এলাকাবাসীর আনন্দ মিছিল আমতলীতে ২৩ মামলার ডাকাত সর্দার জব্বার নিহত

0

 

কে এম সোহেল, আমতলী প্রতিনিধিঃ আমতলীতে পুলিশের সাথে বন্দুকযুদ্ধে ২৩টি মামলার পলাতক আসামী  জব্বার বাহিনীর প্রধান ডাকাত সর্দার আব্দুল জব্বার(৪৫) নিহত হয়েছে। এসময় পুলিশের চার সদস্য আহত হয়েছে। আহতদের আমতলী হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। নিহত জব্বার কলাগাছিয়া গ্রামের মৃত্যু আমজেদ আলী হাওলাদারের ছেলে। ডাকাত সর্দার জব্বার নিহতের খবর পেয়ে কলাগাছিয়া ও হরিদ্রাবাড়িয়া গ্রামের শত শত লোকজন আনন্দ মিছিল করে।

আমতলী থানা পুলিশ সুত্রে জানা গেছে, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বৃহস্পতিবার ভোর সাড়ে তিনটার দিকে আমতলী উপজেলার গুলিশাখালী ইউনিয়নের কলাগাছিয়া গ্রামে ডাকাতির প্রস্তুতিকালে ডিবি পুলিশ ও আমতলী থানা পুলিশ যৌথভাবে অভিযান চালিয়ে ডাকাত সর্দার জব্বারকে (৪৫) তার সহযোগী কলাগাছিয়া গ্রামের আল-আমিনের বাড়ি থেকে তাকে আটক করে। পরে তার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী ডাকাত সর্দার জব্বারকে নিয়ে অস্ত্র উদ্ধারে পাশ্ববর্তী হরিদ্রাবাড়িয়া গ্রামের মাদরাসার নিকট গেলে পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে জব্বারের অন্য সহযোগীরা  পুলিশকে লক্ষ্য করে গুলি ছুড়ে। পুলিশ নিজেদের আত্মরক্ষার জন্য পাল্টা গুলি ছোরে। এসময় ডাকাত সর্দার জব্বার ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে গুলিতে নিহত হয়।  এসময় পুলিশের চোখ ফাঁকি দিয়ে অন্য ডাকাত সদস্যরা পালিয়ে যায়। ঘটনাস্থল থেকে একটি বিদেশী পিস্তল ও দুই রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়েছে। ডাকাতদের ছোড়া গুলিতে আহত হয় আমতলী থানার ৪পুলিশ সদস্য এরা হলেন, আব্দুল কুদ্দুস(৩২), মো: মামুন (৩৯) , মো: হাবিবুর রহমান (৪০) ও আবুল কালাম (৫৮)। আহতদের আমতলী হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।

বৃহস্পতিবার সকাল পৌনে ১২ টায় আমতলী  হাসপাতালে নিহত  জব্বারের সুরহাতহাল রিপোর্ট তৈরী করেন আমতলী থানার উপ-পরিদর্শ মো: মস্তফা। এসময় আমতলী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) ও নির্বাহী হাকিম মো: নাজমুল আলম উপস্থিত ছিলেন। তিনি জানান,  নিহত জব্বারের হাত পা এবং মাথায় ও পেটেসহ  শরীরের বিভিন্ন জায়গায়  মোট ৭টি গুলির চিহ্ন পাওয়া গেছে। ডাকাত সর্দার জব্বার বন্দুক যুদ্ধে নিহতের খবর পেয়ে কলাগাছিয়া ও হরিদ্রাবাড়িয়া গ্রামের শত শত লোকজন বৃহস্পতিবার দুপুরে প্রশাসনের উপস্থিতিতে আনন্দ মিছিল করে।  নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকজন এলাকাবাসী জানান, নিহত ডাকাত সর্দার জব্বারের ভয়ে এলাকাবাসী তারবিরুদ্ধে কোন  কিছু বলার সাহস পেতনা।

এদিকে বুধবার সন্ধ্যা  আনুমানিক ৭টার দিকে জব্বারের বৃদ্ধা মা বার্ধক্যজনিত কারনে স্বরভানু বেগম (৭০) ডালাচারা গ্রামে তার মেয়ের বাড়িতে মারা যান।  বৃহস্পতিবার   জানাজা শেষে দুপুর ২টার দিকে স্বামীর বাড়ি কলাগাছিয়া গ্রামে তার লাশ দাফন করা হয়। ডাকাত নিহতের খবর পেয়ে বরগুনার জেলা প্রশাসক ড.মহা: বশিরুল আলম ও বরগুনার পুলিশ সুপার বিজয় বসাক পিপিএম , আমতলী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো: নাজমুল আলম ও আমতলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো: শহীদুল্লাহ বৃহস্পতিবার দুপুর ২টায় ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।

আমতলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো: শহিদুল্লাহ জানান, নিহত ডাকাত আব্দুল জব্বারের বিরুদ্ধে বরগুনা সদর থানায় ৫ টি, আমতলী থানায় ১১টিসহ দেশের বিভিন্ন থানায় হত্যা, ধর্ষন, ডাকাতি সহ বিভিন্ন অপরাধে মোট ২৩ টি মামলা রয়েছে।