কলাপাড়ার উপকূল জুড়ে কুইচ্চা ধরার হিড়িক

7

pic-2কলাপাড়ার উপকূল জুড়ে কুইচ্চা ধরার হিড়িক

 

গোফরান পলাশ, কলাপাড়া : পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলার সমগ্র উপকূল জুড়ে চলছে কুইচ্চা ধরার হিড়িক। নভেম্বরের মাঝামাঝি সময় থেকে মার্চ মাসের মাঝামাঝি সময় পর্যন্ত কুইচ্চা ধরে এ অঞ্চলের কিছু জেলে সহ উপজাতিরা জীবিকা নির্বাহ করছে। নদী ও সমুদ্র মোহনায় ভাটার সময় বিশেষ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নারকেল গাছের শলা, ছাতির জাঙ্গা দিয়ে  তৈরি বড়শিতে কাঁকড়া দিয়ে টোপ ফেলে জেলেরা এ কুইচ্চা ধরে থাকে। সোনারচর, তাপসি চর, কলাগাছিয়া চর, আবাইতার চর, কুকরী মুকরীর চর, চরপাতিলা সহ আশে পাশের জেগে ওঠা চরে জেলেরা কুইচ্চা ধরে বলে জানান। দাম ভাল পাওয়ায় এ অঞ্চলের জেলেদের কুইচ্চা ধরায় আগ্রহ বেড়েছে। ১০০ গ্রাম থেকে ৯০০ গ্রাম ওজনের কুইচ্চা ১৫০ থেকে ২৫০ টাকা করে স্থানীয় মৎস্য গদিতে বিক্রি হয়ে থাকে। ১ কেজি বা তার অধিক ওজনের কুইচ্চায় তারা আরো বেশি দাম পেয়ে থাকে।

 

বোর্ড মালিক ও কুইচ্চা ব্যবসায়ী বাফ্রু মাদবর জানান, আমার বোর্ডে ৬ জন জেলে কাজ করে তারা প্রত্যেকে কুইচ্চা ধরে লাভবান। প্রতি সপ্তাহে বোর্ডের সকল খরচ বাদে ৮ থেকে ১০ হাজার টাকা আয় হয়। তবে এ কুইচ্চা ধরা চলবে মার্চ মাসের মাঝামাঝি পর্যন্ত।

 

লামিচং ও উলাচি জানান, জাপানি এক ব্যবসায়ী এসে রেনু কুইচ্চা কেনার কথা আগ্রহ প্রকাশ করে ছিলেন। কিভাবে কুইচ্চা খেতে হয় তা তিনি আগুনের তাপে সিদ্ধ করে আমাদের কাছে বসে খেয়ে দেখিয়ে ছিলেন। পরে কি কারনে আসেননি তা আমরা জানিনা। চীন, জাপান, থাইল্যান্ড ও কোরিয়ায় কুইচ্চার ব্যাপক চাহিদা রয়েছে।

 

আড়ৎ মালিক মোস্তফা মাতুব্বর জানান, এখান থেকে কুইচ্চা সংগ্রহ করে আমরা ঢাকায় পাঠাই এতে করে কেজি প্রতি খরচ বাদে ১৫ থেকে ৩০ টাকা আমাদের লাভ হয়। তবে বিভিন্ন চরাঞ্চলে গদি হওয়ায় এখানে আমরা কম সংগ্রহ করতে পারি।

 

বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউট, নদী উপকেন্দ্র, খেপুপাড়া’র উর্ধ্বতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা মো.আশরাফুল হক জানান, প্রাকৃতিক ভাবে সংগ্রহ না করে কুইচ্চা চাষ করলে আমরা অধিক লাভবান হবো। ইতিমধ্যে বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউট ময়মনসিংহ কুইচ্চা পোনা উৎপাদন ও চাষ করা পদ্ধতি উদ্ভাবন করেছে।

#