আমতলীতে ভূয়া প্যানেল চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা

1

 

কে এম সোহেল,  আমতলী :  জনপ্রতিনিধির  ভূয়া পরিচয়ে (প্যানেল চেয়ারম্যান দাবী করে) আমতলী পৌরসভার নির্বাচন স্থগিত করণে উচ্চ আদালতে রিটকারী সামসু মৃধার বিরুদ্ধ আমতলী উপজেলা জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতে রোববার মামলা করেছেন আমতলী ইউনিয়ন পরিষদের ৬ নং ওর্য়াড সদস্য মো. আবুল কালাম। মামলার আর্জিতে প্রকৃত ঘটনা উৎঘাটনসহ প্রতারনার বিচার দাবী করেছেন বাদী। বিজ্ঞ বিচারক মামলাটি আমলে নিয়ে আসামী সামসু মৃধাকে আগামী ২২ ডিসেম্বর মঙগলবার স্ব-শরীরে  আদালতে হাজির হওয়ার জন্য আদেশ প্রদান করেন। বাদী পক্ষে মামলাটি পরিচালনা করেন তরুন আইনজীবি পৌর যুবলীগের সভাপতি এ্যাডঃ মো. আরিফ উল হাসান(আরিফ)।

মোঃ সামছু মৃধার সম্প্রতি করা হাই কোর্টে সীমানা নির্ধারনী রীটের কারনে ৬ মাস পিছানো হয়েছে আমতলী পৌরসভা নির্বাচন। তবে রীটকারী আমতলী গ্রামের মৃত হোচেন মৃধার ছেলে ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সামসু মৃধা জানিয়েছেন, বর্তমান পৌর মেয়র মতিয়ার রহমানই তাঁকে দিয়ে কাজটি করিয়েছেন।

নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, দক্ষিণ আমতলী গ্রামের সামছু মৃধা আমতলী ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান সেজে চলতি বছরের ৬ সেপ্টেম্বর উচ্চ আদালতে একটি রিট আবেদন দাখিল করেন। রিটকারী দাবি করেন, একই ব্যক্তি আমতলী পৌরসভা ও আমতলী ইউনিয়নে ভোটার হয়েছেন। এ ছাড়া সীমানা নিয়েও বিরোধ রয়েছে। তিনি ভোটার তালিকা ও সীমানা নির্ধারণের গেজেট প্রকাশ স্থগিত চান।

বিচারপতি নাঈমা হায়দার ও বিচারপতি মোস্তফা জামান ইসলামের হাইকোর্ট বেঞ্চ রিট আবেদনের শুনানী শেষে হালনাগাদ করা ভোটার তালিকার ওপর ছয় মাসের স্থগিতাদেশ দেন। একই সঙ্গে কেন হালনাগাদ ভোটার তালিকা স্থগিত হবে না এই মর্মে প্রধান নির্বাচন কমিশনার, বরিশাল বিভাগীয় কমিশনার, বরগুনা জেলা প্রশাসক, আমতলী পৌর মেয়রের কাছে জানতে চাওয়া হয়েছে।

উচ্চ আদালতের রুলের কপি ৯ সেপ্টেম্বর নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ে পাঠানো হয়। কমিশনের জ্যেষ্ঠ সহকারী সচিব মাহফুজা আক্তার ১৩ সেপ্টেম্বর বরগুনা জেলা নির্বাচন কর্মকর্তাকে বিষয়টি তদন্ত  করে প্রতিবেদন পাঠানোর জন্য নির্দেশ প্রদান করেন।

এই নির্দেশের পর জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা একই বিষয়ে তদন্তের  জন্য ১৯ অক্টোবর উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তাকে নির্দেশ দেন। সে অনুযায়ী, উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মো. আব্দুর রশিদ হালনাগাদ করা ভোটার তালিকা যাচাই-বাছাই করেন। তিনি নিশ্চিত হন, আমতলী পৌর এলাকার কেউ দ্বৈত ভোটার হননি। শুধু ভোটের স্থান পরিবর্তন করেছেন। তা ছাড়া পৌরসভা ও ইউনিয়নের মধ্যে সীমানাবিষয়ক গেজেট প্রকাশে কোনো বাধা নেই। তিনি জেলা নির্বাচন কর্মকর্তার কাছে গত সপ্তাহে প্রতিবেদন পাঠিয়েছেন। পৌরবাসী সামসু মৃধার দৃষ্টান্ত মূলক বিচারের দাবী জানিয়েছেন।