অর্থবিতরনে মুসলিম এইড কর্মীর দূর্নীতি ফাঁস ॥ ক্ষতিগ্রস্থদের তালিকা প্রস্তুতে ইউপি সদস্যের স্বেচ্ছচারিতা

3

 

মনিরুর ইসলাম মহিপুর প্রতিনিধিঃ মহিপুরে ঘূর্নিঝড় আন্ধারমানি নদী ভাঙ্গনিতে ক্ষতিগ্রস্থদের মাঝে অর্থ বিতরনে নানা অভিযোগ এনে সংবাদ সম্মেলন করেছে সহায়তা বঞ্চিত ১২টি পরিবারের সদস্যরা। মহিপুর থানার নিজামপুর গ্রামবাসির পক্ষে শুক্রবার সকাল ১০টায় অনিয়ম দূর্নীতির বিষয়ে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন ইলিয়াস জোমাদ্দার।

 

লিখিত বক্তব্যে উল্লেখ করা হয়েছে, আন্ধারমানিক নদীর ভাঙ্গনে বেরিবাঁধ বিধ্বস্ত হয়েযায়। এর পর ক্ষতিগ্রস্থ ওই পরিবার গুলো আবারো মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্থ হয় ঘূর্ণিঝড় রোয়ানুর আঘাতে। ক্ষতিগ্রস্থ পরিবার গুলোর মধ্যে বুধবার বেলা দেড়টার দিকে বিশ্ব খাদ্য সংস্থার অর্থায়নে মুসলিম এইড বাংলাদেশের সহযোগিতায় মহিপুর ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয় চত্বরে এ অর্থ প্রদান করা হয়। কিন্তু ক্ষতিগ্রস্থ পরিবার গুলোর মধ্যে মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্থ প্রতিবন্ধি বিধবা শামসুন্নাহার, কাশেম ফকির, জাহিদ হাওলাদার তিন প্রতিবন্ধিসহ ১২ পরিবারকে নগদ আর্থিক সহায়তা করা হয় নি। ভাংগুলির মুখে থাকা প্রকৃত এই ১২ পরিবারকে আর্থিক সহায়তা না দেওয়ায় প্রশ্ন উঠেছে জনমনে।

 

জানা গেছে, ঘূর্ণিঝড় রোয়ানু ও আন্ধারমানিক নদের ভাঙ্গনে বিধ্বস্ত ও ক্ষতিগ্রস্ত ২৩০ পরিবারের মাঝে আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হয়েছে। প্রতি পরিবারকে চার হাজার টাকা করে প্রদান করা হয়। পরবর্তী মাসে আরো চার হাজার টাকা করে প্রদান করা হবে। কিন্তু ওই গ্রামের ২৩০ পরিবারকে আর্থিক সহায়তা দিলেও নদী ভাংগুনি কবলিত ১২ পরিবারের নাম তালিকায় অন্তর্ভূক্ত করা হয়নি। কারন হিসেবে গ্রামবাসী অভিযোগ উল্লেখ করেন, মহিপুর ইউনিয়নের সংরক্ষতি মহিলা মেম্বর রানী বেগমকে যারা ভোট দেয় নি, তারাই এই আর্থিক সহায়তা থেকে বঞ্চিত হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্থদের সুবিধা বঞ্চিত করার সড়যন্ত্রে সাথে মুসলিম এইডের মাঠ কর্মকর্তাদের যোগসাযোস রয়েছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়। নিজাম পুরের বাসিন্দা না হলেও পার্শবর্তী বিপিন পুর গ্রামের সাহিনুর বেগম স্বামী- গিয়াস উদ্দিন, রাহিমা বেগম স্বামী- নাসির উদ্দিন, ও সেতারা বেগম স্বামী- মোসলেম ঘরামীকে আর্থিক সহায়তার আওতায় আনা হয়েছে।

এ ছাড়াও আরো একটি লিখিত অভিযোগে ইউসুপ পুর গ্রামের আঃ জলিল বলেন, মুসলিম এইডের কর্মকর্তারা ক্ষতিগ্রস্থদের নামের তালিকা করলে তার স্ত্রীর নাম রাশেদা  বেগমের নাম তালিকায় নিলেও পরবর্তীতে ওই নাম মহিলা মেম্বর রানী বেগম কর্তন করে মারুফা, স্বামী-খলিল নামে দেয়া হয়েছে। ক্ষতি গ্রস্থদের এমন ক্ষতি করা হয়েছে। এমনটাই দাবী করেছেন ওই ক্ষতিগ্রস্থরা। এব্যাপারে ওই মুসলিম এইডের  প্রজেক্ট কো-ওডিনেটর হামিদুল ইসলামের কাছে জানতে চাইলে কিছু না বলে রিপোর্ট না করার জন্য অনুরোধ করেন। এব্যাপারে ওই ব্লক মেম্বার রানী বেগম  কে  ফোন দিলে কথা না বলে ফোন কেটে দেয় তিনি।