,  পচা ও দুর্গন্ধ যুক্ত পানি থেকে  ভাইরাসসহ বিভন্ন রোগ ব্যাধি ছড়িয়ে পড়তে পারে।

আমতলী উপজেলা পরিষদ  চেয়ারম্যান    গোলম সরোয়ার ফোরকান বলেন, চাওড়া সুবন্ধি খালের  কচুরী পানা উত্তোলনের জন্য  প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরে   লিখিত আবেদন করেছি।