ইউপি নির্বাচন বাউফলে আ’লীগ প্রার্থীদের দৌড়ঝাঁপ শুরু

2

8অতুল পাল, বিশেষ প্রতিনিধি : বাউফলে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের সম্ভাব্য প্রার্থীরা দলীয় মনোনয়ন লাভের আশায় দৌড়ঝাঁপ শুরু করে দিয়েছেন। মনোনয়ন পেতে তারা নিজেদের যোগ্যতা প্রমাণে সিনিয়র নেতৃবৃন্দের দারস্থ হচ্ছেন। বিএনপি কিংবা অন্য কোন দল এ বিষয়ে দৃশ্যত: এখনো কোন কার্যক্রম শুরু না করলেও আওয়ামী লীগের মধ্যে এ প্রক্রিয়া শুরু হয়ে গেছে।

বাউফল উপজেলা নির্বাচন অফিস সূত্রে জানা গেছে, ২০১১ সালের ২৯ মার্চ বাউফলের ১৪টি ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছিল। সে হিসেবে চলতি বছরের ২৮ মার্চ ওই ইউনিয়নগুলোর মেয়াদ উত্তীর্ণ হবে। মেয়াদ উত্তীর্ণ হওয়ার ৯০ দিনের মধ্যে নির্বাচন করার বিধান থাকায় ফেব্রুয়ারীর শেষ দিকে কিংবা মার্চ মাসেই নির্বাচন হবে। বাউফলে চন্দ্রদ্বীপ নামে আরো একটি ইউনিয়ন গঠিত হওয়ায় এখন ১৫টি ইউনিয়নেই নির্বাচন হবে বলে নির্বাচন কমিশন অফিস জানিয়েছেন। তবে বাউফল পৌরসভার সিমানা নির্ধারন নিয়ে উচ্চতর আদালতে মামলা থাকায় দাশপাড়া, নাজিরপুর, বাউফল সদর ও মদনপুরা ইউনিয়নে নির্বাচন হবে কিনা সেটা ষ্পষ্ট নয়। বাউফলের নির্বাচন অফিস অবশ্য এবিষয়ে এখনো কোন নির্দেশনা পানানি বলে এ প্রতিনিধিকে জানিয়েছেন। কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের স্থানীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটি ইতিমধ্যেই দলীয় প্রতীকে ইউপি নির্বাচন অনুষ্ঠান ও প্রার্থী মনোনয়ন পদ্ধতি ঠিক করে ফেলেছেন। ওই পদ্ধতি অনুসারে স্ব-স্ব ইউনিয়নের সভাপতি ও সম্পাদক, উপজেলা কমিটির সভাপতি ও সম্পাদক এবং জেলা কমিটির সভাপতি ও সম্পাদক সুপারিশসহকারে প্রার্থীদের তালিকা কেন্দ্রীয় কমিটির কাছে পাঠাবেন। এক্ষেত্রে প্রভাব রাখার অজুহাতে স্থানীয় সংসদ সদস্যদের কোন প্রকার ভূমিকা রাখার অধিকার থেকে দুরে রাখা হয়েছে। কিন্তু দেশের অনেক উপজেলায়ই স্থানীয় সংসদ সদস্য সভাপতি কিংবা সাধারন সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করে আসছেন। এঅবস্থায় প্রার্থী বাছাইয়ে তাদের কি ভূমিকা থাকবে সেটা এখনো ষ্পষ্ট নয়।

বাউফলে গত ইউপি নির্বাচনে উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ আ স ম ফিরোজ তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মীদের মতামতের ভিত্তিতে উপজেলা আওয়ামী লীগের সভায় ১৪টি ইউনিয়নে মনোনয়ন ঘোষণা দিয়েছিলেন। ওই নির্বাচনে ১৪টির মধ্যে ১২ টি ইউনিয়নেই আওয়ামী লীগ মনোনিত প্রার্থীরা জয়ী হয়েছিলেন। বাকি ২টি ইউনিয়নে বিএনপি প্রার্থী জয়ী হন। ইতিমধ্যেই আ স ম ফিরোজ উপস্থিত থেকে উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে সভা সমাবেশ করে তৃণমূলের মতামত নিয়েছেন। এরই ধারাবাহিকতায় গত ১৬ জানুয়ারী চিফ হুইপ আ স ম ফিরোজের কালাইয়াস্থ বাসভবনে উপজেলার ১৫টি ইউনিয়নের মনোনয়ন প্রত্যাশীরা উপস্থিত হয়ে রুদ্ধদার বৈঠক করে তাদের স্ব-স্ব ইউনিয়নের সার্বিক পরিস্থিতি উপস্থাপণ করে নিজেদের অবস্থান পরিস্কার করেছেন। একটি সূত্র জানিয়েছেন, ওই সভায় ১৫টি ইউনিয়নের পক্ষ থেকে ৬৪ জন মনোনয়ন প্রত্যাশী বক্তব্য রেখেছেন। জানা গেছে, চিফ হুইপ ওই সভায় নির্দিষ্ট করে কাউকে মনোনয়ন না দিয়ে দল থেকে যাকেই মনোনয়ন দেয়া হবে তার পক্ষে সকলকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করার নির্দেশনা দিয়েছেন ।

এদিকে, ২০১৩ সালের ২২ মে বাউফল পৌরসভা নির্বাচনের পর উপজেলায় আওয়ামী লীগের অবস্থান কিছুটা পাল্টে গেছে। ২০১৪ সালের ১০ নভেম্বর পটুয়াখালী জেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলনে বাউফলের মেয়র জিয়াউল হক জুয়েল সাংগঠনিক সম্পাদক পদ লাভ করে চিফ হুইপের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে কম বেশি আধিপত্য বিস্তার করে কিছু নেতাকর্মীদের পক্ষে আনতে সক্ষম হয়েছেন। এরফলে বাউফলে আওয়ামী লীগের মধ্যে চিফ হুইপ ও মেয়র গ্রুপ সৃষ্টি হয়ে তাদের মধ্যে দ্বন্দ প্রকাশ্য রুপ পেয়েছে। একটি সূত্র জানিয়েছেন, জেলা পর্যায়ের কমিটিতে চিফ হুইপের থেকে মেয়রের প্রভাব বেশি রয়েছে। একারনে আসন্ন ইউপি নির্বাচনে বাউফলের প্রার্থী বাছাইয়ে কঠিন জটিলতা দেখা দিতে পারে। অপর একটি সূত্র জানিয়েছেন, বাউফলের ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যানসহ সদস্য পদে মেয়র এবং উপজেলা চেয়ারম্যান এক জোট হয়ে চিফ হুইপ সমর্থিত প্রাথীর বিপক্ষে তাদের সমর্থিত ব্যাক্তিদের মনোনয়ন দেয়ার প্রতিযোগিতা করবেন । এমনই পরিস্থিতিতে চিফ হুইপ ও মেয়র পক্ষ একে অপরের প্রার্থী বাছাই প্রক্রিয়ার দিকে চেয়ে রয়েছেন। বাউফলে গুঞ্জন রয়েছে, চিফ হুইপ থেকে কেউ মনোনয়ন চেয়ে না পেলে সে মেয়রের দলে যোগ দিয়ে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দীতা করার সুযোগ খুঁজবেন। স্থানীয় এ নির্বাচনে চিফ হুইপ এবং মেয়র তাদের প্রার্থীদের জয়ী করতে মরিয়া হয়ে উঠবেন। ফলে নির্বাচনের সময় আইন শৃংখলা পরিস্থিতিরও চরম অবনতিসহ যে কোন অনাকাংখিত পরিস্থিতি-পরিবেশের সৃষ্টি হতে পারে বলে স্থানীয় অভিজ্ঞজনরা আশংকা করছেন। এদিকে ইউপি নির্বাচনে প্রার্থী বাছাই প্রক্রিয়া কি হবে সে বিষয়ে উপজেলা বিএনপি এখনো চুপচাপ রয়েছেন। তবে তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মীরা কিছুটা সরব হয়ে উঠেছেন। তাদের মধ্যে সম্ভাব্য প্রার্থীরা সিনিয়র নেতৃবৃন্দের সাথে যোগাযোগ রক্ষা করে চলেছেন।