উন্নয়নের ছোঁয়া লাগেনি দক্ষিণ জনপদের ঐতিহ্যবাহি কালাইয়া বন্দরে

13

 

অতুল পাল, বিশেষ প্রতিনিধি বাউফল: প্রায় এক দশক হতে চললো উন্নয়নের কোন ছোঁয়া লাগেনি দেশের দক্ষিণ জনপদের ঐতিহব্যবাহি ব্যাবসা কেন্দ্র বাউফলের কালাইয়া বন্দরে। অথচ প্রতিবছরই এ বন্দরটি থেকে সরকার কোটি কোটি টাকা রাজস্ব আদায় করে নিচ্ছেন। বন্দরটির রাস্তাঘাটসহ অন্যান্য অবকাঠামোর দৈন্যদশার কারণে দেশের অন্যান্য অঞ্চল থেকে ব্যাবসায়িরা আসা যাওয়া কমিয়ে দিচ্ছে। ফলে ব্যবসায়িক মন্দায় পড়েছে স্থানীয় ব্যবসাইরা।

ঐতিহাসিকদের মতে, সপ্তদশ শতাব্দিতে বাকলার রাজধনী ছিল চন্দ্রদ্বীপ নামক স্থানে। তখন রাজ্যের রানী ছিলেন কমলা রানী। তাঁর স্বামীর নাম ছিল কালাই রাজা। তাঁরই নামানুসারে কালাইয়া বন্দরটি স্থাপিত হয়েছিল। নদী বেষ্টিত হওয়ায় ঐতিহাসিকভাবেই দেশের দক্ষিণাঞ্চলে অন্যতম বৃহত্তম বাণিজ্য কেন্দ্র হিসেবে কালাইয়া বন্দরটির খ্যাতি রয়েছে। বন্দরটিতে ৪০টির মতো ছোট-বড় সড়ক, দুই সহা¯্রাধিক ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, প্রাথমিক থেকে উচ্চতর শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, বিভিন্ন ব্যাংক-বীমাসহ নানা ধরণের প্রতিষ্ঠান রয়েছে। সপ্তাহের প্রতি সোমবার বন্দরটিতে হাট বসে। দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে গরু-মহিষ, ধান ও ভূষা মাল ক্রয়-বিক্রয় করেত এখানে শত শত ক্রেতাবিক্রেতারা আসেন। বিগত এক দশক ধরে প্রতি বছর বন্দরটি থেকে সরকার প্রায় কোটি টাকা রাজস্ব আদায় করছেন। দীর্ঘদিন পর্যন্ত বন্দরটির সড়কগুলো ভাঙ্গাচূরা অবস্থায় থাকায় যানবাহনগুলো ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছে। অনেক সড়ক আছে যেগুলো মাটির সাথে মিশে গেছে। ফলে প্রায়ই ঘটছে দুর্ঘটনা। এরকম একটি বন্দরে অতিথিদের থাকার নেই কোন বন্দোবস্ত। সত্তরের দশকের শেষের দিকে জেলা পরিষদের একটি ডাকবাংলো নির্মাণ করা হয়েছিল যেটি এখন ধংসস্তুপে পরিণত হয়েছে। নেই কোন আধুনিক শৌচাগার। বন্দরের উত্তর ও পশ্চিম পাশ দিয়ে প্রবাহিত খাল এবং বাজারের প্রায় ২০টির মতো সরকারি হালট দখলবাজরা দখল করে নিয়েছে। ফলে বর্ষা মৌসুমে রাস্তাঘাটের জল নিষ্কাশন হতে না পেরে জলমগ্ন হয়ে পরে বন্দরবাসিসহ বিভিন্ন স্কুল কলেজ। বর্ষা মৌসুমে কোমর সমান পানির মধ্যে গুরু-মহিষের হাট বসে। ধানের বাজারে ইট-সুরকি রাখার কারণে বন্ধ হয়ে যাওয়ার উপক্রম হতে চলেছে ধান বাজার। কালাইয়া বন্দরের ব্যাবসায়িক সুনাম জেনে দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে ব্যাবসায়িরা এখানে এসে পরিবেশ দেখে তারা মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছে বলে স্থানীয় ব্যাবসায়িরা জানিয়েছেন। ঐতিহ্যবাহি এ বন্দরটির সুনাম অক্ষুন্ন রাখতে দ্রুত বন্দরটির সার্বিক উন্নয়ন করা দরকার বলে স্থানীয়রা মনে করছেন। অন্যথায় প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে পারবেনা এখানকার ব্যাবসায়িরা এবং সুনামও ধরে রাখা সম্ভব হবেনা।

এবিষয়ে স্থানীয় চেয়ারম্যান এসএম ফয়সাল আহমেদ জানান, কালাইয়া বন্দরের সার্বিক উন্নয়নে উপজেলা পরিষদসহ সরকারের বিভিন্ন দপ্তরে একাধিকবার আবেদন নিবেদন করা হয়েছে কিন্তু কোন বরাদ্দ দেয়া হচ্ছেনা। বাউফলের এমপি ও জাতীয় সংসদের চীফ হুইপ আ.স.ম. ফিরোজ বলেন, কালাইয়া বন্দর আমার জন্মস্থান। বাউফলের অন্যান্য এলাকার উন্নয়ন করা হয়েছে। এবারে কালাইয়া বন্দরের উন্নয়ন নিয়ে প্রকল্প হাতে নেয়া হয়েছে। শীঘ্রই রাস্তাঘাটসহ অন্যান্য অবকাঠামো উন্নয়নের কাজ শুরু হবে।