আমতলীতে ৪৮  কোটি টাকার রবি ফসলের ক্ষতি, চাষিরা সর্বশান্ত

3

কে এম সোহেল,আমতলী প্রতিনিধিঃ বরগুনার আমতলী উপজেলায় ৪  দিনের অতি বর্ষনে ৪৮ কোটি টাকার রবি ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। সর্বশান্ত  হয়ে গেছে তরমুজ চাষিরা। সাড়ে তিন হাজার তরমুজ চাষী বিভিন্ন ব্যাংক ও এনজিও থেকে ঋণ নিয়ে তরমুজ চাষ করেছে। এখন তারা নিঃস্ব হয়ে গেছে। ব্যাংক ও এনজিও’র ঋণ পরিশোধ  নিয়ে তারা মহা বিপাকে পড়েছেন।

আমতলী কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার ৭ টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভায় খেশারী, মুগ, তরমুজ, মরিচ, বাদাম, সূর্যমূখী, ভুট্টা, আলু, মিষ্টি আলু, খিরাই ও শাকসবজির লক্ষমাত্রা ছিল ১৭ হাজার ৪৩৫ হেক্টর। এর মধ্যে সম্পূর্ণ ক্ষতি হয়েছে ১৫ হাজার ২৪৫ হেক্টর জমির রবি ফসলের।

এ ফসলের উৎপাদন লক্ষমাত্রা ধরা হয়েছিল ১ লক্ষ ১৪ হাজার ৫৭৪ মেট্রিক টন। যার সম্ভাব্য মুল্য ৪৮ কোটি টাকা। এর মধ্যে তরমুজ ৪৪ কোটি ৮০ লক্ষ, মুগ ১ কোটি ২৫ লক্ষ ৫৯ হাজার, খেশারী ৫৬ লক্ষ ৩২ হাজার, মরিচ ২৮ লক্ষ ২৩ হাজার ৬০০, বাদাম ১২ লক্ষ ৮২ হাজার, সূর্য্যমূখী ৩ লক্ষ ৬৭ হাজার ৫০০, ভুট্টা ৮৮ হাজার ২০০, শাকসবজি ৩২ লক্ষ ৬৪ হাজার, আলু ৮ লক্ষ ৭০ হাজার, মিষ্টি আলু ৩৭ লক্ষ ৯০ হাজার ৮০০ ও খিরাই ১০ লক্ষ ৫০ হাজার  টাকার ক্ষতি হয়েছে।

মঙ্গলবার (১৪ মার্চ) সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে, ফসলের ক্ষেত পানিতে তলিয়ে রয়েছে। কিছু স্থানে পানি শুকালেও গাছ মরে গেছে। কৃষকরা সর্বশান্ত হয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছে। সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছে সাড়ে তিন হাজার তরমুজ চাষী। তাদের একটাই কথা প্রাকৃতিক দুর্যোগ তাদের নিঃস্ব করে দিয়ে গেছে  কিন্তু ঋণ পরিশোধ করবে কি দিয়ে?

পুর্ব কুকুয়া গ্রামের কৃষক আবদুর রাজ্জাক জানান, ব্র্যাক, সংগ্রাম, আশা ও পদক্ষেপ থেকে ৬ লক্ষ টাকা ঋণ নিয়ে ৩০ একর জমি বর্গা রেখে তরমুজ চাষ করেছেন কিন্তু সমস্ত  জমির তরমুজ পঁচে গেছে। কিভাবে তিনি ঋণ পরিশোধ করবেন এসব ভেবে অস্থির। সোনাখালী গ্রামের  কৃষক ওহাব মৃধা জানান, ২ লক্ষ ৮০ হাজার টাকা ঋণ নিয়ে ১৫ একর জমিতে তরমুজ চাষ করেছেন, তা পঁেচ গেছে। হান্নান মোল্লা  জানান, ২৪ একর জমিতে ১লক্ষ ৯০ হাজার টাকা ব্যয় করে রবি ফসলের চাষ করেছিলেন, তা সব পঁচে গেছে।

এছাড়া হলদিয়ার লিটন, নুর  আলম মুসল্লি, শিবলী শরিফ ও ইউসুফ মিয়া জানান, তাদের ২০ একর জমির তরমুজ চারা মাটির সাথে মিশে গেছে। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, তরমুজ চাষীরা প্রতি বছর ব্যাংক, এনজিও এবং মহাজনদের কাছ থেকে ঋণ নিয়ে চাষাবাদ করেন। তরমুজ বিক্রি করে তারা ঋণের টাকা পরিশোধ করেন। এ বছর প্রকৃতির বৈরী পরিস্থিতিতে তারা সর্বহারা হয়ে গেছেন।

 

আমতলী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা এসএম বদরুল আলম  বলেন, বৃষ্টিতে আমতলী উপজেলার ৪৮ কোটি টাকার রবি ফসলের ক্ষতি হয়েছে। ক্ষয় ক্ষতির বিবরন উর্ধতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি।