আগামীকাল এসএসসি পরীক্ষা শুরু বাউফলের কালাইয়া কেন্দ্রের পরীক্ষার্থী ও অভিভাবকরা নানামূখী আশংকায়

5

4ডেস্ক রিপোর্ট : আগামীকাল ১ ফেব্রুয়ারী এসএসসি পরীক্ষা শুরু। বাউফলের কালাইয়া কেন্দ্রের পরীক্ষার দয়িত্বে থাকা চি‎িহ্নত কিছু অসাধু শিক্ষকদের আচারণে পরীক্ষার্থীরা সঠিকভাবে পরীক্ষা দিতে পারবে কি পারবে না সেটা নিয়ে অভিভাবকরা নানামূখী আশংকায় রয়েছেন।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, চলতি বছর কালাইয়া কেন্দ্রের আওয়তায় কালাইয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়, কালাইয়া হায়াতুন্নেচ্ছা বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়, পূর্ব কালাইয়া হাছান সিদ্দিক মাধ্যমিক বিদ্যালয়, কর্পূরকাঠী ইসলামিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়, দাশপাড়া ইউনিয়ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়, শৌলা-কর্পূরকাঠী দুর্গাচরণ মাধ্যমিক বিদ্যালয়, দাশপাড়া খাজুরবাড়িয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়, চর আলগী মাধ্যমিক বিদ্যালয় এবং আ স ম ফিরোজ মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে মোট ৫৪৩ জন পরীক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নেবে। এ কেন্দ্র চালু হওয়ার পর থেকেই পরীক্ষার সময় কিছু শিক্ষক ও বহিরাগত কিছু নেতাদের অনাকাংখিত আচারণে পরীক্ষার্থীরা সঠিকভাবে পরীক্ষা দিতে না পারার অভিযোগ রয়েছে। অনেক অভিভাবকরা জানিয়েছেন, পরীক্ষায় নিজেদের ছেলেমেয়েদের ফলাফল ভাল করার জন্য নানামূখী সুযোগ-সুবিধা দেয়া এবং না দেয়া নিয়ে কালাইয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও কালাইয়া হায়াতুন্নেচ্ছা বালিকা বিদ্যালয়ের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে ¯œায়ুযুদ্ধ চলে আসছে। ওই ¯œায়ুযুদ্ধের খেসারত দিতে হচ্ছে পরীক্ষার্থীদের। কালাইয়া হায়াতুন্নেচ্ছা বালিকা বিদ্যালয়ের পরীক্ষার্থীদের পরীক্ষার আসন হচ্ছে কালাইয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে। অপরদিকে কালাইয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের পরীক্ষার্থীদের পরীক্ষার আসন হচ্ছে কালাইয়া হায়াতুন্নেচ্ছা বালিকা বিদ্যালয়ে। এই দুই স্কুলের শিক্ষকরা পরীক্ষার সময় তাদের ছেলে মেয়েদের নানামূখী সুযোগ-সুবিধা প্রদানের জন্য যে সকল শিক্ষক পরীক্ষার দায়িত্বে থাকেননা তাদেরকে ঠিক করে বাহিরে রাখেন যাতে তারা সময়মত পরীক্ষা কেন্দ্রে গিয়ে তাদের পরীক্ষার্থীদের সাহায্য করতে পারেন। ওই শিক্ষকরা কোন প্রকার অনুমতির তোয়াক্কা না করেই তাদের ইচ্ছে মত কেন্দ্রে যাওয়া আসা করেন। পরীক্ষার সময় এরকম অবস্থা হওয়ায় কালাইয়া কেন্দ্রে পরীক্ষা দিতে আসা অন্যান্য স্কুলের পরীক্ষার্থীরা হতাশ হয়ে স্বাভাবিক পরীক্ষাও দিতে পারেনা বলে অভিযোগ রয়েছে। একই ঘটনা জেএসসি পরীক্ষার সময়ও ঘটেছিল। এছাড়া কালাইয়া হায়াতুন্নেচ্ছা বালিকা বিদ্যালয়ে যোগ্যতা না থাকা সত্বেও সহকারী প্রধান শিক্ষক হওয়া সুবোধ চন্দ্র দাস ও সহকারী শিক্ষক রমেন চন্দ্র দাসের কাছে প্রাইভেট পড়লে পরীক্ষার্থীদের ভিন্ন সুযোগ সুবিধা সৃষ্টি করে দেয়ার অভিযোগ অভিভাবকদের মুখে মুখে রয়েছে। অভিভাবকরা জানিয়েছেন, সুবোধ চন্দ্র দাস ও রমেন চন্দ্র দাস অযথা পরীক্ষার কক্ষে ঢুকে যে সকল পরীক্ষার্থীরা তাদের কাছে প্রাইভেট পড়েনি তাদের সাথে উদ্দেশ্যমূলকভাবে বিভিন্ন ধরণের অসদাচারণ করে তাদের লেখায় বিঘœ ঘটান। একইভাবে কালাইয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষকও একই ধরণের আচারণ করেন বলে অভিভাবকরা জানিয়েছেন। বিগত বছরে এধরণের অভিযোগ এনে অভিভাবক ও পরীক্ষার্থীরা স্থানীয় এমপি ও জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ আ স ম ফিরোজের কাছে নালিশও করেছিলেন। অপরদিকে পরীক্ষা কেন্দ্র নিয়ন্ত্রণে অনভিজ্ঞ কালাইয়া হায়াতুন্নেচ্ছা বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. হারুনুর রশিদকে এবছরও সহকারী সচিবের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। গত বছর একই দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে বাউফল থানায় সংরক্ষিত সাধারন বিজ্ঞান বিষয়ের প্রশ্ন যথা সময়ে না এনে ওই সহকারী সচিব অন্য কেন্দ্র থেকে প্রশ্ন সংগ্রহ করে তার ফটোকপি করিয়ে পরীক্ষার্থীদের পরীক্ষা নিয়েছিলেন। ওই ঘটনায় কর্তৃপক্ষ হারুনুর রশিদকে তার দায়িত্ব পালন থেকে অব্যহতি দিয়েছিলেন।জানা গেছে, ওই কাজেও তারই সহকারী প্রধান শিক্ষক সুবোধ চন্দ্র দাস সহায়তা করেছিলেন। নাম প্রকাশ না করার শর্তে কালাইয়া কেন্দ্রে পরীক্ষা দিতে আসা অন্য কয়েকটি স্কুলের প্রধান শিক্ষক ও সহকারী শিক্ষকরা জানিয়েছেন, তারা কেন্দ্র সচিব ও সহকারী সচিবের কাছে জিম্মি হয়ে পরেছেন। তবে বিগত দিনের মতো এবছরও যদি এমন কোন ঘটনা ঘটে তবে উর্ধতন কর্তৃপক্ষকে লিখিতভাবে জানানো হবে। প্রয়োজনে পরবর্তী বছর থেকে কালাইয়া কেন্দ্রে যাতে পরীক্ষা দিতে না হয় তারা সে ব্যবস্থাও নেবেন। অভিভাবকরা সহকারী সচিব মো. হারুনুর রশিদ, সুবোধ চন্দ্র দাস ও রমেন চন্দ্র দাসকে পরীক্ষার সময় সকল প্রকার দায়িত্ব থেকে দুরে রাখার জন্য সাংবাদিকদের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে দাবি জানিয়েছেন। এবিষয়ে বাউফল উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোহম্মদ আবদুল্লা আল মাহামুদ জামান বলেন, বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। অভিযোগের সত্যতা পেলে অবশ্যই পরীক্ষার সকল কার্যক্রম থেকে ওই শিক্ষকদের বাহিরে রাখা হবে।