আজ শহীদ সেলিম-দেলোয়ার দিবস আজও গৃহহীন ইব্রাহীম সেলিমের পরিবার

3

 

pic-1ডেস্ক রিপোর্ট : ‘স্বৈচারাচারমুক্ত দেশ ও গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য আমার বাবা প্রান দিয়েছেন। বাবার লক্ষ্য পূরণ হয়েছে, কিন্তু বাবার রেখে যাওয়া বসত ভিটিতে আমি আর আমার মা আজও স্থান পাইনি। বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারি ও সাংস্কৃতিককর্মী ডরোথি ইব্রাহিমের এ আক্ষেপ আরো জোরালো হয়ে উঠেছে আজকের এ দিনটিকে ঘিরে।

১৯৮৪ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি স্বৈরাচার এরশাদের বিরুদ্ধে ঢাকার রাজপথে ছাত্র-জনতার মিছিলে ট্রাক উঠিয়ে দেয় পুলিশ। ওই ঘটনায় প্রাণ হারান তৎকালীন ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় নেতা ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মেধাবি দুই ছাত্র ইব্রাহিম সেলিম ও দেলোয়ার হোসেন। এখনো তৎকালীন ছাত্রনেতাদের কাছে সেলিম-দেলোয়ার দিবস হিসেবে পরিচিত। বাংলাদেশ ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটি ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার উদ্যোগে আজ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে শহীদ সেলিম ও দেলোয়ার স্মৃতিস্তম্ভে পুষ্পার্ঘ অর্পনের মধ্যে দিয়ে দিবসটি পালন করা হবে বলে জানিয়েছেন ছাত্রলীগের একটি সূত্র। এ ছাড়া পরিবারের পক্ষ থেকেও সেলিমের গ্রামের বাড়ি পটুয়াখালীর বাউফলে, বরিশালে তাঁর স্ত্রীর উদ্যোগে এবং দেলোয়ারের পরিবারের উদ্যোগে পিরোজপুরের ভান্ডারিয়ায় দোয়া-মিলাদের আয়োজন করা হয়েছে। তবে তাঁদের পরিবারের আক্ষেপ কেবল দিবস পালন ছাড়া তাঁদের কোনো খোঁজ-খবর নেওয়া হয় না এবং অনেক হত্যার বিচার করা হলেও সেলিম ও দেলোয়ায়ের বিচার করা হয়নি।

ইব্রাহিম সেলিমের একমাত্র সন্তান ডরোথি ইব্রাহিম বলেন,‘তখন মাত্র আমার দেড় মাস বয়স ছিল, বাবা আমার মুখে ‘বাবা’ ডাক শুনতে পারেননি, আমিও তাঁকে ডাকতে পারিনি। ভেবেছিলাম আমার বাবার ভাইয়েরা মানে আমার দুই চাচা বাবার আদর ¯েœহ দিয়ে বড় করে তুলবেন। কিন্তু তাঁদের কোনো সহযোগিতা পাইনি আমি এবং আমার মা। এমনকি তাঁরা আমাকে থাকার মতো বসতভিটা পর্যন্ত আজ পর্যন্ত দেয়নি। তাঁদের মধ্যে একজন এক সময় জাতীয় পার্টি করতেন। পরবর্তীতে বিএনপি করতেন। বর্তমানে আমার বাবার নাম ভাঙিয়ে তিনি আওয়ামী লীগের বড় নেতা। আঙুল ফুলে কলা গাছ হয়েছেন। কিন্তু আমার ও আমার মায়ের খোঁজ-খবর নেননি।

ইব্রাহিম সেলিমের স্ত্রী জেসমিন আক্তার বলেন, স্বামীর মৃত্যুর পর তিনি আর শশুরবাড়িতে থাকতে পারেননি, সেখান থেকে কোনো প্রকার সুযোগ সুবিধাও পাননি, বছরের পর বছর বরিশাল নগরীতে বাবার বাড়িতে আশ্রয়ে আছেন। অর্থকষ্টে একমাত্র মেয়ের সময়মতো প্রয়োজনীয় মানসম্মত শিক্ষাটুকুও দিতে পারেননি। এরপরও মেয়েটি এইচএসসি পাস করেছে। ২০১২ সালে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারি পদে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রীর সচিব ও বর্তমান স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রনালয়ের স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব আবদুল মালেক সাহেব চাকুরি দেন। এর বাহিরে কোনো রাজনৈতিক বা সরকারের তরফ থেকেও কোনো সাহায্য সহযোগিতা কেউ করেনি।

তিনি আরও বলেন, জ্ঞান হওয়ার পর থেকেই মেয়েটি সারাক্ষনই কেবল বাবার জন্য হা-হুতাশ করতে করতে বড় হয়েছে। এখনো তাঁর সেভাবেই দিন কাটছে।

দেলোয়ারের বড় ভাই কাজী বজলুর রহমান ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন,‘১৯৮৪ সালের ১৩ মে সমাবেশ শেষে তৎকালীন বিরোধীদলীয় নেত্রী ও বর্তমান সরকারের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাঁদের বাড়িতে এসেছিলেন। তখন তিনি ভান্ডারিয়া শহীদ মিনারের পাদদেশে দেলোয়ারের স্মৃতিস্তম্ভের উদ্বোধন করেন। যা আজও নির্মিত হয়নি।’ তিনি আরও বলেন, অনেক হত্যারই বিচার হয়। কিন্তু এতগুলো বছর কেটে গেল অথচ শহীদ সেলিম ও দেলোয়ারের হত্যার বিচার হলো না।’

বর্তমান আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও তৎকালীন ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন জাহাঙ্গীর কবির নানক। তিনি বলেন,‘স্বৈরাচার বিরোধী ছাত্রলীগের মিছিলে পুলিশ বাহিনী ট্রাক উঠিয়ে দিলে সেলিম ও দেলোয়ার নিহত হন। ওই হত্যার বিচারসহ এসব পরিবারকে এখন মূল্যায়ন করা উচিৎ।’