এসএসসি ও দাখিল পরীক্ষার ফরম ফিলাপ- দুমকিতে অভিনব কৌশলে চলছে মাত্রতিরিক্ত অর্থ আদায়

2

এম. রহমান, দুমকি : পটুয়াখালীর দুমকিতে এসএসসি ও দাখিল পরীক্ষার ফরম ফিলাপে চলছে অতিরিক্তি অর্থ আদায়। বোর্ড নির্দেশিত ফি ছাড়াও কোচিং ফি, ৩মাসের বেতন, কেন্দ্র ফি, টেস্ট পরীক্ষায় অকৃতকার্য বিষয়ের জরিমানা ইত্যাদি খাত দেখিয়ে ৩ থেকে ৫ হাজার ক্ষেত্র বিশেষে ৫-৬ হাজার টাকা আদায় করা হচ্ছে। মাত্রাতিরিক্ত ফি নেয়া হলেও শুধুমাত্র বোর্ড ফি’র অভিনব কৌশলে ৩থেকে ৫হাজার ক্ষেত্র বিশেষে ৫-৬ হাজার টাকা আদায় চলছে। অতিরিক্ত ফি আদায়ে পরীক্ষার্থী ও অভিভবকদের মাঝে চাপা ক্ষোভ ও অসন্তোষ বিরাজ করলেও সন্তানের ভবিষ্যৎ চিন্তায় কেউ মুখখুলছেন না।

অভিযোগে জানাযায়, উপজেলার দুমকি একে হাইস্কুল, দুমকি এনকে বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়, লেবুখালী হাবিবুল্লাহ্ মাধ্যমিক বিদ্যালয়, চরবয়েড়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়, সাতানী আমির উদ্দিন স্মৃতি মাধ্যমিক বিদ্যালয়, দুমকি ইসলামিয়া সিনিয়র মাদ্রাসা, সালামপুর ফাজিল মাদ্রাসা, দক্ষিণ মুরাদিয়া ফাজিল মাদ্রাসাসহ বেশীরভাগ নামকরা প্রতিষ্ঠানগুলোতেই বোর্ড নির্ধারিত ফি’র দ্বিগুন, ক্ষেত্র বিশেষে তিনগুণ হারে ফি আদায় করে ফরম ফিলাপ চলছে। কারিগরি বোর্ডের এসএসসি (ভোক) পরীক্ষার্থীদের ফরম ফিলাপে নূন্যতম ৫হাজার থেকে ৭হাজার টাকা আদায় করে ফরম ফিলাপ করার সুনিদিষ্ট অভিযোগ রয়েছে। দুমকি আপ্তুণনেছা খাতুন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের কারিগরি শাখার এক পরীক্ষার্থী নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানায়, ৪হাজার ৫শ’টাকা নিয়ে ফরম ফিলাপ করতে গিয়ে ফিরে আসতে হয়েছে। ৩/৪দিন ঘুরে বহু অনুরোধ করার পরেও ফরম ফিলাপ করা হয়নি। পরে বাকী ৫শ’টাকাসহ মোট ৫হাজার টাকা দিতে হয়েছে। লেবুখালী হাবিবুল্লাহ ও আমির উদ্দিন স্মৃতি মাধ্যমিক বিদালয়ের কারিগরি শাখার ফরম পূরণেও একই হারে টাকা আদায় করা হয়েছে। রাজাখালীর জনৈক হাফেজ গোলাম মোস্তফা অভিযোগ করে জানায়, সালামপুর মাদ্রাসায় টেস্ট পরীক্ষার ফলাফলের ভিত্তিতে ফরম ফিলাপের টাকা ধার্য্য করেছে। টেস্ট পরীক্ষায় ফেল করা প্রতিবিষয়ে অতিরিক্ত ৫শ’টাকা যোগ করে প্রত্যেক পরীক্ষার্থীর কাছ থেকে ৫হাজার থেকে ৬টাকা আদায় করে ফরম ফিলাপ করানো হচ্ছে। একই অবস্থা অন্যান্য প্রতিষ্ঠানগুলোতেও। নাম প্রকাশ না করার শর্তে উত্তর শ্রীরামপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের একজন সিনিয়র শিক্ষক জানান, পরীক্ষা কেন্দ্রসহ আশপাশের নামকরা প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রধান শিক্ষকরা পরস্পর যোগাযোগে অতিরিক্ত ফি আদায়ের অলিখিত সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। প্রায় সবগুলো প্রতিষ্ঠানেই ফরম ফিলাপে সরকার ঘোষিত বোর্ড ফির রশিদ দেয়া হয়। বাকী টাকার কোন রশিদ দেয়া হচ্ছে না। শিক্ষকের হাতে ব্যবহারিক পরীক্ষার নম্বর বন্টনের ক্ষমতা এবং কেন্দ্রের সুযোগ সুবিধা দেখভাল করার দায়িত্ব থাকায় পরীক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ চিন্তা করে অভিভাবকরা অতিরিক্ত টাকা দিতে বাধ্য হচ্ছেন। এ বিষয়ে দুমকি একে মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো: আলমগীর হোসেন বলেন, বোর্ড নির্ধারিত ফি’এর অতিরিক্ত টাকা নেয়া হয়নি। তবে স্কুলের বকেয়া বেতন, আভ্যন্তরীণ পরীক্ষার ফি ইত্যাদি বকেয়া টাকা একত্রে ফরম ফিলাপের সময় দেয়ার কারনে টাকার পরিমান বেড়ে যায়। অভিযোগ প্রসঙ্গে মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মো: মশিউর রহমান বলেন, বোর্ড নির্দেশণার অতিরিক্ত টাকা নেয়ার কোনই সুযোগ নেই। কোন প্রতিষ্ঠান অতিরিক্ত আদায় করছে এমন কোন অভিযোগ এখন পর্যন্ত পাইনি। সু-নির্দিষ্ট অভিযোগ পেলে অবশ্যই ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে। #