ইজ্জ্বত বাঁচাতে মামলা ॥ মামলা তুলে নিতে প্রাণনাশের হুমকি

0

বিশেষ প্রতিনিধি ঃ নিজের ইজ্জ্বত বাঁচাতে মামলা করে বিপাকে পড়েছেন তিন সন্তানের জননী গৃহবধূ সুমতি রানী (৩০)। মামলা তুলে নেওয়ার জন্য আসামি ও তাদের আত্মীয়-স্বনদের অব্যাহত হুমকি ও প্রাণনাশের ভয়ে বাড়িঘর ছেড়ে এখন পালিয়ে বেড়াচ্ছেন ওই গৃহবধূ। গতকাল শনিবার সকালেও সদর থানায় গিয়ে পুলিশকে বিষয়টি অবহিত করেন তিনি। ঘটনার আট দিন অতিবাহিত হয়ে গেলেও এখন পর্যন্ত কোন আসামি গ্রেফতার না হওয়ায় তিনটি অবুঝ শিশু সন্তান নিয়ে সুমতি রানী চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভূগছেন। তবে, পুলিশ বলছে, আসামিদের গ্রেফতারের অভিযান চলছে।

গৃহবধূ সুমতি রানী জানান, অবুঝ তিন শিশু সন্তানকে নিয়ে তিনি পটুয়াখালী সদর উপজেলার বড়বিঘাই ইউনিয়নের কেওড়াবুনিয়া গ্রামে স্বামীর ভিটায় বসবাস করছেন। স্বামী বিধান চন্দ্র শীল মানসিক ভারসম্যহীন হওয়ায় ঢাকায় শ্য্যালকের বাসায় থাকেন। এ সুযোগে সুমতি রানীর উপর লোলুপ দৃষ্টি পড়ে স্থানীয় কতিপয় ব্যক্তির। আসামীগণ গত ২৯ এপ্রিল রাত আনুমানিক সাড়ে ১২টার দিকে ঘরের দরজা ভেঙ্গে ভিতরে ঢুকে গৃহবধূ সুমতি রানীকে টেনে হিচরে বাড়ির বাগানের মধ্যে নিয়ে তাঁর শ্লীলতাহানি ঘটায়। এ ঘটনার পর বিচারের দাবিতে সমাজের গণ্যমান্য ব্যক্তিদের কাছে দ্বারে দ্বারে ঘুরেও কোন প্রতিকার পায়নি সুমতি রানী। ৩ মে (মঙ্গলবার) পুলিশ সুমতির অভিযোগটি এজাহার হিসেবে গ্রহণ করে। এতে আসামি করা হয় চারজনকে। এরা হচ্ছেন, জাহিদুল ইসলাম (২০), শান্তি রঞ্জন শীল (৩৮), নাজমুল (২১) ও আকবর চৌকিদার (২২)। এদের সবার বাড়ি কেওড়াবুনিয়ার একই এলাকায়।

এদিকে এর আগে গত ২০ ফেব্রুয়ারি সকাল ১০টার দিকে সুমতি রানীকে হত্যার চেষ্টা করেন শান্তি রঞ্জন শীলসহ অন্যান্যরা। এ ঘটনায় তিনি পটুয়াখালীর নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতে ১০৭ ধারা করেন একই এলাকার শান্তি রঞ্জন শীল (৩৮), সুভাষ চন্দ্র শীল ((২০), মানিক চন্দ্র শীল ((৫২), মনোরঞ্জন শীল (৪৭), মাখন চন্দ্র শীল (৪২), বাবুল চন্দ্র শীল (৩১), পরিমল চন্দ্র শীল (৩৬) এর বিরুদ্ধে। কিন্তু কোন অভিযোগেই কিছু হচ্ছেনা ওইসব ব্যক্তিদের।

এ ব্যাপারে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান অহিদুজ্জামান মজনু মোল্লা জানান, আসামিরা এলাকার বখাটে ও দুঃচরিত্রের লোক। এদের উৎপাতে এলাকার কোন বউ-ঝি স্বাভাবিকভাবে চলাফেরা করতে পারেন না। ওদের হাত থেকে ইজ্জ্বত বাঁচাতে গৃহবধূ সুমতি রানী মামলা পর্যন্ত করতে বাধ্য হয়েছেন। এদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য পুলিশকেও বলা হয়েছে।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এস.আই হুমায়ুন কবির জানান, আসামিদের গ্রেফতারের অভিযান চলছে। আশা করি ওরা খুব তাড়াতাড়ি পুলিশের হাতে ধরা পড়বে।