অক্ষম শরীর নিয়েও অদম্য ¯িœগ্ধ

3

pic-5বিশেষ প্রতিনিধি : শারীরিক দুর্বলতা নিয়েই জন্ম ¯িœগ্ধর। এখন এতোটাই দুর্বল যে, পা দিয়ে চলেফেরা এবং হাত দিয়ে কাজ করার শক্তি নেই তার। কথাও বলে অস্পষ্ট ভাবে। এতটা শারীরিক প্রতিকূলতার মধ্যেও  অদম্য মনোবল নিয়ে এবছর এসএসসি পরীক্ষা দিচ্ছে ¯িœগ্ধ।

পুরো নাম রাবায়েত হাকিম ¯িœগ্ধ। বাবা আবদুল হাকিম একটি বেসরকারি সংস্থায় চাকরি করেন। মা রুবিনা হাকিম গৃহিনী। দুই ভাইয়ের মধ্যে বড় সে। ছোট ভাই রাকায়েত ইসলাম নাহিন চতুর্র্থ শ্রেনীতে পড়ছে।

বাবা আবদুল হাকিম বলেন, যশোরের রুপাদিয়া বাজার এলাকায় তাঁদের বাড়ি। জন্ম নেওয়ার দুই বছর পর আমরা বুঝতে পারি ¯িœগ্ধ শারীরিক প্রতিবন্ধী। চিকিৎসাও করানো হয়েছে। চিকিৎসকরা নিউরোলজিক্যাল সমস্যার কারনে  ¯িœগ্ধর এই সমস্যাগুলো দেখা দিয়েছে বলে জানায়।

তিনি আরো জানান, ছোটবেলা থেকেই ¯িœগ্ধ বই,খাতা নিয়ে খেলাধুলা করতো। এক পর্যায়ে বাড়ির আশেপাশের শিশুদের স্কুলে যেতে দেখে তাদের সঙ্গে যেতে চাইতো। ছেলের আগ্রহ দেখে প্রথমে  ঘরে বসেই লেখাপড়ার অভ্যাস করে ¯িœগ্ধ।

চাকরির জন্য বিভিন্ন এলাকায় গেলেও ¯িœগ্ধর লেখাপড়া বন্ধ করা হয়নি। ২০১০ সালে বরিশালের বাকেরগঞ্জ মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে পিএসসি পরীক্ষায় প্রথম বিভাগ এবং ২০১৩ সালে রবগুনা জিলা স্কুল থেকে জেএসসিতে বি-গ্রেডে উত্তীর্ণ হয় সে। এর পর বদলী হয়ে পটুয়াখালী চলে আসে তারা। পটুয়াখালী শহরের পিটিআই সড়কে একটি ভাড়া বাসায় থেকে  ¯িœগ্ধকে ভর্তি করানো হয় পটুয়াখালী সরকারি জুবিলী উচ্চ বিদ্যালয়ে। এবছর এই বিদ্যালয় থেকে মানবিক বিভাগে এসএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহন করছে সে। পটুয়াখালী সরকাবি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় তার পরীক্ষা কেন্দ্রে। তার রোল নং-২৩৮৯২১।

পরীক্ষার প্রথম দিনে সোমবার কেন্দ্রে গিয়ে দেখা যায় ¯িœগ্ধ বাংলা প্রথম পত্রের প্রশ্নে উত্তর লিখতে ব্যস্ত।  হাতে কলম রাখতে পারছেনা, তাই আঙ্গুলের ফাঁকে কলম নিয়ে বেঞ্চের উপর শরীরের ভর  রেখে কষ্ট করে প্রশ্নের উত্তর লিখছে সে। এত কষ্টের পরও মুখে কোন কষ্টের ছাপ নেই তার।

এদিকে পরীক্ষা কেন্দ্রের বাইরে ¯িœগ্ধর জন্য অপেক্ষারত মা রুবিনা হাকিম বলেন,  ওর লেখাপড়ার প্রতি প্রবল আগ্রহ। আমাদের কোলে ও পিঠে করেই স্কুলে যাতাযাত করে আসছে সে। স্কুল থেকে  বাসায় ফিরে ছোট ভাইয়ের সঙ্গে ঘরে বসেই খেলাধুলা করে সময় কাটাতো সে।  ছেলে প্রতিবন্ধী তাই অনেকেই বাসায় এসে ওকে পড়াতে আগ্রহ দেখাতো না। এই অবস্থায় অমিতাভ সরকার নামে এক কলেজ ছাত্র ওকে বাসায় এসে লেখাপড়া শেখাতো।

কলেজ ছাত্র অমিতাভ সরকার  জানান, ¯িœগ্ধর কথাবার্ত অস্পষ্ট হওয়ায় প্রথম প্রথম কিছুই বুঝে উঠতে পারতাম না।  তিন বছর ধরে ওকে পড়াচ্ছি। এখন ওর সব কথাবার্তা আমি বুঝিতে পারি।

পটুয়াখালী সরকারি জুবিলী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ছিদ্দিকুর রহমান খান বলেন, ¯িœগ্ধর শারীরিক অবস্থা বিবেচনা করলে ওর লেখাপড়ার প্রতি আগ্রহ দেথে আমরা অভিভুত। বরিশাল শিক্ষা বোর্ড থেকে প্রতিবন্ধী হিসেবে পরীক্ষা দেওয়ার অনুমতি পেয়েছে ¯িœগ্ধ।

পরীক্ষা শেষে ¯িœগ্ধর সঙ্গে কথা বললে হাসিমুখে পরীক্ষা ভালো হওয়ার ইঙ্গিত দেয় এবং লেখাপড়া করে কৃষিবিদ হওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করে ¯িœগ্ধ।#