আমতলী তালতলী থেকে গ্রামীণ কুটির শিল্প আজ বিলুপ্তির পথে

1

কে এম সোহেল,আমতলী প্রতিনিধিঃ প্রয়োজনীয় উপকরণের মূল্য বৃদ্ধি, পুঁজির অভাব, সুষ্ঠ বাজারজাতকরণের অভাবে আমতলী ও তালতলী ঐতিহ্যবাহী বাঁশ ও বেতজাত গ্রামীণ কুটির শিল্প আজ বিলুপ্তির পথে। এ শিল্পের সাথে জড়িত শ্রমিকরা এখন অন্য পেশায় চলে যাচ্ছে  । সূত্রে জানা যায়, আমতলী ও তালতলী  উপজেলায় প্রায় ২ শতাধিক  পরিবার বাঁশ ও বেত জাত কুটির শিল্পের সাথে জড়িত। এ পেশা দিয়েই তারা তাদের জীবন-জীবিকা নির্বাহ করে থাকে। বর্তমান এ পেশার দুর্দিন চলছে। একদিন এ পেশার কদর ছিল, তখন বাঁশ ও বেত দিয়ে তৈরী হতো ডালি, কুলা, চালন, চালনা, দোন, বেইড়, চাটাই, ডুলি, খেলনা- দোলনা গ্রাম থেকে শহরের মানুষ পর্যন্ত  ব্যবহার করত বাঁশ ও বেতের তৈরী বিভিন্ন জিনিসপত্র। বর্তমানে ইট পোড়ানোর কাজে ব্যপকভাবে বাঁশের মোতা ব্যবহারের ফলে বাঁশঝাড় উজার হচ্ছে। ফলে বাঁশ ও বেতের মুল্য বৃদ্ধি পাওয়ায় এ পেশার সাথে জড়িত শ্রমিকরা প্রয়োজনীয় পুঁজি জোগাড় করতে পারছে না। তাই অনেকেই এ পেশা ছেড়ে দিয়ে অন্য পেশায় জড়িয়ে পড়ছে। উপজেলার  গুলিশাখালী  গ্রামের চাটাই তৈরী করছে এমন একটি পরিবারের সাথে এ প্রতিনিধি কথা বলতে গেলে বিপুল (৩০) জানায়, বাঁশ ও বেতের মুল্য বেশী, বেঁচা-বিক্রিও তেমন হয়না, ছেলে-মেয়ে নিয়ে অনেক কষ্টে আছি। তাই অনেকেই এখন এ পেশা ছেড়ে দিচ্ছে। বাপ-দাদার পেশা তাই আঁকরে ধরে আছি। বিপুল  আরো জানায়, ১২০ টাকা থেকে ১৫০ টাকায় একজোড়া চাটাই বেঁচা হয়।  সুভাষ  বলেন বাঁশ দিয়ে অনেক সুন্দর সুন্দর দামী জিনিস পত্র বানানো যায়। অভিজ্ঞ মহলের মতে সরকারী-বেসরকারী পৃষ্ঠপোষকতা দিয়ে এ শিল্পকে টিকিয়ে রাখতে পারলে এ পেশার সাথে জড়িত অনেক অসহায় পরিবার স্বনির্ভরতা অর্জনে সক্ষম হতো।