কলাপাড়ার পানি জাদুঘর দর্শনে শিক্ষার্থীদের ভিড় ক্রমশ বাড়ছে

1

গোফরান পলাশ, কলাপাড়া ঃ পটুয়াখালীর কুয়াকাটার দর্শনীয় স্থান গুলোর সাথে আরও একটি স্থান যোগ হয়েছে পানি জাদুঘর। কুয়াকাটা মহাসড়কের পাখিমারা বাজার সংলগ্ন আমিরাবাদ এলাকায় বেসরকারী উন্নয়ন সংস্থা এ্যাকশন এইড বাংলাদেশ’র “আভাস” অর্থায়নে এশিয়া মহাদেশের প্রথম এ পানি জাদুঘরটির নির্মান কাজ সম্পন্ন করে। এ পানি জাদুঘরে বাংলাদেশের বিভিন্ন নদীর পানি, নদীর ছবি, নদীর ইতিহাস-ঐতিহ্য ও মানুষের জীবন যাত্রার নানা তথ্য রয়েছে। বিশ্বের ৭ম এ পানি জাদুঘরটি দর্শন করার জন্য শিক্ষার্থীদের ভিড় বাড়ছে।

 

জানা যায়, উপজেলার নীলগঞ্জ ইউনিয়নের পাঁচটি গ্রামের মহিলা ও পুরুষ মিলে বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা আভাস এর উদ্যোগে গড়ে তোলেন একটি আত্ম নির্ভরশীল সমাজ সেবা সংগঠন উপকুলীয় জন কল্যাণ সংঘ। প্রায় ৪’শ ৮৫ জন সদস্য নিয়ে এ সংগঠনটি নিজেদের অর্থায়নে মহাসড়কের পাশে ১৫ শতাংশ জায়গা ক্রয় করে। এখানেই গড়ে তোলা হয় এ জাদুঘরটি।

 

এনজিও এ্যাকশন এইড’র তথ্য সূত্রে জানা গেছে, প্রায় ৭০০ নদী-উপনদীর আর্শিবাদে গড়ে উঠেছে এই দেশ। বিদ্যমান নদী গুলোর মধ্যে ৫৭ টি আর্ন্তজাতিক নদী। প্রাকৃতিক বির্পযয়, পানি প্রবাহে বাধাঁ তৈরি করা ও অতিমাত্রায় পরিবেশ দূষনের কারনে নদী গুলো ক্রমশ: হারাচ্ছে তার নিজস্ব স্বকীয়তা। পানির কৃত্রিম সংকট ও জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাবে ঘটছে পরিবেশ বিপর্যয়। প্রভাব পড়েছে কৃষি ভিত্তিক অর্থনীতি, সংস্কৃতি, মনস্তত্ত্ব ও সামাজিক কাঠামোর উপর। পানি, বায়ু ও সূর্যের রশ্মি হলো স্বীকৃত প্রাকৃতিক সম্পদ। তাই এ সম্পদের যথাযথ ব্যবহার ও রক্ষনাবেক্ষনের জন্য জনসচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে এ জাদুঘরটি স্থাপন করা হয়।

 

উপকূলীয় জনকল্যান সংঘের সভাপতি মো. জয়নাল আবেদীন জানান, পানিসম্পদ কেন্দ্রীক মানুষের চিন্তার প্রসার ঘটানোর ব্যবস্থা করা হয়েছে এ জাদুঘরে। এখানেই প্রাকৃতিক পরিবেশে বিভিন্ন চিত্র, উপকরন ও সাজসজ্জার মাধ্যমে তৈরি করা হয়েছে এশিয়া মহাদেশের প্রথম পানি জাদুঘরটি। প্রতিদিন দেশ-বিদেশ থেকে আসা দর্শনার্থীরা এখানে ভিড় করেন এটি দেখার জন্য। আগত দর্শনার্থীরা এ জাদুঘরটিকে আরো সমৃদ্ধ ও কলেবর বৃদ্ধির জন্য মন্তব্য বইতে মতামত প্রদান করেন।

আমেরিকা থেকে তুর্কি ও মায়ানমার হয়ে সাইকেল ভ্রমনে বাংলাদেশে আসা ডেভিড ও লিন্সে ফ্রান্সেন কুয়াকাটা থেকে ফেরার পথে এ পানি জাদুঘরটি দেখে অভিভুত হন। তারা মন্তব্য বইয়ে স্বাক্ষর করেন।

 

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থী মো: আল-আমিন মন্তব্য বইয়ে উল্লেখ করেন, পানি জাদুঘরটি আসলেই একটি চমৎকার সংরক্ষণ। এটি দেখে আমি আনন্দিত। এখানে স্থান পেয়েছে হারিয়ে যাওয়া অতীতের স্মৃতিগুলো।

 

বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা অভাস’র সফল প্রজেক্ট এর প্রকল্প ব্যবস্থাপক মো. মনিরুল ইসলাম জানান, বিশ্বে মোট ৭টি পানি জাদুঘর রয়েছে। এর মধ্যে বাংলাদেশে একটি। তাও কলাপাড়ায়। ইতোমধ্যে এ জাদুঘরটি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আর্ন্তজাতিক সম্পর্ক বিভাগের অধ্যাপক ড. ইমতিয়াজ আহম্মেদ উদ্বোধন করেছেন। তবে এ পানি জাদুঘরটি শিক্ষার্থীদের গবেষণার ক্ষেত্রে ব্যাপক ভূমিকা রাখবে বলে তিনি জানান।