আমতলী ও তালতলীর ২৫৭ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে  শহীদ মিনার নেই          

1

কে এম সোহেল,আমতলী প্রতিনিধিঃ যাদের আত্মত্যাগের বিনিময় আজ বাঙ্গালী মায়ের ভাষায় কথা বলে। তাদের ঋন কোন দিন শোধ করা যাবেনা। তাদের স্মরণে বাঙ্গালীরা প্রতি বছর  পালন করে ২১ ফেব্রুয়ারী আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস। কিন্তু আমতলী ও তালতলী উপজেলার অধিকাংশ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নেই শহীদ মিনার। রাষ্ট্রভাষা বাংলা প্রতিষ্ঠার ৬৫ বছর পরও আমতলী ও তালতলী উপজেলার ৩৬৩  শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ২৫৭ টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে  ভাষা শহীদদের স্মরণে কোনো শহীদ মিনার নেই। ফলে ভাষা দিবসে কোথাও বাঁশ, কাঠ, কোথাও কলাগাছ ও মাটি দিয়ে অস্থায়ী শহীদ মিনার নির্মাণ করে সেখানে পুষ্পমাল্য অর্পণ করা হয়।

আমতলী  উপজেলার ১৫২ টি সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় ,৫ টি কলেজ  ২৪ টি  দাখিল আলিম ও ফাজিল মাদরাসা , ৩০টি  ইবতেদায়ী মাদরাসা  এবং  তালতলী উপজেলার ৭৭ টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ১ টি কলেজ, ১২ টি , মাধ্যমিক ও নিম্ন মাধমিক বিদ্যালয়. ১০ টি দাখিল , আলিম ও ফাজিল মাদরাসা , ১২ টি ইবতেদায়ী মাদরাসা  রয়েছে। সব মিলেয়ে   ৩৬৩ টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মধ্যে আমতলী ডিগ্রি কলেজে,  তালতলী ডিগ্রী কলেজ , আমতলীর ২  টি মাধ্যমিক বিদ্যালয় , তালতলীর ১টি মাধ্যমিক  বিদ্যালয়  ও  তালতলীর ১ টি মাদরাসায় শহীদ মিনার রয়েছে।

ভাষা আন্দোলনের ৬৫ বছর অতিক্রান্ত হলেও সরকারি কিংবা প্রতিষ্ঠানের উদ্যোগে আজ পর্যন্ত আমতলী ও তালতলী উপজেলার  ২৫৭ টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কোনো শহীদ মিনার গড়ে ওঠেনি। শহীদ মিনার না থাকায় একুশে ফেব্রুয়ারি এলেই শিক্ষার্থীরা নিজ উদ্যোগে বাঁশ, কাঠ, কোথাও কলাগাছ ও মাটি দিয়ে অস্থায়ী শহীদ মিনার নির্মাণ করে সেখানে পুষ্পমাল্য অর্পণ করেন।

আমতলী এমই  মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো.  নাশির উদ্দিন  জানান, সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শহীদ মিনার নির্মাণ করা হলে কোমলমতি শিশু শিক্ষার্থীরা ভাষা আন্দোলনের ব্যাপারে জানতে আরও আগ্রহ প্রকাশ করবে। শহীদ মিনার না থাকায় শিক্ষার্থী এবং শিক্ষকরা এ দিবস সম্পর্কে তেমন একটা গুরুত্ব দেন না।

এ প্রসঙ্গে তালতলী উপজেলা নির্বার্হী অফিসার মো.তৌছিফ আহমেদ  বলেন  , যাতে স্থায়ী শহীদ মিনার নির্মান কর যায় শ্রীঘ্রই তার  জন্য ব্যবস্থা নেয়া হবে।

আমতলী উপজেলা নির্বাহি অফিসার মো. মুশফিকুর  রহমান  বলেন , উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার ও প্রাথমিক শিক্ষা অফিসারের সাথে আলাপ করে যাহাতে প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শহীদ মিনার নির্মান করা যায় তার জন্য  ব্যবস্থা নেয়া হবে।

তালতলী উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান  মো. মনিরুজ্জামান মিন্টু  বলেন  এ বছর এডিপির ফান্ড থেকে  প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্টানে শহীদ মিনার নির্মান করা হবে।

আমতলী উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান জি এম দেলোয়ার হোসেন প্রতিদিনের সংবাদ কে বলেন প্রতিটি  শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে  শহীদ মিনার থাকা প্রয়োজন। কোমলমতি ছাত্রছাত্রীদের প্রাথমিক পর্যায়ে শহীদ মিনার সম্পর্কে সম্যক ধারণা থাকা দরকার। এজন্য প্রতিটি  শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে  শহীদ মিনার নির্মাণ করা হবে বলে তিনি জানান ।