আমনের বাম্পার ফলন!!বাজার নি¤œমুখী ধানের ন্যায্য দাম পাচ্ছেনা কৃষক

1

pic-6

কৃষ্ণ কর্মকার, বাউফল : পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলা জুড়ে এ বছর আমন ধানের বাম্পার ফলন হয়েছে। কিন্তু ধান কৃষকের গোলায় উঠতে না উঠতেই বাজার মূল্য নি¤œমুখী। কপালে ভাঁজ পরেগেছে প্রান্তিক কৃষকের। থেমে গেছে তাদের নবান্ন উৎসব। কি ভাবে চলবে সামনের দিন গুলো। চারিদিকে যেন ঘোর অমাবষ্যা। এই ধান বিক্রির টাকায় সারা বছরের ভরন পোষন। অভাবের তাড়না মেটাতে বেচতে হবে ধান। অথচ এখন বেচলে উঠবে না খরচ। শোধ করা যাবে না মহাজনের ঋণ। তাই তো কপালে হাত অসহায় কৃষকের।
সূত্রে জানাগেছে, এ বছর এ উপজেলায় ৩৫ হাজার হেক্টর জমিতে আমন চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হলেও অতি বর্ষনের ফলে বীজতলা ব্যাপক ভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হওয়ায় লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হয়নি। বীজ সংকটে অনেক চাষী পরিবারের জমি অনাবাদি পড়ে ছিল। যারা জমি চাষাবাদ করেছেন তারা অধিক মূল্যে বীজ ক্রয় করে রোপন করেছেন।
দক্ষিনাঞ্চলের বৃহত্তম ধানের হাট কালাইয়া বাজারে সোমবার সরজমিনে খোঁজ নিতে গেলে কথা হয় উপজেলার কালাইয়া কমলা দীঘির পাড় এলাকার বর্গা চাষী ফরিদ মিয়ার সঙ্গে, নিজের মালিকানায় জমি নেই এক ইঞ্চি। অন্যের জমি একসনা চাষ করে মালিককে দিতে হয় মোট ধানের অর্ধেক। মৌসুমের শুরুতে ছিল অঝোর বর্ষা। হালের বলদের তীব্র সংকট। বাধ্য হয়ে চাষ চলে ইঞ্জিনের ট্রাক্টরে। সেই সঙ্গে ছিল কামলা-বদলার খরচ। মালিকের সঙ্গে এবার অবশ্য ধানের চুক্তি ছিল না। এ বছর মালিকের কাছ থেকে কৃষক ফরিদ মিয়া ৮৮ হাজার টাকার বিনিময়ে পনের একর জমি (স্থানীয় মাপে ৪কানি) একসনা বর্গা নিয়েছেন। জমিতে ধান চাষাবাদ থেকে শুরু করে কাটা পর্যন্ত মোট খরচ হয়েছে এক লক্ষ দুই হাজার টাকা। অথচ ধান পেয়েছে আড়াইশ মন। বর্তমানে প্রতি মন ধানের বাজার মূল্য ৫শ টাকা। তাও আবার ৪৮ কেজিতে মণ ধরছে ফরিয়ারা। বিক্রি করে পেয়েছেন এক লক্ষ পচিঁশ হাজার টাকা। কৃষক ফরিদ মিয়ার লোকসান গুনতে হয়েছে এ বছর ৬৫ হাজার টাকা। ক্ষোভের সুরে কৃষক ফরিদ মিয়া বলেন, ধান আর চাষ করব না। ভাবছি অন্য কোন আয়ের পথ খুঁজবো।
অবশ্য নাজিরপুর ইউনিয়নের তাতেরকাঠী গ্রামের বর্গা চাষী জালাল আহম্মেদ এবার চার একর জমি মালিকের কাছ থেকে নিয়েছেন একসনা মোট ধানের অর্ধেক চুক্তিতে। জালাল আহম্মেদ বলেন, চার একর জমিতে মোট খরচ হয়েছে ২৮ হাজার টাকা। ধান পেয়েছি ৭০ মন, চুক্তি অনুযায়ী ৩৫মন ধান দিতে হয়েছে মালিককে। বাকী ৩৫মন ধান বর্তমান বাজারে বিক্রি করে পেয়েছি ১৭হাজার ৫শত টাকা। এতে লোকসান গুনতে হয়েছে ১০হাজার ৫শত টাকা। এ অবস্থা শুধু ফরিদ মিয়া কিংবা জালাল আহম্মেদের নয় উপজেলার হাজার হাজার কৃষকের।
কালাইয়া ধানহাটে দীর্ঘ দুই যুগ ধরে ধানের ব্যাবসা করে আসছেন জহিরুল হক প্যাদা। হাটে সাংবাদিকদের উপস্থিত দেখে এসে বললেন, ভাই লিখে নেন, বছর বছর এ ভাবে চাষিরা লোকসানের মুখ দেখলে, ধান চাষে অনিহা হয়ে পড়বে চাষীরা। মুখ ফিরিয়ে নিবে ধান চাষ থেকে। এমনও সময় আসতে পারে সরকার চাষীদের বেতন ভুক্ত কর্মচারী নিয়োগ দিয়ে ধান চাষ করাতে বাধ্য হবে।
দক্ষিনাঞ্চলের বৃহত্তর ধানের বাজার কালাইয়া বন্দরের ধান-চালের আড়তদার মানিক লাল কুন্ডু বলেন, আসলে বেড়ে গেছে উৎপাদন ব্যয়। বেড়েছে সার-বীজের দাম আর বদলার মজুরি। ফলে মিলছে না কৃষকের হিসাব।
এ বিষয়ে বাউফল উপজেলা কৃষিকর্মকর্তা সারোয়ার জামান বলেন, এ উপজেলায় প্রায় ৫৬ হাজার কৃষক পরিবার রয়েছে। কৃষকরা যদি এ ভাবে লোকসানের মুখে পরে তাহলে ওই পরিবার গুলো একে একে ঋৃণগ্রস্থ হয়ে পড়বে। ফলে গ্রামীন অর্থনীতিতে বিরুপ প্রভাব পড়বে। তবে কৃষকের এই অবস্থা থেকে উত্তরনের জন্য সরকারের উচিত, যেহেতু বরিশাল বিভাগে আমনের ফলনটা বেশী হয় তাই এই বিভাগের প্রান্তিক চাষীদের কাছ থেকে সরকার সরাসরি ধান ক্রয় করা। যাতে কোন মধ্য সত্ত্বভোগী কোন ফয়দা না লুটতে পারে।