আজ পটুয়াখালী গণহত্যা দিবসএই দিনে প্রথম হামলা করে  পাক হানাদার বাহিনী

3

 

মোঃ জাহাঙ্গীর হোসেন ঃ আজ সেই ভয়াল ২৬ এপ্রিল। ১৯৭১ সালের এই দিনে পটুয়াখালী শহরে প্রথম পাক হানাদার বাহিনী হামলা চালিয়ে শহরের বিভিন্ন স্থানে কয়েক’শ মানুষকে হত্যা করে। স্বাধীনতা যুদ্ধের সেই দিন গুলোতে পটুয়াখালী শহরে ঠিক কতো মানুষকে হত্যা করা হয়েছে তার সঠিক কোন পরিসংখ্যান না থাকলেও পটুয়াখালী পুরাতন জেলা কারাগার এখনও তার স্বাক্ষ্য বহন করে আছে।

১৯৭১ সালে এই কারগারের মধ্যে নির্বিচারে কয়েকশ মানুষকে হত্যা করে গণকবর দেয়া হয়। মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন সময়ে এই কারগার ছিলো পাক হানাদার বাহিনীর ও এ অঞ্চলে পাক বাহিনীর প্রধান নাদের পারভেজ ও তার সঙ্গী দোশর রাজাকার আল বদর বাহিনীর টর্চার সেল। কারাগারের মধ্যে এখনও খোরাখুঁিড় করলে সন্ধান পাওয়া যাচ্ছে মানুষের কঙ্কাল। শুধু পটুয়াখালী জেলা পুরাতন কারাগারই নয়। ১৯৭১ সালের ২৬ এপ্রিল সকাল সারে ৯ টা, সবাই যখন ব্যস্ত নিজেদের কাজে। সেই সময়ে শহরের দুই প্রান্তে দুটি হেলিকপ্টার নেমে আসে। কিছু বুঝে ওঠার আগেই বড়ো বড়ো সব বন্দুক নিয়ে শহরে প্রবেশ করেন পাক হানাদার বাহিনী। শহরের মাদবর বাড়ী এলাকায় অভিযান চালিয়ে সেখানেই নিরিহ ১৯ জন নারী,পুরষ ও শিশুকে নির্বিচারে হত্যা করেন হানাদাররা। এর পরে দুপুর ২ টার দিকে শহরের প্রবেশ করে পাকবাহিনী। আর সে সময়ে ডিসির বাংলোর কাছে স্থাপিত বাংকার থেকে  মুক্তিযোদ্ধারা গুলি করে প্রতিরোধ গড়ার চেস্টা করলে পাকবাহিনীর গুলিতে বাংকারে থাকা ৬ আনসার সদস্য নিহত হন। এর পরে ওই দিন থেকেই শহর জুড়ে পাক বাহিনী চালায় গণহত্যা। তৎকালীন ব্যবসার কেন্দ্র বিন্দু পুরান বাজার এলাকায় আগুন দিয়ে জ্বালিয়ে দেয়া হয় । ভস্বিভূত হয় শহরের প্রধান বানিজ্যিক কেন্দ্র বর্তমান পুরান বাজারের শত শত বাড়ি ঘর ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান। এছাড়া বর্তমান ২নং বাধঁ ঘাট সংলগ্ন চাঁনমারী এলাকা সহ শহরের বিভিন্ন স্থানে নির্বিচারে শত শত নিরীহ মানুষকে হত্যা করা হয়ে ছিলো। তবে পুরাতন জেলা কারগারটি এখন আনসার ব্যাটালিয়নের ক্যাম্প হওয়ায় সাধারণ মানুষ ও নিহতদের আত্বিয় স্বজনরা সব সময় এখানে শ্রদ্ধা নিবেদন করতে পারেন না। আর সংরক্ষিত এলাকার মধ্যে হওয়ায় এবং কোন স্মৃতি ফলক না থাকায় নতুন প্রজন্মের কাছে এর ইতিহাস থাকছে অজানা। এর কারনে এখানে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস সম্বলিত একটি স্মৃতিফলক নির্মানের দাবী স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধা ও স্বাধীনতার স্ব-পক্ষের মানুষদের।

এ বিষয়ে বীর মুক্তিযোদ্ধা ও জেলা আওয়ামীলীগের যুগ্ন সাধারণ সম্পাদক কাজী আলমগীর হোসেন বলেন,‘মুক্তিযুদ্ধের এসব স্মৃতি বিজরিত স্থানগুলো সংরক্ষনের উদ্যোগ নিলে মুক্তিযুদ্ধের এলাকা ভিত্তিক ইতিহাস আরো সমৃদ্ধ হবে।

আর তাইতো নতুন প্রজন্মকে মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস জানাতে ও তাদের মধ্যে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ছড়িয়ে দিতে এসব বধ্যভূমি ও মুক্তিযুদ্ধে স্মৃতি বিজরতি স্থান গুলো সংরক্ষন করার দাবী পটুয়াখালী বাসীর।