আমতলীতে বইছে ইউপি নির্বাচনের হাওয়া

0

কে এম সোহেল, আমতলী : বরগুনার আমতলী উপজেলায় ইউপি নির্বাচনের হাওয়া বইছে। নির্বাচন কমিশন আগামী ১০ ফেব্রুয়ারী তফসিল ঘোষনা করবেন বলে জানাগেছে। উপজেলার ৭ ইউনিয়নের সম্ভাব্য চেয়ারম্যান ও মেম্বার প্রার্থীগন ইতিমধ্যেই মাঠে নেমে পড়েছেন। অন্যান্য রাজনৈতিক দলের থেকে চেয়ারম্যান প্রার্থী বড় দুই দল আ’লীগ ও বিএনপিরই বেশি। তীব্র শীতকে উপক্ষো করে প্রার্থীরা নিজ নিজ এলাকার কর্মীবাহীনিদের সাথে যোগাযোগ স্থাপনের জন্য ছুটোছুটি ও সাধারণ ভোটারদের সাথে কুশল বিনিময় করছেন। একই সাথে নেতাদের সঙ্গে তদবীর চালিয়ে আসছেন।

আগামী মার্চের শেষের দিকে প্রথম বারের মত দলিয় প্রতিকে ইউপি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হাওয়ার কথা। তাই পৌরসভার ন্যায় দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশীদের তৎপরতায় গ্রাম-গঞ্জ ভোটের হাওয়ায় গরম হয়ে উঠেছে। উপজেলার ০৭ টি ইউনিয়নে খোঁজ নিয়ে জানাগেছে হাতে গোনা দু-একটি ইউনিয়ন ছাড়া সব গুলোতেই প্রধাণ দুই দল আ’লীগ ও বিএনপি’র একাধিক প্রার্থী নির্বাচনী এলাকা চষে বেড়াচ্ছেন। উভয় দলের সম্ভাব্য বেশ কয়েক জন প্রার্থীর সাথে আলাপ কালে তারা বলেন, দলীয় মনোনয়ন না পেলে প্রয়োজনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে নির্বাচনে লড়বেন। সে জন্যেই দলীয় প্রতীক পেতে এলাকার নেতা-কর্মীর পাশাপাশি জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের হেভিওয়েট নেতাদের পিছনে দিন-রাত ধর্না দিয়ে বেড়াচ্ছেন প্রার্থীরা।

অন্যদিকে ধনাঢ্য প্রভাবশালী প্রার্থীরা শীতকে পুঁজিকরে নির্বাচনী এলাকার গরীব, অসহায় ও দুঃস্থদের হাতে এখন থেকেই কম্বল ও গরম পোশাক তুলে দিচ্ছেন এবং ক্ষমতাসীন দল আ’লীগ’র সম্ভাব্য প্রার্থীরা ক্ষমতার বরাত তুলে ধরে এলাকায় উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন। অপর দিকে উপজেলা বিএনপি সূত্রে জানা যায়, সারাদেশের মত আমতলী উপজেলায় বিভিন্ন ইউনিয়নে দলীয় প্রতীকে নির্বাচন করার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে তারা। তবে উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি মো.জালালউদ্দিন ফকির বলেন তৃনমূল নেতাকর্মীরা সব সময় সরকার দলীয় কর্মীদের চাপের মুখে রয়েছে। এ অবস্থায় তাদের মাঝে নির্বাচনে সক্রিয় হতে মামলা ও গ্রেফতারী আশঙ্কা রয়েছে। সে কারনে গ্রামাঞ্চলে বিএনপি’র জনপ্রিয়তা থাকলেও নির্বাচনে অংশ গ্রহন করে টিকে থাকাটাই প্রধান বিষয় বলে মনে করেন তিনি।

১ নং গুলশাখালী ইউনিয়নে স¤া¢ব্য প্রার্থীরা হলেন – বর্তমান চেয়ারম্যান ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সভাপতি এ্যাডঃ মো. নুরুল ইসলাম মিয়া, বিশিষ্ঠ ব্যবসায়ী মো. গোলাম ফারুক, উপজেলা আওয়ামীলীগ সদস্য মো. হারুন অর রশিদ মোল্লা , সাবেক ছাত্রলীগ সভাপতি আব্দুস সোবহান লিটন, উপজেলা যুবলীগের সদস্য মো. আছাদ মৃধা, বিএনপির এ্যাডঃ মো. জসিম উদ্দিন, ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মো. সাইফুল ইসলাম সুমন মুন্সী, উপজেলা বিএনপির সদস্য মো. দেলওয়ার হোসেন মুন্সী।স্বতন্ত্র মো. এনায়েত করিম মুরাদ। উপজেলা জাতীয় যুবসংহতির যুগ্ম আহবায়ক   শাহ মুহাঃ সুমন রশিদ। গুলিশাখালী ইউনিয়নে জনপ্রিয়তার দিক দিয়ে একচ্ছত্রভাবে ইউনিয়নের বর্তমান চেয়ারম্যান ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সভাপতি এ্যাডঃ মো. নুরুল ইসলাম মিয়া এগিয়ে রয়েছেন। তিনি দলীয় মনোনয়ন পেলে তার বিজয় সুনিশ্চিত বলে সাধারন জনগন মনে করছেন।

২নং কুকুয়া ইউনিয়নে বর্তমান চেয়ারম্যান মো. কায়েসুর রহমান ফকু (স্বতন্ত্র) আওয়ামীলীগের সম্ভাব্য প্রার্থী সাবেক সংসদ সদস্য মরহুম নিজাম উদ্দিন তালুকদারের ছোট ভাই মো. বোরহান উদ্দিন আহমেদ মাসুম তালুকদার, আওয়ামীলীগ কর্মী প্রকৌশলী মো. শহিদুল ইসলাম স্বপন বীর মুক্তিযোদ্ধা গাজী মো. দেলওয়ার হোসেন, বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থী বর্তমান কুকুয়া ইউপি সদস্য যুবদল ইউনিয়ন আহবায়ক মো. মাহবুব আলম। কুকুয়া ইউনিয়নে জনপ্রিয়তার দিক দিয়ে সাবেক সংসদ সদস্য মরহুম নিজাম উদ্দিন তালুকদারের ছোট ভাই মো. বোরহান উদ্দিন আহমেদ মাসুম তালুকদার বেশ এগিয়ে রয়েছেন।

৩ নং আঠারগাছিয়া ইউনিয়নে আওয়ামীলীগের স¤া¢ব্য প্রার্থী বর্তমান চেয়ারম্যান মো. হারুন অর রশিদ, সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান মো. রফিকুল ইসলাম রিপন, সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান বীরমুক্তিযোদ্ধা মো. আব্দুল বারেক তালুকদার, ইউনিয়ন আওয়ামীলীগ সভাপতি মো. সোহেল সালাম মোল্লা, সম্পাদক মো. হাবিবুর রহমান, উপজেলা যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ঠিকাদার মো. মিরাজ হোসাইন মিরাজ, বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থীরা হলেন মো. ফারুক হোসেন মৃধা,মো. বসির উদ্দিন তালুকদার. ইউনিয়ন বিএনপির সহ-সভাপতি মো. নজরুল ইসলাম। আঠারগাছিয়া ইউনিয়নে জনপ্রিয়তার দিক দিয়ে একচ্ছত্রভাবে বর্তমান চেয়ারম্যান মো. হারুন অর রশিদ এগিয়ে থাকায় চেয়ারম্যান পদটি আওয়ামীলীগের সুনিশ্চিত বলে সাধারন ভোটাররা মনে করছেন।

৪ নং হলদিয়া ইউনিয়নে আওয়ামীলীগের সম্ভাব্য প্রার্থীরা হলেন বর্তমান চেয়ারম্যান উপজেলা আওয়ামীলীগের সহ সভাপতি মো. সহিদুল ইসলাম মৃধা, মরহুম ইউপি চেয়ারম্যান সাবেক আওয়ামীলীগ নেতা আব্দুল লতিফ বিশ্বাসের পুত্র মো. জাকির হোসেন বিশ্বাস, সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান মরহুম মো. মোয়াজ্জেম হোসেন ফারুক মল্লিকের ছোট ভাই মো. আসাদুজ্জামান মিন্টু মল্লিক, উপজেলা আওয়ামীলীগ নেতা এ্যাড ঃ মো. মনিরুজ্জামান মনি।

বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থীরা হলেন উপজেলা কমিটির অন্যতম নেতা মো মকবুল আহমেদ খান, বিএনপির উপজেলা কমিটির দপ্তর সম্পাদক মো. মাহবুবুর রহমান মৃধা।

 

৫ নং চাওড়া ইউনিয়নে আওয়ামীলীগের প্রার্থী হলেন বর্তমান চেয়ারম্যান উপজেলা আওয়ামীলীগের যুগ্ম সাধারন সম্পাদক মো. আখতারুজ্জামান বাদল খান, বর্তমান ইউপি সদস্য মো. মতিয়ার রহমান। বিএনপির সম্ভব্য প্রার্থীরা হলেন সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান এ্যাডঃ মো. মহসিন হাওলাদার, ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মো. স্বপন হাওলাদার ।

চাওড়া ইউনিয়নে জনপ্রিয়তার দিক দিয়ে একচ্ছত্রভাবে বর্তমান চেয়ারম্যান বাদল খান এগিয়ে থাকায় চেয়ারম্যান পদটি আওয়ামীলীগের সুনিশ্চিত বলে সাধারন ভোটাররা মনে করছেন।

৬ নং আমতলী সদর ইউনিয়নে বর্তমান চেয়ারম্যান মো. মোতাহার উদ্দিন মৃধা, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাধারন সম্পাদক মো.জাহিদুল ইসলাম মিঠু মৃধা, সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান ও উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি মো. জালাল আহমেদ ফকিরের স্ত্রী মোসাঃ নাছিমা আক্তার, ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মো. জালাল আহমেদ মৃধা, আমতলী ডিগ্রী কলেজের সাবেক জি এস মো. ফারুক খান।

৭ নং আরপাঙ্গাশিয়া ইউনিয়নে বর্তমান ইউপি চেয়ারম্যান মো. আবুল কালাম আজাদ (স্বতন্ত্র), উপজেলা যুবলীগের সাধারন সম্পাদক মো. জাহিদ দেওয়ান, আওয়ামীলীগ সভাপতি মো.মাহবুবুর রহমান জাফর হোসেন বিশ্বাস, ও ইউনিয়ন আওয়ামীলীগ সাংগঠনিক সম্পাদক হুমায়ুন কবির হাওলাদার। ছাত্রদল উপজলা কমিটির সহ-সভাপতি মো. নাজমুল হোসেন, এবিএম সিদ্দিকুর রহমান, সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান একেএম নুরুল হক নুরু তালুকদার।

আমতলী পৌরসভা ও আমতলী সদর ইউনিয়নের সীমানা সংক্রান্ত মামলা থাকায় আমতলী সদর ইউনিয়নে নির্বাচন অনষ্ঠিত হবেনা বলে উপজেলা নির্বাচন অফিস সূত্রে জানা যায়। এতে আমতলী সদর ইউনিয়নের সাধারন জনগন ও আমতলী পৌরসভা বাসির মধ্যে চরম ক্ষোভ ও হতাশা বিরাজ করছে। তারা অবিলম্বে নির্বচন দেয়ার জন্য প্রধান মন্ত্রীর দৃষ্টি কামনা করছেন।