উৎসাহ উদ্দিপনায় পটুয়াখালীতে রাস উৎসব

0

pic-2

ডেস্ক রিপোর্ট : ব্যাপক উৎসাহ উদ্দিপনা ও ধর্মীয় ভাব গাম্ভীর্য্যরেসাথে পটুয়াখালীতে পালিত হলো হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম ধর্মীয় উৎসব শ্রী কৃষ্ণের রাস লীলা উৎসব। বিভিন্ন প্রতিনিধির রিপোর্ট……
আবুল হোসেন রাজু, কুয়াকাটা : নানা আয়োজনের মধ্যে দিয়ে কুয়াকাটায় পালিত হলো শ্রী কৃষ্ণের রাস লীলা উৎসব। গতকাল বুধবার বরিশাল বিভাগীয় কমিশনার মোঃ গাউস প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে এ উৎসবের উদ্বোধন করেন। রাতভর চলবে শ্রী কৃষ্ণের নাম যজ্ঞানুষ্ঠান, সূর্যোদয়ের সাথে সাথে সাগরে পূন্য ¯œান করবেন লাখো পূন্যার্থী। গত মঙ্গলবার বিকেলে কুয়াকাটা রাধাগোবিন্দ সেবাশ্রমে পুজার্চনার মধ্যে দিয়ে তিন দিন ব্যাপী এ উৎসব শুরু হয়।
তিন দিন ব্যাপী এ রাস লীলা উৎসবে দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে প্রায় লক্ষাধিক পূন্যার্থী ও দর্শনার্থীর সমাগম হয়েছে বলে জানিয়েছেন রাস উদযাপন কমিটি। বুধবার সকাল ৬ টা ৪২ মিনিটে পূর্ণিমার লগ্ন লাগার সাথে হাজার হাজার পূন্যার্থীরা উলু ধ্বনি দিতে দিতে এক যোগে সমুদ্রে গঙ্গাস্নানে ঝাঁপিয়ে পরেন। সমুদ্রে স্নান শেষে শ্রী শ্রী রাধা কৃঞ্চের যূগল দর্শন করে বিভিন্ন এলাকা থেকে আগত পূণ্যার্থী ও দর্শনার্থীরা নিজ নিজ গন্তব্যে যেতে শুরু করেন। তবে শ্রী শ্রী রাধা কৃঞ্চ মন্দির কমিটি জানিয়েছেন বুধবার দিনগত রাত ৪ টা ৪৬ মিনিটে পূর্নিমার লগ্ন থাকাকালীন পর্যন্ত গঙ্গাস্নান উৎসব চলবে। আজ (বৃহস্পতিবার) সকালে শেষ হবে এ উৎসব। স্থাণীয় প্রশাসনের উর্ধ্বতন কর্মকর্তা,রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও জাতীয় পার্টির সাবেক মহাসচিব রুহুল আমীন হাওলাদার শ্রী শ্রী রাধা কৃঞ্চ মন্দির ও মেলা পরিদর্শন করেছেন।
মেলায় বিভিন্ন এলাকা থেকে প্রায় ৩ শতাধিক ভাসমান দোকানিরা রং বে রংঙের বাহারি মেলার সামগ্রীর পসরা বসিয়ে ছিল। অপরদিকে কুয়াকাটা হোটেল মোটেল সুত্রে জানান,এ বছর রাস মেলা ও গঙ্গাস্নান উৎসবে একাধিক আবাসিক হোটেলের রুম খালি রয়েছে। মেলা উপলক্ষে ভিআইপি ও প্রথম শ্রেনীর পর্যটক এবং দর্শনার্থীরা কুয়াকাটায় এবার খুবই কম এসেছে। অন্যান্য বারের চেয়ে এ বছর মেলায় ব্যবসায়ীদের বেচা কেনা খুবই কম হয়েছে বলে দাবি করেন তারা । গত বারের চেয়ে এবছর পূণ্যার্থীদের আগমন ছিল অনেক কম। প্রশাসনের পক্ষ থেকে রাস মেলায় আগত পূণ্যার্থীদের নিরাপত্তা দিতে আনসার ভিডিপি,পুলিশ,র‌্যাব,গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা নিরাপত্তার চাদরে ঢেকে ফেলে পর্যটন নগরী কুয়াকাটাকে। বিভিন্ন পয়েন্টে চেক পোষ্ট এর মাধ্যমে পূন্যার্থীদের নজর রাখা হয়েছে।
কুয়াকাটা শ্রী শ্রী রাধা কৃঞ্চ মন্দিরের পরিচালক ও পুরোহিত শিশির মহারাজ জানান, বুধবার সকালে পূর্ণিমার লগ্ন শুরু হওয়ার পর পরই বেশির ভাগ পূণ্যার্থীরা স্নান সেরে যার যার গন্তব্যে চলে গেছে। বুধবার যে সব পূন্যার্থীরা রাস উৎসবে যোগ দিতে এসেছেন,তারা পূর্ণিমার লগ্ন শেষ হওয়া পর্যন্ত স্নান শেরে বৃহস্পতিবার ভোরে কুয়াকাটা ত্যাগ করবেন।
কামরুল হাসান, রাঙ্গাবালী : রাঙ্গাবালী উপজেলার সোনারচরে গতকাল বুধবার সূর্যোদয়ের মহেন্দ্রক্ষনে পুণ্যস্নানের মধ্য দিয়ে রাস উৎসব উদযাপন করেছে হিন্দুধর্মাবলম্বিরা। বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা কয়েক হাজার হিন্দু ধর্মাবলম্বী নারী-পুরুষ গতকাল ভোরে স্নানের মাধ্যমে তাদের পাপ মোচনে ব্রত হন। পুণ্যস্নান শেষে ভক্তরা সোনারচরে রাস মেলায় যোগ দেন তারা। সন্ধ্যা পর্যন্ত চলবে এ উৎসব।
আয়োজকরা জানান, রাঙ্গাবালীর সমুদ্র সৈকত সোনারচরে দ্বিতীয় বার অনুষ্ঠিত হল রাস উৎসব। গত বছরের চাইতে দিগুন পুণ্যার্থী এবার সোনারচরে এসেছে। রাস উৎসবকে ঘিরে সোনারচরকে সাজানো হয়েছে নানা সাজে। এ ব্যাপারে রাঙ্গাবালী থানার (ওসি) মনির হোসেন জানান, দর্শনার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তিনিসহ পুলিশের একটি টিম সোনারচরে আছেন।
এছাড়া শ্রী কৃষ্ণের রাস লীলা উপলক্ষে ভবতারন সেবাসংঘ পটুয়াখালী জেলা শাখার আয়োজনে পটুয়াখালীর শ্রী শ্রী মদন মোহন জিঁউর আখড়া বাড়ীতে চলছে ১১দিন ব্যাপী উৎসব।