আর ত্রান চাইনা,  টেকসই বাঁধ চাই’

0

গোফরান পলাশ, কলাপাড়া প্রতিনিধি: পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় অস্বাভাবিক জোয়ারের পানিতে অন্তত: ৩৭ গ্রামের মানুষ অবর্ননীয় দুর্ভোগে পড়েছে। অমাবস্যার প্রভাবে সৃষ্ট অস্বাভাবিক জোয়ারের পানি ক্ষতিগ্রস্থ বেড়িবাঁধ দিয়ে ওই সকল গ্রামগুলোতে প্রবেশ করায় মানুষ পানি বন্দি হয়ে পড়েছে। মাছের ঘের-পুকুর পানিতে ডুবে থাকায় কয়েক কোটি টাকার মাছ পানিতে ভেসে গেছে। গবাদি পশুর আশ্রয়স্থলের সংকট সহ ক্ষেতের ফসল পানিতে ডুবে যাওয়ায় কৃষি নির্ভর পবিবারগুলো ভীষন দু:শ্চিন্তায় পড়েছে। এমনকি একই স্থানে রান্না,থাকা-খাওয়া ও গবাদিপশু নিয়ে অবস্থান করে মানবেতর জীবন যাপন করছে বাঁধ ভাঙ্গা এলাকার মানুষ। ক্ষতিগ্রস্থ এলাকার সাধারন মানুষের দাবী- আর ত্রান চাইনা, টেকসই বাঁধ চাই।

উপজেলার মহিপুর ইউনিয়নের নিজামপুর, চম্পাপুর ইউনিয়নের দেবপুর, লালুয়া ইউনিয়নের মুন্সীপাড়া, লতাপাপলি ইউনিয়নের খাঁজুরা ও নীলগঞ্জ ইউনিয়নের উমেদপুর এলাকার  বেড়িবাঁধ সিডরের তান্ডবে ভেঙ্গে যায়। এরপর কয়েক দফা মেরামত করা হলেও জোয়ারের তান্ডবে ফের বাঁধ গুলো বিধ্বস্ত হয়েছে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তা ও ঠিকাদারদের নি¤œমানের কাজের কারনে সরকারের উন্নয়ন কর্মকান্ড ভেস্তে গিয়ে এমন অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে বলে দাবী করছেন স্থানীয়রা।

পানি উন্নয়ন বোর্ড অফিস সূত্র জানায়, বিগত বছর মহিপুর ইউনিয়নের নিজামপুরের ১৫’শ মিটার বাঁধ চল্লিশ লক্ষ টাকা ব্যায়ে এবং লালুয়া ইউনিয়নের তিন কি.মি. বাঁধ ৯০ লক্ষ টাকা ব্যায়ে জরুরী ভিত্তিতে মেরামত করা হয়। পানি উন্নয়ন বোর্ডের কোন সহযোগিতা না পেয়ে ইউনিয়ন পরিষদের অর্থায়নে প্রায় হাজার মিটার দেবপুর বাঁধ এলাকাবাসী নিজেরাই মেরামত করে। এমনকি নীলগঞ্জ ইউনিয়নের উমেদপুর বেড়িবাঁধ স্থানীয়রা স্বেচ্ছাশ্রমে মেরামত করে।

জানা যায়, বর্ষা শুরু আগেই অস্বাভাবিক জোয়ারের প্রভাবে দেবপুরে ৮’শ মিটার বাঁধ ভেঙ্গে চম্পাপুর ও ধানখালী ইউনিয়নের ৭টি গ্রাম, লালুয়ার মুন্সিপাড়ায় ২’শ মিটার বাঁধ ভেংগে ৬টি গ্রাম, মহিপুরের নিজামপুর পয়েন্টের বাঁধ ভেঙ্গে ৬টি গ্রাম, লতাচাপলী ইউনিয়নের স্লুইজ গেট ভেংগে ৮টি গ্রাম এবয় নীলগঞ্জ ইউনিয়নের উমেদপুর, নিজকাটা, দৌলতপুরের তিনটি স্লুইজগেট ভেংগে ১০টি গ্রাম পানিতে প্লাবিত হয়ে আছে। যেকোন সময় নদী গর্ভে বিলীন হওয়ার শংকায় রয়েছে মহিপুরের নিজামপুর ও লতাচাপলীর হাতেম আলী স. প্রাথমিক বিদ্যালয়। পানি উন্নয়ন বোর্ডের দুর্নীতি, ঠিকাদারদের নি¤œমানের কাজের কারনে বাঁধগুলো পুন:রায় বিবধস্ত হয়েছে। স্থায়ী বাঁধ নির্মান করে পানিবন্দি মানুষদের রক্ষায় উপজেলা পরিষদের উন্নয়ন সভায় এবং পানি উন্নয়ন বোর্ডকে অবহিত করেও কোন ফল পাওয়া যাচ্ছেনা এমন অভিযোগ লালুয়া ইউপি চেয়ারম্যান মীর তারিকুজ্জামান তারা, চম্পাপুর ইউপি চেয়ারম্যান রিন্টু তালুকদার ও লতাচাপলী ইউপি চেয়ারম্যান সাইয়েদ ফকিরের।

বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড, কলাপাড়া অঞ্চলের নির্বাহী প্রকৌশলী মো: আবুল খায়ের জানান, সরেজমিনে পরিদর্শন করে প্রকৃত অবস্থা উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। আর খুব শ্রীঘ্রই স্থায়ী রিং বাঁধ নির্মান করা হবে।