অভ্যন্তরীন কোন্দল দাবী আওয়ামী লীগের কলাপাড়ায় সাবেকমন্ত্রী আলতাফ হোসেন চৌধুরীর গাড়ীবহরে হামলা-আহত ১৫

0

 

বিশেষ প্রতিনিধি : পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আলতাফ হোসেন চৌধুরীর গাড়ীবহরে হামলার ঘটনা  ঘটেছে। এ সময় ৫টি গাড়ী ভাংচুর করা হয়। হামলায় আলতাফ হোসেন চৌধুরীর সহধর্মিনী সুরাইয়া বেগমসহ বিএনপির ১৫ নেতাকর্মী আহত হয়েছে বলে দলের পক্ষ থেকে দাবী করা হয়েছে। এ সময় আলতাফ হোসেন চৌধুরীরর বহরে থাকা সাংবাদিকদের উপরও হামলার ঘটনা ঘটে। তবে কোন সাংবাদিক আহত হওয়ার খবর পাওয়া যায়নি। এ ঘটনাকে বিএনপির অভ্যন্তরীন কোন্দল বলে দাবী করেছে আওয়ামী লীগ।

বিএনপি’র পক্ষ থেকে এ বিষয়ে কলাপাড়া রিটার্নিং অফিসারের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়ে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহন পূর্বক নির্বাচনের পরিবেশ শান্তিপূর্ন রাখার আহবান জানানো হয়েছে। এ হামলা-ভাঙচুরের ঘটনায় ১০ লক্ষ টাকার ক্ষতি সাধিত করা সহ আলতাফ চৌধুরীর সহ-ধর্মীনি, বিএনপি নেতৃবৃন্দ ও সাংবাদিক সহ ২০ জনকে আহত করার কথা বলা হয়েছে। অভিযোগের অনুলিপি প্রধান নির্বাচন কমিশনার সহ নির্বাচন সংশ্লিষ্ট সকল কর্মকর্তাকে দেয়া হয়েছে বলে বিএনপি সূত্র নিশ্চিত করেছে।

প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বিএনপি’র কেন্দ্রীয় কমিটির ভাইস চেয়ারম্যান ও সাবেক স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী আলতাফ হোসেন চৌধুরী সাংবাদিক ও দলীয় নেতা কর্মী সহ ৬ টি মাইক্রোবাস নিয়ে পটুয়াখালী থেকে কলাপাড়ার উদ্দেশ্যে আসছিল। সকাল আনুমানিক ১০:১৫ টার দিকে তাঁর গাড়ী বহর কলাপাড়ার রহমতপুর চৌরাস্তায় এসে পৌঁছলে একদল সন্ত্রাসী এলোপাথারি ভাবে বহরের সব ক’টি গাড়ী ভাংচুর করে। এসময় আলতাফ চৌধুরীর সহ-ধর্মীনি সুরাইয়া আখতার চৌধুরী, জেলা বিএনপি’ র সহ-সাধারন সম্পাদক অ্যাডভোকেট ওয়াহিদ সারোয়ার কালাম, সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট মজিবুর রহমান টোটন, জেলা বিএনপি নেতা লতিফ সিদ্দিকী, জেলা যুবদলের যুগ্ম আহবায়ক সৈয়দ মোস্তাফিজুর রহমান রুমি, ইন্ডিপেন্ডেন্ট টেলিভিশনের পটুয়াখালী প্রতিনিধি মোখলেচুর রহমান, সময় টেলিভিশনের ক্যামেরা পার্সন সুজন দাম, যমুনা টেলিভিশনের জাকারিয়া হৃদয়, বৈশাখী টিভির আঃ ছালাম আরিফ, বরিশাল থেকে প্রকাশিত দৈনিক ভোরের আলো পত্রিকার সরোজ দত্ত, দৈনিক আজকাল পত্রিকার কলাপাড়া প্রতিনিধি রাসেল মোল্লা সহ অন্তত: ২০ জন আহত হয়েছে। হামলার পর শহরে ব্যাপক পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

ঘটনার পর পর বিএনপি কলাপাড়া উপজেলার দলীয় অফিসে সাংবাদিকদের কাছে তাৎক্ষনিক প্রতিক্রিয়ায় বিএনপি’র কেন্দ্রীয় কমিটির ভাইস চেয়ারম্যান ও সাবেক স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী আলতাফ হোসেন চৌধুরী অভিযোগ করে বলেন, আ’লীগের সন্ত্রাসীরা গাড়ীর বহরে হামলা করেছে। পরে দলীয় অফিস থেকে বেরিয়ে আলতাফ হোসেন চৌধুরী স্ব-শরীরে বিষয়টি কলাপাড়া রিটার্নিং অফিসার মো: জাহাঙ্গীর হোসেনকে অবগত করেন।

আহত ইন্ডিপেন্ডেন্ট টেলিভিশনের সাংবাদিক মোখলেচুর রহমান জানান, ’আমরা সাংবাদিক বলার পরও আমাদের লাঞ্চিত করা হয়েছে। হামলার সময় আমাদের দু’সাংবাদিকের ক্যামেরা ও একজনের মোবাইল ফোন জোরপূর্বক নিয়ে নেয়া হয়েছে’।

 

 

কলাপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আজিজুর রহমান জানান, কলাপাড়ায় বিএনপির বিবাদমান  দুটি গ্রুপের মধ্যে আলতাফ হোসেন চৌধুরীর সমর্থক সাবেক সংসদ সদস্য মরহুম মোয়াজ্জেম হোসেন(সোনার মোয়াজ্জেম)’র পুত্র কেন্দ্রীয় স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা মনিরুজ্জামানের আমন্ত্রনে তিনি কলাপাড়ায় আসেন। পুলিশ বিষয়টি  অবগত থাকায় মহাসড়কের বিভিন্ন পয়েন্টে নিরাপত্তা নিশ্চিত করে। কিন্তু আলতাফ হোসেন চৌধুরীর গাড়ি বহর মুল সড়ক রেখে রহমতপুর এলাকা অতিক্রম করার সময় গাড়ি নিয়ন্ত্রন হারিয়ে একটি দোকানে ধাক্কা দেয়। এ সময় উত্তেজিত জনতা গাড়ি ভাংচুর করে বলে দাবী করেন তিনি।

এদিকে ন্যাক্কারজনক এ হামলার পর কলাপাড়া প্রেসক্লাবে জরুরী সংবাদ সম্মেলন করে আ’লীগের মনোনিত মেয়র প্রার্থী বিপুল চন্দ্র হাওলাদার বলেন, বিএনপি’র জেলা কমিটি নিয়ে তাদের অভ্যন্তরীন কোন্দলের কারনে এ হামলার ঘটনা ঘটেছে। হামলার  ঘটনাটি বিএনপি’র অভ্যান্তরীন কোন্দলেরই একটা অংশ। কিন্তু বিএনপি এই হামলার দায় আমাদের উপর চাপানোর অপচেষ্টা চালাচ্ছে। যদি হামলায় আমাদের দলের কোন কর্মী সম্পৃক্ত থাকে তাহলে তাদের দল থেকে বহিস্কার করে আইনের হাতে সোপর্দ করা হবে । তিনি সাংবাদিকদের উপর হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেন, সাংবাদিকদের উপর হামলার ঘটনার সাথে যারা জড়িত তাদের আইনের আওতায় আনার জন্য তিনি প্রশাসনের কাছে অনুরোধ জানিয়েছেন।

এ বিষয়ে কলাপাড়া উপজেলা নির্বাহি অফিসার ও রিটানিং কর্মকর্তা মোঃ জাহাঙ্গীর হোসেন ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে জানান, নির্বাচনের সময় বিশাল লম্বা গাড়ি বহর নিয়ে তার এভাবে কলাপাড়ায় আসা উচিৎ হয়নি। কলাপড়ায় এতদিন অত্যন্ত সুন্দর নির্বাচনী পরিবেশ ছিলো। অপ্রত্যাশিতভাবে আজকের এই হামলার ঘটনা ঘটেছে। কারা হামলা করেছে তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে। ##