আমতলীতে প্রেসক্লাব সম্পাদকের বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগে মামলা

5

কে এম সোহেল আমতলী বিশেষ  প্রতিনিধি ঃ  বরগুনার আমতলীতে সোহাগ বিশ্বাস নামের এক কথিত সাংবাদিক মিথ্যা অভিযোগ এনে আমতলী প্রেসক্লাবের সাধারন সম্পাদক  ও  দৈনিক মানব জমিন আমতলী প্রতিনিধি  এমএ সাইদ খোকনের বিরুদ্ধে বরগুনার আদালতে একটি মামলা দায়েরের করেছে। ২৬ এপ্রিল বরগুনার সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে আইন শৃংখলা বিঘœকারী অপরাধ দমন (দ্রুত বিচার) আইনে নালিশি দরখাস্ত দায়ের করা হলে আদালত বিষয়টি আমতলী থানাকে এজাহার হিসেবে গন্য করার আদেশ দিয়েছে।

এ ঘটনায় আমতলীর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান জিএম দেলওয়ার হোসেন, উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক  এ্যাডঃ এমএ কাদের মিয়া, সিনিয়র সহ-সভাপতি আলহাজ্ব মো. নুরুল ইসলাম মৃধা, সাবেক পৌরমেয়র  নাজমুল আহসান  নান্নু, আওয়ামীলীগের যুগ্ম সম্পাদক গাজী সামসুল হক, গুলিশাখালী ইউনিয়ন  পরিষদ চেয়ারম্যান আলহাজ্ব মো.নুরুল ইসলাম মিয়া, কুকুয়া ইউপি চেয়ারম্যান মো. বোরহান উদ্দিন আহমেদ মাসুম তালুকদার, আঠারগাছিয়া ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মো. হারুন অর রশিদ, হলদিয়া ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মো, শহিদুল ইসলা মুধা, চাওড়া ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মো. আখতারুজ্জামান বাদল খান, উপজেলা যুবলীগ সভাপতি  জিএম ওসমানী হাসান, সাধারন সম্পাদক মো. জাহিদ দেওয়ান, পৌর যুবলীগ আহবায়ক এ্যাডঃ মো. আরিফ উল হাসান আরিফ, যুগ্ম আহবায়ক মো. নাজমুল হাসান সোহাগ তীব্র নিন্দা ও মামলা প্রত্যাহারের দাবী জানিয়ে জানান, এ ধরনের মিথ্যা অভিযোগ সাংবাদিকতা ও চলমান সুষ্ঠু রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটের জন্য একটি অশনি সংকেত।

মামলার আরজিতে সোহাগ বিশ্বাসের অভিযোগ, ২৪ এপ্রিল রাত ৮ টায় আমতলী ঈদগাহ মাঠের দক্ষিন পাশের রাস্তায় সাইদ খোকান অজ্ঞাত ২/৩ জনকে সাথে নিয়ে তার কাছ থেকে ১০ হাজার টাকা, এক ভরি ওজনের সোনার চেইন ও একটি পেনড্রাইভ ছিনিয়ে নিয়ে গেছে এবং এক লাখ টাকা চাঁদা দাবী করেছে। এ ঘটনায়  আমতলীর পৌর মেয়রের ভাগ্নে আবুল কালাম আজাদ, ভাগ্নি নাজমা আকতার ও বাসার কাজের লোক বাবুল মিয়া নামের তিনজনকে সোহাগ বিশ্বাস স্বাক্ষী  দেখিয়েছে।

প্রেসক্লাবের সভাপতি জিএম মুছা জানান, ঈদগাহ মাঠের দক্ষিন পাশের রাস্তাটি আমতলীর সবচেয়ে ব্যস্ততম সড়ক। এক পাশে ঈদগাহ আরেক পাশে লেকের ঘাট  এবং পূর্ব দিকে অতি সন্নিকটে একে স্কুল বাজার এবং পশ্চিম পাশে ডাকবাংলো ও পৌর মেয়রের বাসা থাকায় রাত ১২ টা পর্যন্ত সেখানে মানুষ গিজ গিজ করে। সমগ্র এলাকাটি  মেয়রের স্থাপিত সিসি ক্যামেরার আওতায়। কিছুদিন ধরে পৌর মেয়র মতিয়ার রহমানের বিরুদ্ধে বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে দুর্নীতির সংবাদ প্রকাশিত হচ্ছে। মামলার বাদী সোহাগ তার মোসাহেব। মামলার প্রত্যক্ষদর্শী ও স্বাক্ষী মেয়রের আত্মীয়রা। এ মূহুর্তে হয়রাানী মূলক মামলা দেয়ার অর্থ আমতলীর প্রতিটি মানুষের কাছে স্পষ্ট।

প্রেসক্লাবের সাধারন সম্পাদক সাইদ খোকন জানান, সোহাগ বিশ্বাসের সাথে গত ছয় মাসেও কোন প্রকার কথা হয় নি। আকস্মিক এ মামলায় স্থানীয় সাংবাদিকরা হতবাক। মামলা দিয়ে সাংবাদিকদের লেখনি বন্ধ করা যাবে না।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, মামলা দায়েরকারী শিবির কর্মী  সোহাগ বিশ্বাস কিছুদিন আগে ‘অর্পন’ নামের একটি ম্যাগাজিন প্রকাশ করে তাতে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমানকে কটুক্তি করে। অতি সম্প্রতি আমতলীর গন্যমান্য ব্যক্তিদের নামে ফেইসবুকে ভূয়া আইডি খুলে  অপপ্রচার চালালে সে ঘটনায় সে জেলও খাটে।

এ ব্যাপারে আমতলী থানার ওসি পুলক চন্দ্র সাংবাদিকদের আশ্বস্থ করে জানান, মামলা হয়েছে। তদন্ত স্ব-পক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থা  নেয়া হবে। কাউকে অহেতুক হয়রানী করা হবে না।

বরগুনা প্রেসক্লাবের সভাপতি হাসানুর রহমান ঝন্টু ও সাধারন সম্পাদক আবু জাফর সালেহ এ ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।