আয়াদের চিকিৎসায় আমতলীতে ২ প্রসূতির মর্মান্তিক মৃত্যু

0

2

আমতলী প্রতিনিধিঃ বরগুনার আমতলী উপজেলার পাতাকাটা গ্রামে আয়াদের চিকিৎসায় লাইলী বেগম ও পারভীন বেগম নামের দু’ প্রসূতির মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। স্থানীয় সূত্র জানায়, উপজেলার পাতাকাটা গ্রামের সামসুল আলমের (সবুজ) স্ত্রী লাইলী বেগমের গত শুক্রবার সকালে প্রসব বেদনা শুরু হয়। এ সময় লাইলির পরিবার আমতলী হাসপাতালের অবসরপ্রাপ্ত আয়া নুরজাহানকে নিয়ে আসে। আয়া প্রসূতির অবস্থা দেখে রক্তচাপ না মেপে আইভি স্যালাইন ও ইনজেকশন পুশ করেন। এতে লাইলি বেগম আরো অসুস্থ হয়ে পড়েন। উপায় না পেয়ে আয়া নুরজাহান রোগী নিয়ে পটুয়াখালী হাসপাতালে যাওয়ার পরামর্শ দিয়ে ঐ বাড়ি থেকে চলে আসেন। ঐদিন সন্ধ্যায় লাইলির পরিবার তাকে অ্যাম্বুলেন্সে করে পটুয়াখালী নেয়ার পথে তার মৃত্যু হয়। লাইলির বাবা চান মিয়া অভিযোগ করে বলেন, আমতলী হাসপাতালের আয়া নুরজাহান স্যালাইন ও ইনজেকশন দেয়ার পরে আমার মেয়ে অসুস্থ হয়ে পড়ে। এরপর সে কোনো চিকিৎসা না দিয়ে চলে যায়। তিনি আরও বলেন, আয়ার ভুল চিকিৎসায় আমার মেয়ের মৃত্যু হয়েছে। স্বামী সামসুল আলম সবুজ একই অভিযোগ করেন। অভিযুক্ত নুরজাহান বেগম বলেন লাইলীর রক্তচাপ (বিপি) পরীক্ষা না করে আইভি স্যালাইন তার শরীরে পুশ করি। এতে সে অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে পটুয়াখালীতে দ্রুত নিয়ে যাওয়ার জন্য পরামর্শ দিয়ে চলে আসি। অপরদিকে পাতাকাটা গ্রামের সুলতান হাওলাদারের মেয়ে পারভীন (৩৫) চিকিৎসার অবহেলায় অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে গত ২২ অক্টোবর মারা গেছেন। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার আড়পাঙ্গাশিয়া গ্রামের জসীম উদ্দিনের সাথে পারভীনের বিয়ে হয়। পারভীনের পরপর ৩টি কন্যা সন্তান রয়েছে। চতুর্থ সন্তান প্রসবের পূর্বে জসীম পারভীনকে বাবার বাড়িতে পাঠিয়ে দেন। তাকে শর্ত দেন, এ বার তার কন্যা সন্তান জন্ম নিলে তাকে আর বাড়ি ফিরিয়ে নিবে না। পারভীনের ভাগ্যের নির্মম পরিহাস, এবারেও তিনি কন্যা সন্তান প্রসব করেন। গ্রামের হাতুরে দাই মোর্শেদার প্রসবকালীন চিকিৎসায় অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে পারভীনের মৃত্যু হয়। পিতা হারা পারভীনের মা আমেনা বেগম বলেন, মোরা গরিব মানুষ মাইয়ার ভাল চিকিৎসার টাহা যোগার হরতে পারি নাই, রক্ত শূন্যতায় মইর‌্যা গেছে। তিনি আরও বলেন মাইয়্যা মইরা গ্যাছে, মাইয়্যা আর পামু না, এ্যা লইয়্যা আর কতা কমুনা। অভিযুক্ত পারভীনের স্বামী জসীম উদ্দিন বলেন, আমার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ মিথ্যা। আমতলী উপজেলা স্বাস্থ্য প্রশাসক ডা. এম এ মতিনের বক্তব্য নেয়ার জন্য মোবাইল ফোনে বার বার চেষ্টা করার পরেও ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।