অমলের আমরণ অনশন অতপর ?

1

pic-5জয়দেব রায়, বরগুনা : বরগুনার আমতলী উপজেলার সদর রোডের নিজের দোকানঘর ফিরে পেতে আমরণ অনশন করেছেন হতদরিদ্র নরসুন্দর অমল চন্দ্র শীল ও তার পরিবার সুহৃদ বৃন্দ। অনশনের খবর শুনে ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন স্থানীয় সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ। পরে জবরদখলকারীর সঙ্গে কয়েকদফা আলোচনার পরে দোকানঘর ফিরিয়ে দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে শরবত পান করিয়ে অমল ও তার পরিবারের অনশন ভাঙেন স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।

 

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ২০০০ সালে আমতলী পৌরশহরের সদর রোডে কেন্দ্রীয় মসজিদের সামনে ছোট্ট একটি দোকানঘর ছিল অমলের। দীর্ঘদিন ধরে তিনি সেখানে সেলুন দিয়ে নরসুন্দরের কাজ করেতেন। ছোট্ট ওই দোকানের আয় দিয়ে পরিবারের ভরণপোষণ চালাতে না পেরে ২০০৮ সালে আমতলীর সংবাদপত্র বিক্রেতা শফিকুল হক সোহেলের কাছে তিন বছরের চুক্তিতে দোকানটি ভাড়া দেন অমল। এ সময় আমতলীর একাধিক গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গও সাক্ষী ছিলেন চুক্তি সম্পাদনের সময়।

 

পরে তিন বছরের চুক্তি শেষ হয়ে গেলেও অমলের সে ঘর ফেরত দেননি আলমগীর নিউজ এজেন্সির সত্ত্বাধিকারী শফিকুল হক সোহেল। উপরন্ত ভাড়া না দিয়ে নানা চক্রান্ত করে অমলের দোকানঘরটি নিজের নামে ডিসিআর করে নেওয়ার পাঁয়তারা চালান সোহেল। এ ব্যাপারে দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গের দ্বারস্থ হয়েও কোনো সুরাহা পাননি অমল।

 

অন্য কোনো উপায় না পেয়ে ১৯ জানুয়ারি মঙ্গলবার সকালে আমতলী শহরের সদর রোডে পরিবার পরিজন নিয়ে আমরণ অনশনে বসেন অমল চন্দ্র শীল। এ খবর শুনে সেখানে ছুটে যান আমতলীর উপজেলা চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি জি এম দেলোয়ার এবং পৌর মেয়র মো. মতিয়ার রহমানসহ স্থানীয় সামাজিক ও সাংস্কৃতিক নেতৃবৃন্দ। এ সময় তাঁরা অমলের ঘর ফিরিয়ে দিতে দখলদার সোহেলকে অনুরোধ করেন।

 

পরে মেয়র মতিয়ার রহমানের নিজস্ব শপিং কমপ্লেক্স আব্দুল্লাহ মার্কেটে বিনা ভাড়ায় একবছর দোকান দেওয়ার সুযোগ দিয়ে সোহেলকে অমলের ঘর ছেড়ে দিতে অনুরোধ জানান মেয়র মতিয়ার রহমান। এ সময় সর্বস্তরের নেতৃবৃন্দের চাপে পিছু হটেন সোহেল।

 

এ ব্যাপারে আমতলী পৌরসভার মেয়র মতিয়ার রহমান জানান, সবার সহযোগিতায় হতদরিদ্র অমলের দোকানঘর ফিরিয়ে দিতে পেরে আমি আনন্দিত।

ভুক্তভোগী অমল চন্দ্র শীল কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, “সকলের সহযোগিতায় আমার দোকানঘর ফিরে পেয়েছি। এজন্য আমি সকলের কাছে চির ঋণী।”