অস্ত্র ও আন্ত:জেলা ডাকাত সর্দারসহ পটুয়াখালীতে আটক চার

3

 

ডেস্ক রিপোর্ট : পটুয়াখালী শহরের বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে একটি দেশীয় এলজি বন্দুক, একটি বিদেশী পিস্তল, চার রাউন্ড গুলি ও আন্ত:জেলা ডাকাত সর্দার আলম মীরাসহ চার জনকে আটক করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার রাত ব্যাপী পুলিশি অভিযানে আউলিয়াপুর, কলাতলা, মুসলিমপাড়া ও আদালতপাড়া এলাকা থেকে তাদের আটক করা হয়।pic-1

পুলিশ জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে গতকাল রাত দুইটার দিকে আউলিয়াপুরের কেরাত পুল বাজার থেকে ডাকাতির প্রস্তুতি গ্রহন কালে ডাকাত সর্দার  আলম মীরা (৪৮) কে একটি দেশীয় এলজি বন্দুক ও তিন রাউন্ড কর্তুজসহ গ্রেফতার করে পুলিশ এসময় পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে  তার অন্যান্য সহযোগীরা পালিয়ে যায়। এরপর আলম মীরার দেয়া তথ্য অনুযায়ী তার আউলিয়াপুরস্থ বাড়ী থেকে একটি ম্যাগাজিনসহ একরাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়। এছাড়াও আলম মীরার স্বীকারোক্তিতে তার কাছ থেকে অস্ত্র ক্রয়ের অভিযোগে শফিকুল(৩৫)কে ভোররাতে কলাতলা থেকে আটক করে পুলিশ। এসময় শফিকুল স্বীকার করেন তিনি আলমের কাছ থেকে একটি বিদেশি পিস্তল ক্রয় করেছেন পিস্তলটি তার বন্ধু  সুপ্রিম কোর্টর আইনজীবী মাজহারুল ইসলাম রিংকু (৩৫) এর কাছে রয়েছে। এ তথ্যানুযায়ী পুলিশ রিঙ্কুকে আটক করলে রিঙ্কু জানায়, অস্ত্রটি ফরিদের কাছে রয়েছে। রিঙ্কুর  দেয়া তথ্য অনুসারে হেটেল বনানী সংলগ্ন দোকান থেকে ফরিদ(৩৫)কে আটক করে পুলিশ ফরিদের স্বীকারোক্তিতে তার  আদালত পাড়াস্থ বাসা খেকে পিস্তলটি উদ্ধার করা হয়। পুলিশ আরও জানায় এদের বিরুদ্ধে একটি অস্ত্র মামলা ও ধৃত চারজনসহ অন্যান্যদের বিরুদ্ধে একটি ডাকাতি মামলা দায়ের করা হয়েছে।

এদিকে ডাকাত আটকের ঘটনায় আউলিয়াপুরে বইছে খুশির আমেজ। জনমনে স্বস্তি বিরাজ করছে। পুলিশের এ তৎপরতায় তাদের মনের আতঙ্ক কমেছে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে পশ্চিম আউলিয়াপুরের স্থানীয় একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে, আউলিয়াপুরের সিরিজ ডাকাতি, শাহজাহান হত্যা, বহালগাছিয়ার তিন বাড়িতে ডাকাতি করা সহ এলাকায় ঘটিত বিভিন্ন ডাকাতির হোতা এই আলম মীরা। তাকে গ্রেফতার করায় এলাকাবাসী নিজেদের মধ্যে মিষ্টি বিতরনসহ শুকরিয়া আদায় করেন। সূত্র আরও জানায় আলম মীরাকে আইনের হাত থেকে বাঁচাতে আউলিয়াপুরের এক সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান পুলিশের বিভিন্ন ঊদ্ধর্¦তন কর্তাব্যাক্তিদের কাছে তদবির করেছেন। আর এ কারনেই এতদিন আলম মীরা ছিল পুলিশের ধরা ছোঁয়ার বাইরে। আলম মীরা গ্রেফতার হয়েছে, এখন একে একে আরও অপরাধিরা ধরা পড়বে বলে মনে করেন তারা।

এ বিষয়ে পুলিশ সুপার সৈয়দ মোশফিকুর রহমান জানান, জেলার সকল অপরাধ দমনে পুলিশ সদা সর্বদা তৎপর রয়েছে। প্রতিদিনই আমাদের স্পেশাল টিম অভিযান পরিচালনা করে। তারই ধারাবাহিকতায় আমরা ডাকাত সর্দারকে গ্রেফতার করতে পেরেছি। এছাড়া বে-আইনি অস্ত্র উদ্ধারের জন্য উপরের নির্দেশ রয়েছে সেই মাফিক আমরা কাজ করে যাচ্ছি। জনগনের সার্বিক নিরাপত্তায় পুলিশ সজাগ রয়েছে।