আমতলীতে ১জন চিকিৎসক দিয়ে চলছে ৩ লাখ মানুষের স্বাস্থ্য সেবা

0

কে এম সোহেল,আমতলী প্রতিনিধিঃ বরগুনার আমতলী উপজেলায় চিকিৎসক সংকট মারাত্মক আকার ধারন করেছে। ৫০ শয্যার হাসপাতালে বর্তমানে ১জন চিকিৎসক রয়েছে। উপজেলায় ৩ লাখ মানুষের স্বাস্থ্য সেবায় ১ জন চিকিৎসক কোনই কাজে আসছে না ফলে আমতলীতে স্বাস্থ্য সেবা একে বারেই ভেঙ্গে পড়েছে।

আমতলী হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, ২১ শয্যা থেকে ২০০৮ সালের ২৭ জানুয়ারি এ হাসপাতালকে ৫০ শয্যায় উন্নীত করা হয়। চতুর্থ তলা ভবনও তৈরী করা হয় হাসপাতালের জন্য। ২১ শয্যার হাসপাতাল থেকে ৫০ শয্যায় উন্নীত করার পর ৯ জন চিকিৎসকের স্থলে ২১ জন চিকিৎসকের পদ সৃষ্টি করা হয়। এর মধ্যে ১জন উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা, ১জন জুনিয়র কনসালটেন্ট সার্জন, ১জন জুনিয়র মেডিসিন কনসালটেন্ট, ১জন গাইনি কনসালটেন্ট, ১জন ডেন্টাল সার্জন, ১জন অঞ্জানবিদ, ৬জন জুনিয়র কনসালটেন্ট নাক, কান, গলা, চোখ ও চর্ম রোগের জন্য, ১জন আরএমও ও ২জন মেডিকেল অফিসার থাকার কথা। বর্তমানে ২১ জন চিকিৎসকের মধ্যে  ১জন মেডিকেল অফিসার ও উপজেলা সাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা আছেন আর বাকী পদ দীর্ঘ দিন খালি রয়েছে। ১জন মেডিকেল অফিসার তাও আবার কুকুয়া ১০ শয্যা হাসপাতালের চিকিসা সেবা বন্ধ রেখে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে জরুরী ভিত্তিতে আনা হয়েছে প্রেষনে। উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা অফিসিয়াল ও প্রশাসনিক কাজের জন্য সব সময় ব্যস্ত থাকেন। এ অবস্থায় ১জন মেডিকেল অফিসার দিয়ে ৫০ শয্যায় হাসপাতালের বহি:বিভাগ, আন্ত:বিভাগ ও জরুরী বিভাগ চালানো মোটেই সম্ভব নয়। এ অবস্থায় অনেক রোগী চিকিসা সেবা না পেয়ে আমতলী হাসপাতালে এসে পেরৎ যাচ্ছে। সড়ক দুর্ঘটনায় আহত হয়ে চিলা গ্রামের রাব্বি রবিবার দুপুরে এসেছিলেন আমতলী হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে। কিন্ত চিকিৎসক সংকটের কারনে চিকিৎসা সেবা না পেয়ে চলে যান পটুয়াখালী জেলারেল হাসপাতালে। রবিবার সকালে আমতলী হাসপাতা সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে, আগের মত হাসপাতালে এখন আর তেমন রোগী নেই। বহি:বিভাগের অধিকাংশ চিকিৎসকের রুম তালাবদ্ধ। রোগীরা এসে ঘুরে ফিরে আবার চলে যাচ্ছে। এসময় কথা হয় হলদিয়া থেকে আসা রুশিয়া নামের ষাটোর্ধ এক রোগীর সাথে তিনি জানালেন, শরীর খাউজায় (চুলকায়) এইর লইগ্যা আইছিলাম ডাক্তার দেহাইতে। হুনলাম এহানে কোন ডাক্তার নাই। মোরা গরীব মানুষ মোগো হগল জায়গায় মরন দশা। এহন কই যামু ডাক্তার দেহাইতে।

এদিকে আমতলীর গাজীপুর উপ-স্বাস্থ্য কেন্দ্র চিকিৎসক সংকটের কারনে মাষাধিকাল ধরে তালাবদ্ধ রয়েছে। সেখানে ১জন চিকিৎসকসহ ৪জন থাকার কথা কিন্তু কোন লোকবল না থাকায় এখন তালাবদ্ধ।   কুকুয়া ১০শয্যার হাসপাতালে ২জন চিকিৎসক থাকার কথা কিন্তু একজনও নেই। সেখানে ডা: জোহানুল ইসলাম নামে ১জন চিকিৎসকের  পোস্টিং ছিল। আমতলীতে কোন চিকিৎসক না থাকোয় প্রেষনে তাকে আমতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আনা হয়েছে। তালতলী উপজেলায় ২১ শয্যার হাসপাতালেরও করুন অবস্থা। বিএনপি সরকারের সময় তরিঘরি করে হাসপাতালটি চালু করা হলেও সেখানে অনুমতির অভাবে এখনো আন্ত:বিভাগ চালু করা যায়নি। ১ জন চিকিৎসক দিয়ে বহি:বিভাগ চালানো হচ্ছে একটি উপজেলা হাসপাতালের।

আমতলী উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা: এমএ মতিন জানান, সংকটের কথা জানিয়ে উর্দতন কর্তৃপক্ষকের নিকট জরুরী ভিত্তিতে চিকিৎসক চাওয়া হয়েছে। চিকিৎসক পাওয়া গেলে এ সংকট থাকবে না।