আমতলীতে ধর্ষক খুন করলো ধর্ষিতার বাবাকে গ্রেফতার দুই

0

 

কে এম সোহেল আমতলী প্রতিনিধিঃ বরগুনার আমতলী উপজেলার পূর্ব চিলা গ্রামের ধর্ষিতার বাবা আসাদুর রহমান(আসাদুল)কে  পিটিয়ে হত্যা করেছে ধর্ষণ মামলার আসামী সুমন হাওলাদার (২৫)। ঘটনা ঘটেছে মঙ্গলবার রাতে।

পুলিশ ও  স্থানীয় সূত্রে জানাগেছে, ২০১৪ সালে ১০ মে উপজেলার পূর্বচিলা গ্রামের আসাদুলের শিশু কন্যাকে (১০) ধর্ষণ করে প্রতিবেশী সুমন হাওলাদার।

এ ঘটনায় ১৮ মে বরগুনা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইবুনালে সুমনকে আসামী করে শিশু কন্যার মা রিনা বেগম মামলা করেন। এ মামলায় আসামী সুমন ৭ মাস জেল হাজতে ছিল। হাজত থেকে বের হয়ে সুমন ও তার লোকজন মামলা তুলে নেয়ার জন্য শিশুর বাবাকে হুমকি দেয়।

কিন্তু শিশুর বাবা আসাদুর রহমান(আসাদুল) মামলা তুলে নিতে রাজি হয়নি। পরে তাদের ভয়ে তিনি বাড়ী ছেড়ে পালিয়ে ঢাকায় যায়। গত তিন দিন পূর্বে ঢাকা থেকে বাড়ীতে আসে। সে বাড়ীতে আসায় তাকে মামলা তুলে নেয়ার জন্য পুনরায় হুমকি দেয়। এতে সে রাজি না হওয়াতে ক্ষিপ্ত হয় সুমন।

এ ছাড়াও আসাদুলের সাথে সুমন হাওলাদারের পিতা মোক্তার হাওলাদারের  জমিজমা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ রয়েছে। ঘটনার দিন মঙ্গলবার বিকেলে আসাদুল আশিখার খাল সলঘœ সুমনের বাড়ীর দক্ষিন পাশে খাল খননের কাজ দেখতে যায়। এ সময় খাল খননের কাজ নিয়ে সুমনের বড় ভাই মনির হাওলাদারের সাথে কথা কাটাকাটি হয়। এক পর্যায় মনির ও মনিরের ভগ্নিপতি মহসিন গাজী আসাদুল কে মারধর শুরু করেন এ অবস্থায় সুমন দৌড়ে এসে আসাদুলের মাথায় রট দিয়ে আঘাত করে। এতে আসাদুল গুরুতর আহত হয়।

আহতকে রাতে দ্রুত আমতলী স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আনা হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. তেংমং তাকে বরিশাল শেবাচিম হাসপাতালে প্রেরন করেন। বরিশাল নেয়ার পথে লেবুখালী ফেরীঘাট নামক স্থানে রাত ১০ টার দিকে তার মৃত্যু হয়।

এ ঘটনায় নিহতের স্ত্রী রিনা বেগম বাদী হয়ে আমতলী থানায় ধর্ষক সুমনকে প্রধান করে ১৪ জনের নামে  হত্যা মামলা করেছে। পুলিশ ঘটনার সাথে জড়িত রব্বানী  ও ইলিয়াস নামের দু’জনকে রাতেই গ্রেফতার  করেছে এবং লাশ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য বরগুনা মর্গে পাঠিয়েছে।

নিহতের স্ত্রী রিনা বেগম জানান প্রতিবেশী সুমন আমার শিশু কন্যাকে গত দু’বছর পূর্বে  ধর্ষণ করে। এ মামলায় সে (সুমন) সাত মাস জেল হাজতে  ছিল। জেল হাজত থেকে বের হয়ে আমার স্বামীকে সুমন মামলা তুলে নেয়ার জন্য হুমকি দেয়। এতে রাজি না হওয়ায় ক্ষিপ্ত হয়ে আমার স্বামীকে হত্যা করেছে। আমতলী থানার ভারপ্রাপ্ত পুলিশ কর্মকর্তা পূলক চন্দ্র রায় জানান ঘটনার সাথে জড়িত দু’জনকে গ্রেফতার  করা হয়েছে গ্রেফতার কৃতদের উপজেলা সিনিয়র জুডিশিয়াল কোর্টের মাধ্যমে বরগুনা জেল হাজতে প্রেরন করা হয়েছে।