অনুসন্ধানী প্রতিবেদন পটুয়াখালী জেলায় মাত্র ৩ হাজার করদাতা যুগ যুগ ধরে চলছে কর না দেয়ার রেওয়াজ

2

4বিশেষ প্রতিনিধি : পটুয়াখালী জেলার ৮ টি উপজেলায় সরাসরি কর দেয় মাত্র তিন হাজার মানুষ। আর নিবন্ধিত কর দাতার সংখ্যা প্রায় ৭ হাজার। অথচ জেলার কর দাতার এ সংখ্যার কয়েক গুন বেশী আছে শুধু পটুয়াখালী জেলা শহরে। যদিও পটুয়াখালীর কুয়াকাটায় পর্যটন কেন্দ্র, মহিপুর-আলীপুর মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রসহ বড় বড় ব্যাবসায়ীক অঞ্চল রয়েছে এ জেলায়। আরো অবাক করা বিষয় জেলায় মোট ৭৩ জন ব্যাক্তি রয়েছেন যারা কিনা বছরে ১০ লাখ টাকার উপরে আয় কর দেন। অপর দিকে পটুয়াখালী শহরে কোটি কোটি পতি রয়েছেন প্রায় শতাধীক। অভিযোগ রয়েছে আবার এই ৭৩ জনের যে সম্পদ রয়েছে, রিটেনে তার সামন্য দেয়া আছে। এ অবস্থার কারনে সরকার কোটি কোটি টাকার আয়কর থেকে বঞ্চিত হচ্ছে শুধু পটুয়াখালী জেলা থেকে।

সুত্রমতে, পটুয়াখালী কর অফিসের কার্যক্রমকে পটুয়াখালী সদর, মির্জাগঞ্জ, দুমকি, বাউফল, দশমিনা, গলাচিপা, কলাপাড়া ও রাঙ্গাবালি উপজেলাকে ৪ টি সার্কেলে ভাগে ভাগ করে তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। সার্কেল ৪ টি হচ্ছে, সার্কেল-১৮ (পটুয়াখালী সদর, বাউফল, দুমকি ও মির্জাগঞ্জের সকল চাকুরিজীবি।), ১৯ (গলাচিপা রাঙ্গাবালি ও দশমিনার সকল করদাতা), ২০ (কলাপাড়ার সকল কর দাতা) ও ২১ (পটুয়াখালী সদর, মির্জাগঞ্জ, বাউফলের সকল ঠিকাদার ও ব্যাবসায়ীরা)। গত বছরের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত এসব সার্কেলে কর আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধরণ করা হয়েছিল ১৪ কোটি ৮৬ লাখ টাকা। ঐ সময়ে আদায় হয়েছে ১০ কোটি ৭৮ লাখ ১৯ হাজার ৮’শ ৭২ টাকা।

১৮ সার্কেলর পটুয়াখালী শহরের পুরাতন ফেরিঘাট থেকে লঞ্চঘাট পর্যন্ত রাস্তার দক্ষিণ পাশ গলাচিপার সীমানা পর্যন্ত এবং দুমকির ব্যাবসায়ীরা)। গত বছরের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত এ সার্কেলে কর আদায়ের লক্ষমাত্রা ছিল ৬৬ লাখ টাকা। এ সময়ে আদায় হয়েছে প্রায় সাড়ে ৮২ লাখ টাকা। এই কর দাতাদের মধ্যে ১০ লাখ টাকার উপরে আয় করেন এমন লোকের সংখ্যা ২১ জন। এক লাখ এক টাকা থেকে ১০ লাখ পর্যন্ত আয় করেন এমন লোকের সংখ্যা ১ হাজার ৫’শ। মোট করদাতা ১ হাজার ৫’শ ৪০ জন। এদের কাছ থেকে এ পর্যন্ত আদায় হয়েছে ৫৮ লাখ ৪৪ হাজার ৮’শ ৩৯ টাকা।

১৯ সার্কেলের (গলাচিপা রাঙ্গাবালি ও দশমিনার সকল করদাতা), গত বছর পর্যন্ত লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১ কোটি ৪০ লাখ টাকা। এর মধ্যে আদায় হয়েছে প্রায় ৮৪ লাখ টাকা। এই কর দাতাদের মধ্যে ১০ লাখ টাকার উপরে আয় করেন এমন লোকের সংখ্যা ৮ জন। ১০ লাখ পর্যন্ত আয় করেন এমন লোকের সংখ্যা ৯’শ ৯৭ জন। মোট নিবন্ধিত কর দাতা ৩০৪৫ জন। কর দাতা ১ হাজার ৬’শ ৪৫ জন। যার মধ্যে গত বছরের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত রিটার্ন দাখিল করেছেন ৫৫৭ জন।

২০ সার্কেলের (কলাপাড়ার সকল কর দাতা) গত বছর পর্যন্ত লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১ কোটি ৫৫ লাখ টাকা। ঐ সময়ে আদায় হয়েছে প্রায় সোয়া কোটি টাকা। এই কর দাতাদের মধ্যে ১০ লাখ টাকার উপরে আয় করেন এমন লোকের সংখ্যা ৫ জন। ১০ লাখ পর্যন্ত আয় করেন এমন লোকের সংখ্যা ৩’শ জন। এখানে নিবন্ধিত কর দাতার সংখ্যা ১ হাজার ৫’শ। করদাতা ৫’শ জন।

২১ সার্কেলের (পটুয়াখালী সদর, মির্জাগঞ্জ, বাউফলের সকল ঠিকাদার ও ব্যাবসায়ীরা)। লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১১ কোটি ২৫ লাখ টাকা। আদায় হয়েছে প্রায় ৮ কোটি টাকা। এ সার্কেলে মোট নিবন্ধিত কর দাতা ৩ হাজার ৫’শ ৯২ জন। এর মধ্যে রিটার্ন দাখিল করেছেন ২০২৫ জন। এই কর দাতাদের মধ্যে ১০ লাখ টাকার উপরে আয় করেন এমন লোকের সংখ্যা ৪০ জন। ১০ লাখ পর্যন্ত আয় করেন এমন লোকের সংখ্যা ১ হাজার ৯’শ ৮৫ জন।

পটুয়াখালী কর বিভাগের আওতায় গত গত বছরের ডিসেম্বর পর্যন্ত মোট লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১৪ কোটি ৮৬ লাখ টাকা। যার মধ্যে আদায় হয়েছে ১০ কোটি ৭৮ লাখ ১৯ হাজার ৮’শ ৭২ টাকা। অথচ কুয়াকাটায় বড় বড় হোটেল মোটেল রয়েছে প্রায় শতাধিক। সেখানে কর দাতার সংখ্যা মাত্র ৫ জন।

অনুসন্ধানে দেখা গেছে, পটুয়াখালী জেলা শহরে প্রত্যক্ষভাবে কর দেয়ার মত ব্যাবসায়ীর সংখ্যা রয়েছে ৫ সহা¯্রাধীক। কারন এখানে বড় বড় ঠিকাদার, বড় বড় আড়ৎদার, ব্যাবসায়ী, বিভিন্ন কোম্পানির ডিলাররা ব্যাবসা করেন এখানে। কর দপ্তরের আদায়ের হিসাব দেখলে বোঝার উপায় নেই যে এক ভাগ ব্যাবসায়ীও কর দেন? আর যারাও বা দেন তা তাদের সম্পদের ১০ ভাগের উপরে নয়। ব্যাবসা সংশ্লিষ্টদের হিসাব জেলার ৮ উপজেলায় কম করে হলেও ১০ হাজারেরও বেশী করদাতা রয়েছে।

এ ব্যপারে পটুয়াখালী বনিক সমিতির সহ-সভাপতি মো. গিয়াস উদ্দিন জানান, পটুয়াখালীতে কর দাতাদের সংখ্যা সন্তোষজনক নয়। ট্রেডলাইসেন্স প্রদানকারী সংস্থা, কর অফিস ও প্রশাসনের মধ্যে সমন্বয় করা গেলে এ সংখ্যা কয়েকগুন বাড়ানো সম্বব।

এ ব্যাপারে পটুয়াখালী উপ-কর কমিশনার মো. জাকারিয়া হোসেনের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে তিনি জানান, কর দাতা সনাক্ত করার কাজ (সার্ভে) চলছে। তবে ৪ টি সার্কেলে একজন ইন্সপেক্টর দিয়ে কর দাতা সনাক্ত করা সহজ কোন কাজ নয়। এ জন্য জনবল বাড়ানো দরকার। #