আমতলীতে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের বই বিক্রি স্থানীয়দের হাতে আটক

0

 

কে এম সোহেল, আমতলী :  বরগুনার আমতলী  উপজেলার মাইঠা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মতিয়ার রহমান গাজী বিনামূল্যে বিতরন যোগ্য বই শুক্রবার সকালে ফেরিওয়ালদের  নিকট বিক্রি করেছেন এমন অভিযোগ উঠেছে।

সূত্র জানায়, ফেরিওয়ালা বই নিয়ে যাওয়ার সময় স্থানীয় লোকজন  ফেরিওয়ালার ভ্যানটিকে আটক করে। এসময় বস্তার মধ্যে  ২০১৬ সালের ৫ম শ্রেনীর ২০, দ্বিতীয় শ্রেনীর ১৮ , ৪র্থ শ্রেনীর ২৮ টি ও ২০১৫ সালের তিন বস্তা বই দেখতে  পান। স্থানীয়রা বইগুলো আটক করে  বিদ্যালয় ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি মো. নাসির উদ্দিন গাজীকে জানান। নাসির উদ্দিন গাজী বই গুলো বর্তমানে স্কুলে জমা রেখেছেন।

ফেরিওয়ালা সিদ্দিক  জানায়, প্রধান শিক্ষক মো. মতিয়ার রহমান গাজী ৯ টাকা কেজি দরে আমার কাছে বইগুলো বিক্রি করেছেন। আমি মতি স্যার কে এই বই কেনা বাবদ নগদ ১৭০০ টাকা দিয়েছি।

সাংবাদিক আসার খবর শুনে প্রধান শিক্ষক মতিয়ার রহমান ঘটনাস্থলে এসে বই বিক্রির কথা স¦ীকার করেন। ভবিষ্যাতে আর এ ধরনের কাজ করবেন না বলে সাংবাদিকদের  সংবাদ পরিবেশন না করার অনুরোধ জানান।

স্কুলের  ২ য় শ্রেনীর  ছাত্র মো. অলিউল্লাহ  জানান স্যারে আমাগো বই দেওয়ার সময় ২০ টাকা করে নিয়েছে।

এলাকার জনৈক সানু গাজী জানান  স্কুলের ছাত্র ছাত্রীদের জন্য বিনামূল্যে বিতরন কৃত বই বিতরনের জন্য  প্রত্যেক ছাত্র-ছাত্রীর কাছ থেকে ২০ টাকা করে নেয়া হয়েছে । যারা টাকা দেয়নি তাদের  কে এখনও বই দেননি।

এ ব্যাপারে আমতলী উপজেলা শিক্ষা অফিসার (ভারপ্রাপ্ত) মো. জাহিদ হোসেন জানান, ঘটনা তদন্ত সাপেক্ষ ব্যবস্থা নেয়া হবে।

আমতলী উপজেলা নির্বাহি অফিসার (অতিরিক্ত দায়িত্বে) মো. ঈসরাইল হোসেন জানান, সংশ্লিষ্ট ডিপার্টমেন্টে কথা বলে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

বরগুনা জেলা  প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মো. আব্দুল মজিদ জানান, সরকারী বই বিক্রি করা যাবেনা  প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়া হবে।

বরগুনা জেলা প্রশাসক ড. মোহা. বশিরুল আলম  জানান, সংশ্লিষ্ট ডিপার্টমেন্টে কথা বলে ব্যবস্থা নেয়া হবে। সরকারী বই  কোন ক্রমেই বিক্রি করা যাবেনা ।