অভি হত্যার ঘটনায় ২১ জনকে আসামি করে মামলা

2

সোলায়মান পিন্টু,কলাপাড়া প্রতিনিধিঃ পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় ছাত্রলীগ কর্মী অভি গাজীকে নৃশংসভাবে কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় কলাপাড়া থানায় একটি মামলা হয়েছে। বুধবার রাতে মামলাটি দায়ের করেন নিহতের বাবা কবির গাজী। মামলায় গাজী আব্বাস উদ্দিন বাচ্চুকে প্রধান আসামি করে আরও ২১ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। অজ্ঞাত হিসাবে আরও ৭/৮ জনকে আসামি করা হয়েছে।

অভি গাজী হত্যার প্রতিবাদে বৃহস্পতিবার সকাল দশটায় কলাপাড়া প্রেসক্লাবের সামনে মানববদ্ধন করেছে কলাপাড়া উপজেলা ও পৌর সেচ্ছাসেবক লীগ। উপজেলা সেচ্ছাসেবকলীগ সভাপতি ফিরোজ শিকদারের সভাপতিত্বে প্রতিবাদ সমাবেশে বক্তব্য রাখেন, আ.লীগ সাবেক সভাপতি আলাউদ্দিন বেপারী, সাধারন সম্পাদক এসএম রাকিবুল অহসান, কলাপাড়া পৌর মেয়র বিপুল হাওলাদার, পৌর আ.লীগের সাধারন সম্পাদক শহিদুল ইসলাম, সাংগঠনিক সম্পাদক মনজ্ঞুরুল আলম লিপন, মনজ্ঞুরুল আলম, যুবলীগ সভাপতি শফিকুল ইসলাম বাবুল, ছাত্রলীগ কেন্দ্রিয় কমিটির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক মাহামুদুল আলম টিটু, যুবলীগের যুগ্ন সাধারন সম্পাদক শহিদ প্রমুখ।

স্থানীয় পুলিশ প্রশাসনের ব্যার্থতার অভিযোগ তুলে উপজেলা আ.লীগের সাধারন সম্পাদক রাকিবুল আহসান বলেন, হত্যার ২/৩দিন পূর্বে বাচ্ছু গাজীর বাসায় গোপন বৈঠক হয়েছিল। সাংগঠনিক সম্পাদক মজ্ঞুরুল আলম লিপন বলেন, মামমলার প্রধান আসামী গাজী আব্বাস উদ্দিন বাচ্চু বিএনপির কর্মী। কিন্তু আ.লীগের পরিচয়ে তিনি সকল সুবিধা ভোগ করছেন। দলে বিভেদ সৃস্টি করছেন। এসব কাউয়া হাইব্রীড নেতারা দলের সদস্য নয়। তিনি এঘটনার জন্য স্থানীয় পুলিশ প্রশাসনকে দায়ী করে বলেন, হত্যাকারীদের আশ্রয়দাতা বাচ্চু গাজীর বাসায় হত্যার পরিকল্পনা করা হয়। কলাপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে বারবার সে বাসায় তল্লাসীর অনুরোধ করা হলেও তিনি কর্নপাত করেননি। যদি ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা উদ্যোগী হতেন তবে এ নির্মম হত্যাকান্ডের ঘটনা ঘটতনা। পৌর আ. লীগের সাধারন সম্পাদক শহিদুল ইসলাম বলেন, বাচ্চু গাজী আ.লীদের কেউ নয়। তবে তিনি কোন একসময় দলে যোগ দিয়েছিলেন। অনান্য বক্তারা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, তিনদিন হলেও এখনও কোন হত্যাকারী গ্রেফতার হয়নি। অবিলম্বে হত্যাকারীদের গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনা না হলে তারা কঠোর কর্মসূচী গ্রহন করা হবে বলে বক্তরা জানান।

এদিকে অভি হত্যার প্রতিবাদে কুয়াকাটা পৌর আ.লীগের উদ্যোগে কুয়াকাটয়ও মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। কুয়াকাটা পৌর মেয়র ও আ.লীগের সভাপতি আ.বারেক মোল্লার সভাপতিত্বে এসময় বক্তব্য রাখেন ছাত্রলীগ, যুবলীগ, শ্রমিকলীগের নেতৃবৃন্দ।

উল্লেখ্য, সোমবার আনুমানিক রাত আটটায় কলাপাড়া পৌরশহরের কালভার্ট নামক এলাকায় নৃশংসভাবে কুপিয়ে গুরুতর জখম করা হয় ছাত্রলীগ কর্মী অভি গাজীকে। এসময় আরও তিনজন জখম হয়। আশঙ্কাজনক অবস্থায় অভি গাজীসহ তিনজনকে বরিশাল শেবাচিমে প্রেরণ করা হয়। ওই দিন দিবাগত রাত তিনটায় বরিশাল শেবাচিম হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় অভি মারা যায়। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় এ ঘটনার প্রতিবাদে কলাপাড়া উপজেলা ও পৌর ছাত্রলীগ শহরে বিক্ষোভ মিছিল করে।