অবশেষে বির্তকিত কর্মকর্তার বদলি !

0

অতুল পাল, বিশেষ প্রতিনিধি: অবশেষে বদলি করা হলো জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের পটুয়াখালীর বির্তকিত সহকারি পরিচালক ম্যাজিষ্ট্রেট পরিচয়দানকারী মো.সেলিমকে। গত ১৮ জুলাই তাকে পটুয়াখালী থেকে মৌলভীবাজারে বদলি করা হয়েছে। গতকাল সোমবার বাউফলে সেলিমের বিরুদ্ধে অভিযোগের তদন্তে এসে এখবর জানালেন জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের উপ পরিচালক মো. মজিদ।

বাউফল উপজেলা নির্বাহী অফিস সূত্রে জানা গেছে, গত ২৭ জুন মো. সেলিম বাউফল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আযম খান ফারুকীর কাছে নিজেকে পটুয়াখালীর ম্যাজিষ্ট্রেট পরিচয় দিয়ে দেশের দক্ষিণাঞ্চলের বৃহত্তম বাজার বাউফলের বাণিজ্যকেন্দ্র কালাইয়া বন্দরে মোবাইল কোর্ট পরিচালনায় সহায়তার জন্য পুলিশ চান। ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কালাইয়া নৌ পুলিশ ফাঁড়ি থেকে তাকে সহায়তা করার জন্য দুজন পুলিশ দেন। পুলিশ নিয়ে মো. সেলিম কালাইয়া বন্দরে এসে গণহারে ব্যবসায়িদের ৩০ হাজার টাকা করে জরিমানা করেন। এক পর্যায়ে ঘটনাটি স্থানীয় সাংবাদিকদের নজরে এলে তারা উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কাছে ম্যাজিষ্ট্রেট সম্পর্কে জানতে চায়। উপজেলা নির্বাহী অফিসার জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে তথ্য নিয়ে মোবাইল কোর্টের জন্য কোন ম্যাজিষ্ট্রেট দেয়া হয়নি বলে জানালে সাধারন জনগণ মো. সেলিমকে অবরুদ্ধ করেন। এরপর ইউএনও পুলিশের সহায়তায় তাকে তার কার্যালয়ে নিয়ে জিজ্ঞসাবাদ করলে সেলিম নিজেকে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের পটুয়াখালীর সহকারি পরিচালক পরিচয় দেন। জেলা প্রশাসন কিংবা উপজেলা প্রশাসনকে না জানিয়ে নিজেকে ম্যাজিষ্ট্রেট পরিচয় দিয়ে গণহারে ব্যবসায়িদের জরিমানা করা ঠিক হচ্ছে কি না জিজ্ঞাসা করা হলে তার ক্ষমতা আছে বলে জানান। এসময় মো. সেলিম ইউএনও’র সাথে অসৌজন্যমূলক আচরণও করেন। একই সময় কালাইয়া বন্দরের দুজন ব্যবসায়ি মো. সেলিমের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগও দায়ের করেন। এ সংক্রান্ত খবর বিভিন্ন পত্রিকায় প্রকাশ করা হলে গত ১৮ জুন তাকে মৌলভীবাজারে বদলি করা হয়। বদলির আগে মো. সেলিম তার উর্ধতন কর্তৃপক্ষের কাছে বাউফলের ইউএনও’র বিরুদ্ধেও অভিযোগ দায়ের করেন বলে জানা গেছে। গতকাল সোমবার এ সংক্রান্ত অভিযোগের তদন্ত করতে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের উপ পরিচালক আ. মজিদ বাউফলে আসেন। এসময় তার সাথে পটুয়াখালীতে সদ্য যোগদানকারী সহকারি পরিচালক মো. আল আমিনও ছিলেন। উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কার্যালয়ে তদন্তকালে উপপরিচালক ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণে উপজেলা প্রশাসন ও সাংবাদিকদের সহায়তা কামণা করেন।