একটি ব্রিজের জন্য কয়েক হাজার মানুষের দুর্ভোগ

3

অতুল পাল, বাউফল বিশেষ প্রতিনিধি: পটুয়াখালী বাউফলের কনকদিয়া ও সূর্যমনি ইউনিয়নের মধ্যে সংযোগ স্থাপনকারী একটি ব্রিজের স্লিপার দুই বছর পর্যন্ত ভেঙ্গে জরাজীর্ণ অবস্থায় পরে থাকার কারণে হাজার হাজার মানুষ সীমাহীন দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কয়েক হাজার মানুষ ও শিক্ষার্থী দৈনিক ওই ব্রিজটি পারাপার হলেও মেরামতের কোন উদ্যোগ নেয়া হচ্ছেনা।

সরেজমিন দেখা গেছে, বাউফলের কনকদিয়া ও সূর্যমনি ইউনিয়নের মধ্যে সংযোগ স্থাপনকারী হাসেম মাষ্টার বাড়ির পাশের খালে নির্মিত ব্রিজটির স্লিপার প্রায় দুই বছর ধরে ভাঙ্গা অবস্থায় পরে রয়েছে। ব্রিজটি মেরামত না করায় এলাকাবাসি ছাড়াও উত্তর কনকদিয়া আলিম মাদ্রাসা, উত্তর কনকদিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ইন্দ্রকুল মাধ্যমিক বিদ্যালয়, পশ্চিম ইন্দ্রকুল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, পশ্চিম ইন্দ্রকুল বালিকা দাখিল মাদ্রসা এবং রাজাপুর বালিকা দাখিল মাদ্রসার শিক্ষার্থীরা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে দৈনন্দিন পারাপার হচ্ছে। ব্রিজটি পারাপার হতে গিয়ে প্রায়শ:ই ঘটছে দুর্ঘটনা। ৪৫ নং উত্তর কনকদিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারি শিক্ষক রেজাউল করিম জানান, ব্রিজটির জরাজীর্ণতার কারণে দিনদিন তাঁর স্কুলে শিক্ষার্থী সংখ্যা কমে যাচ্ছে। মমতাজ বেগম নামের এক অভিভাবক জানান, প্রতিদিন তার সন্তানকে কোলে নিয়ে ব্রিজটি পারাপার করে স্কুলে পাঠাতে হচ্ছে। ওই এলাকার প্রথম শ্রেণির শিক্ষার্থী অরিয়ান ও মারুফ জানায়, স্কুলে যাওয়া-আসার সময় ব্রিজটি পারাপার হতে ভয়ে তাদের প্রাণ কাঁপে।

শুধু শিক্ষার্থী নয়, সূর্যমনি ইউনিয়নের রামনগর ও ইন্দ্রকুল, কনকদিয়া ইউনিয়নের উত্তর কনকদিয়া এবং কালিশুরী ইউনিয়নের রাজাপুরসহ ৬/৭টি গ্রামের কয়েক শত মানুষ প্রতিদিন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ব্রিজটি পারাপার হচ্ছেন। উত্তর কনকদিয়া আলিম মাদ্রসার উপাধ্যক্ষ মাসুদুর রহমান ও সিনিয়র শিক্ষক মোজাম্মেল হোসেন জানান, প্রতিদিনই ঝুঁকি নিয়ে ব্রিজটি পারাপার হয়ে মাদ্রসায় আসতে হয়। এলাকাবাসীরা দ্রুত ব্রিজটি মেরামতের আবেদন জানাচ্ছেন। এ প্রসঙ্গে বাউফল উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোহম্মদ আবদুল্লাহ আল মাহামুদ জামান বলেন, ভূক্তভোগিদের কাছ থেকে খবর পেয়ে ব্রিজটি পরিদর্শন করেছি। অচিরেই ব্রিজটি মেরামতের পদক্ষেপ নেয়া হবে।