আমতলীতে শিক্ষিকার হাতে গৃহকর্মী নির্যাতিত, শিক্ষিকা আটক

3

 

02কে এম সোহেল, আমতলী : বরগুনার আমতলীতে আরপাঙ্গাশিয়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা তানিয়া কতৃক কারিমা (১০) নামে এক গৃহকর্মী নির্যাতনের শিকার হয়েছে। গত সোমবার সন্ধ্যায় পৌরসভার ৫নং ওয়ার্ডে বসবাসরত শিক্ষিকা তানিয়া তার শিশু সন্তানকে কোলে না নেয়ার অপরাধে কারিমাকে স্টীলের স্কেল ও রুটি তৈরীর বেলন দিয়ে  নির্যাতন করে   দু’দিন ধরে ঘরে আটকে রাখে। গত মঙ্গলবার সন্ধ্যায় করিমা ওই বাসা থেকে পালিয়ে এসে এক কাউন্সিলরের বাসায় আশ্রয় নিলে গত বুধবার ঘটনাটি জানাজানি হয়। নির্যাতনের অভিযোগে ওই শিক্ষিকাকে গ্রেপ্তার করে বৃহস্পতিবার সকালে জেল হাজতে পাঠিয়েছে আমতলী থানা পুলিশ।

নির্যাতিতা কারিমা জানায় নভেম্বর মাসের শেষের দিকে আমতলী পৌরসভার ৫নং ওয়ার্ডে বসবাসরত আরপাঙ্গাশিয়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষীকা তানিয়ার বাসায় গৃহ কর্মী হিসেবে কাজ নেয়। কারিমার  বাড়ী বরগুনা জেলার পাথরঘাটা উপজেলার পদ্মা গ্রামে। বাবা মজিদ হাওলাদার ২বছর আগে মারা যায়। মা তহমিনা বেগম মানসিক ভারসাম্যহীন কোথায় আছে কারিমা তা জানে না।  স্কুল শিক্ষিকা তানিয়ার বাবার বাড়িও ওই একই গ্রামে হওয়ায় তানিয়ার মা দুমাস আগে কারিমাকে মেয়ের বাসায় পেটে ভাতে গৃহকর্মী হিসেবে নিয়োগ করে। সোমবার সন্ধ্যায় গৃহকর্তা তানিয়ার ২ বছরের মেয়ে মুন কান্নাকাটি করতে থাকলে সে সময় মেয়েটিকে কোলে না নেওয়ায়  শিক্ষিকা তানিয়া কারিমাকে স্টীলের স্কেল এবং রুটি তৈরীর বেলন দিয়ে পিটিয়ে গুরুতর আহত করে। কারিমার শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। মার ধরের পর কারিমাকে স্কুল শিক্ষক তানিয়া ঘরের একটি রুমের মধ্যে আটকে রাখে। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় কারিমা ওই বাসা থেকে পালিয়ে স্থানীয় কাউন্সিলর ফরহাদ হোসেনের বাসায় আশ্রয় নেয়। কারিমা জানায় কোন কামে ভুল অইলেই মাড্যামে মোরে খালি মাইর ধইর করত। কাউন্সিলর ফরহাদের মা হাফেজা বেগম বলেন মেয়েটি খুব অসুস্থ ছিল আমি ওকে সেবা করে সুস্থ করে তুলি। কাউন্সিলর ফরহাদ হোসেন বলেন, একটি অসহায় মেয়ের উপর যেভাবে নির্যাতন করেছে এটা ঠিক হয়নি। বুধবার সন্ধ্যায় কাউন্সিলর কারিমাকে আমতলী পৌর সভায় নিয়ে আসলে মেয়র শিশুটিকে দেখে প্রয়োজীয় ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য আশ্বাস দেন। অভিযুক্ত স্কুল শিক্ষিকা তানিয়া বেগমকে বুধবার রাতে আটক করে জেল হাজতে পাঠান হয়।  তানিয়া জানান, গৃহকর্মী কারিমাকে আমি কোন নির্যাতন করিনি। কারিমার শরীরে আঘাতের চিহ্ন সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ঘরের মেঝেতে আছাড় খেয়ে পড়ে যাওয়ায় ব্যাথা পেয়েছে। তানিয়ার স্বামী বরগুনার বেতাগী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের প্রধান সহকারী হিসাব রক্ষক মো: রফিকুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা অস্বীকার করেন। আমতলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা পুলক চন্দ্র রায় জানান, গৃহকর্মী কারিমাকে নির্যাতনের অভিযোগে অভিযুক্ত স্কুল শিক্ষিকা তানিয়াকে বুধবার রাতে গ্রেপ্তার করা হয়। তার বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা দেখিয়ে বৃহস্পতিবার সকালে কোর্টের মাধ্যমে জেল হাজতে পাঠানো হয়। আমতলী উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) মো: জাহিদ হোসেন জানান, গৃহকর্মী নির্যাতনের অভিযোগে গ্রেপ্তারকৃত তানিয়ার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।#