উন্নয়নের মন্ত্র-শেখ হাসিনা তন্ত্র,শান্তির মন্ত্র-শেখ হাসিনা তন্ত্র প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে দক্ষিনাঞ্চলের সকল উন্নয়ন কাজ নিশ্চিত করা হবে-এলজিইডি সচিব

8

বিশেষ প্রতিনিধি ঃ স্থানীয় সরকার পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রনালয়ের স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব আবদুল মালেক বলেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে পটুয়াখালীসহ দক্ষিনাঞ্চলের সকল উন্নয়ন কর্মকান্ড নিশ্চিত করা হবে। পটুয়াখালী হবে অর্থনীতির চালিকা শক্তি। সেদিন বেশী দুরে নয় যেদিন আমাদের তরুনরা বিদেশে পাড়ি না জমিয়ে পটুয়াখালীতে থেকেই বিপুল পরিমান অর্থ আয় করবে। তিনি বলেন সারা বিশ্বের কাছে আজ প্রমানিত হয়েছে “ উন্নয়নের মন্ত্র-শেখ হাসিনা তন্ত্র,শান্তির মন্ত্র-শেখ হাসেনা তন্ত্র”। স্থানীয় সরকার সচিব নিজ জেলা পটুয়াখালীতে দুই দিনের সফরে এসে আজ প্রথম দিন শনিবার সকাল ১০টায় পটুয়াখালী পৌরসভা আয়োজিত উন্নয়ন সংক্রান্ত মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। তিনি আরও বলেন, জাতির পিতার সোনার বাংলা গড়তে সিভিল সার্ভিসের একজন কর্মকর্তা হিসেবে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে দিনরাত কাজ করে যাচ্ছেন তিনি।

প্রধান অতিথি বলেন প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ একটি দূর্বলতা রয়েছে দক্ষিনাঞ্চলের প্রতি। তাই তিনি এ জেলায় দেশের তৃতীয় পায়রা সমুদ্র বন্দর নির্মান করেছেন। একই এলাকায় ১৩২০ মেগাওয়ার্ট তাপবিদুৎ কেন্দ্র নির্মান কাজ শুরু হয়েছে। তালতলীতে জাহাজ ভাঙ্গা শিল্প নির্মান করা হবে। পদ্মা সেতুর সুফল সবচেয়ে বেশী ভোগ করবে দক্ষিনাঞ্চলের মানুষ উল্লেখ করে তিনি আরো বলেন,এই অঞ্চলের রাস্তাঘাট,পুল কালভার্ডসহ যে সকল কাজবাকী রয়েছে তা তিনি নিজে উদ্যোগী হয়ে সম্পন্ন করবেন। রাজধানীর বাইরের কোন জেলা হিসেবে পটুয়াখালীতেই প্রথম ফুট ওভার ব্রীজ নির্মান করা হবে বলে সভায় জানান তিনি। পটুয়াখালীর বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যে সকল সমস্যা রয়েছে তা দুর করা হবে বলেও আশ্বাস দেন তিনি।

 

পটুয়াখালী পৌরসভা প্রাঙ্গনে পৌর মেয়র ডাঃ মোঃ শফিকুল ইসলামের সভাপতিত্বে মত বিনিময় সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রশাসক অমিতাভ সরকার, পুলিশ সুপার সৈয়দ মোশফিকুর রহমান, জেলা পরিষদ প্রশসক ও জেলা আওয়ামী লীগ সাধারন সম্পাদক খান মোশাররফ হোসেন। অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন পৌর কর্মচারী ইউনিয়ন সভাপতি এস. এম শাহীন, বাউফল পৌর মেয়র জিয়াউল হক জুয়েল, সদর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান এডভোকটে তারিকুজ্জামান মনি, জেলা আওয়ামী লীগ যুগ্ম সম্পাদক কাজী আলমগীর, পটুয়াখালী সরকারী কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর এম. নুরুল ইসলাম প্রমুখ।

এর আগে সকালে স্থানীয় সরকার সচিব জেলার লেবুখালী পয়েন্টে পটুয়াখালী জেলা গেট নির্মান কাজের ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন করেন। পরে সার্কিট হাউসের সামনে পৌরসভার ২২ কোটি টাকার উন্নয়ন প্রকল্পের ভিত্তি প্রস্তর, পৌর অডিটরিয়ামের ভিত্তি প্রস্তর ও শহীদ স্মৃতি স্তম্ভ পূণনির্মান ও বঙ্গবন্ধুর মুরাল নির্মান কাজের ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন করেন।

 

সকাল সাড়ে ৯টা থেকে পটুয়াখালী পৌরসভা প্রাঙ্গন পরিনত হয় হাজারো মানুষের মিলন মেলায়। পৌরসভার বিভিন্ন ওয়ার্ড থেকে শত শত মানুষ ¯্রােতের মতো মিলিত হতে থাকে পৌরসভা প্রাঙ্গনে। বিভিন্ন স্কুল কলেজ থেকে শিক্ষার্থীরা এসে যোগ দেয় অনুষ্ঠান স্থলে। সচিব আবদুল মালেককে এক নজর দেখতে তারা ভীড় জমায় মঞ্চের সামনে।

 

পৌরসভার এক নম্বর ওয়ার্ড থেকে আসা বৃদ্ধ শাহজাহান হাওলাদার জানান, তিনি কোন দাওয়াত পাননি এই অনুষ্ঠানের। লোকের মুখে শুনে তিনি এই অনুষ্ঠানে এসেছেন সচিব আবদুল মালেককে দেখার জন্য। কষ্ট করে কেন এলেন এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, যে লোকটি পৌরসভার উন্নয়নের জন্য এত কিছু করছে তাঁকে দেখতে খুব ইচ্ছে করায় চলে এসেছেন। পটুয়াখালী সরকারী কলেজের শিক্ষক সেলিনা আকতার জানান, তিনি অনেক শিক্ষার্থীদের নিয়ে এখানে এসেছেন। কাছ থেকে বড় মাপের এমন একজন কর্মকর্তাকে দেখলে শিক্ষার্থীরাও ভবিষ্যতে তার মতো বড় হওয়ার স্বপ্ন দেখবে বলে মনে করেন তিনি।

পটুয়াখালী পৌরসভার কাউন্সিলর দেলোয়ার হোসেন আকন জানান, পৌরসভার দৃশ্যমান যে উন্নয়ন আজ হচ্ছে তার সব কিছুর সাথে সচিব আবদুল মালেক জড়িত রয়েছেন। তিনি না থাকলে পৌরসভার এ উন্নয়ন করা সম্ভব হতো না। তিনি বলেন পৌর মেয়র ডাঃ মোঃ শফিকুল ইসলামের নেতৃত্বে আগামী দিনে পটুয়াখালীবাসী একটি মডেল পৌরসভা উপহার পাবে।##