আমতলীতে সাংবাদিকদের বাড়িতে হামলা

8

কে এম সোহেল,আমতলী প্রতিনিধিঃ বরগুনার শীর্ষ সন্ত্রাসী আসাদের অন্যতম সহযোগি সানি মঙ্গলবার সন্ধ্যায় সন্ত্রাসী বাহিনী নিয়ে বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা বাসস এর বরগুনা জেলা সংবাদদাতার বাড়িতে হামলা চালিয়ে সীমানা বেড়া ভাংচুর করেছে। আমতলীতে শহরের পুরাতন হাসপাতাল রোডে (জেলা পরিষদের ডাকবাংলোর সামনে) সাংবাদিক খায়রুল বাশার বুলবুলের রেকর্ডিয় সম্পত্তিতে ঢুকে আধা ঘন্টা ধরে ভাংচুর চালায়। খবর পেয়ে থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গেলে সন্ত্রাসীরা পালিয়ে যায়।

সাংবাদিক খায়রুল বাশার বুলবুল জানিয়েছেন, তার আমতলীস্থ বাড়িতে পূর্ব দক্ষিন পাশে তার মালিকানাধীন ৩১ নম্বর জেএল মৌজার রেকর্ডিয় দাগ নম্বর ৯৫২,৯৫৩,৯৫৪  খতিয়ান নম্বর ১৫৬৬ পরিচিতির .০৭ একরে পরিমান জমি স্থানীয় সন্ত্রাসী ও ইমাম তাকি ওরফে সানি জবরদখলের পায়তারা করছিল। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় সানি, তার মা সেলিনা বেগম ও স্ত্রী সেতু বেগম আমতলী শহরের চিহ্নিত সন্ত্রাসী আরিফ, সাইফুল, সাইম, হুমায়ুন, মিজানুর, ইয়ামিনসহ ১৪ থেকে ১৫ জন সন্ত্রাসীকে নিয়ে তান্ডব চালিয়ে জমিটির সীমানা বেড়া (কাঠ ও টিনের তৈরী) ভেংগে ফেলে। বিষয়টি বরগুনা ও আমতলী পুলিশ প্রশাসনকে অবহিত করা হলে সিনিয়র এএসপি (সার্কেল) আ. ওয়ারেস, আমতলী থানার ওসি (তদন্ত) নুরুল ইসলাম বাদল পুলিশ টিম নিয়ে ঘটনাস্থলে আসেন। তবে ততক্ষনে সন্ত্রাসীরা সটকে পড়ে। ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী আমতলী প্রেসক্লাবের সভাপতি শাহাবুদ্দিন পাননা জানিয়েছেন, সন্ত্রাসীদের তান্ডবে এলাকায় আতংক ছড়িয়ে পড়ে। এ সময়ে আমতলীর উপজেলা চেয়ারম্যান ও আওয়ামীলীগ সভাপতি জিএম দেলোয়ার চিৎকার চেমামেচি শুনে লোকজন নিয়ে ঘটনাস্থলে ছুটে যান।

আমতলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (তদন্ত) নুরুল ইসলাম বাদল জানান, হামলার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে।

আমতলী, তালতলী ও বরগুনা সদর সার্কেলে¡র দায়িত্বেরত সিনিয়র এএসপি আ. ওয়ারেস জানিয়েছেন, বিষয়টি নিয়ে তিনি আমতলীর ইউএনও মো. মুশফিকুর রহমানের সাথে কথা বলেছেন। ব্যবস্থা নেয়া হবে।

উল্লেখ্য এ অঞ্চলের অন্যতম শীর্ষ সন্ত্রাসী আসাদ বর্তমানে একটি হত্যা মামলায় বর্তমানে কারাগারে রয়েছে। ইমাম তাকি সানি আসাদের আপন মামাতো ভাই এবং আসাদ বাহিনীর অন্যতম সদস্য। গত দু’ মাস আগে কালু মিয়া (৩৮) নামের আমতলী শহরের এক অটো চালককে তুলে নিয়ে বেদম প্রহার করে। এ ঘটনায় কালু মিয়া  দীর্ঘদিন অসুস্থ ছিলেন বলেসাংবাদিকদের জানান।এ ব্যাপারে ইমাম তাকি সানির বক্তব্য জানার জন্য একাধিক বার চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায় নি। ঘটনার পরপর থেকেই সে গা ঢাকা দিয়েছে।

আমতলীর উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান মজিবর রহমান জানিয়েছেন সানি একজন কুখ্যাত নেশাখোর। তার দ্বারা সব কিছুই সম্ভব।

আমতলীর উপজেলা চেয়ারম্যান জিএম দেলোয়ার জানান, এই চিহ্নিত সন্ত্রাসীদের অবিলম্বে গ্রেফতার করে শাস্তির আওতায় আনা না হলে আইন শৃংখলা পরিস্থিতির ক্রমশঃ অবনতি ঘটবে। বরগুনার জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও সাবেক সাংসদ দেলোয়ার হোসেন এ ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।