কলাপাড়ার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে  এখন অনিয়মই নিয়ম

5

 

গোফরান পলাশ, বিশেষ প্রতিনিধি কলাপাড়া: পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের নিয়মিত মনিটরিংয়ের অভাবে প্রাথমিক শিক্ষার সরকারি বিদ্যালয় গুলোতে অনিয়মই এখন পরিনত হয়েছে নিয়মে। নির্ধারিত সময়ের আগেই ছুটি হচ্ছে বিদ্যালয়। ইচ্ছেমত সময়ে বিদ্যালয়ে আসেন প্রধান শিক্ষকসহ সহকারী শিক্ষকরা। নেই শরীরচর্চা, জাতীয় পতাকার সম্মান প্রদর্শন সহ সাংস্কৃতিক কার্যক্রম। দুর্গম অঞ্চলের প্রতিষ্ঠান গুলোর অবস্থা আরও নাজুক।

জানা যায়, উপজেলার নীলগজ্ঞ ইউনিয়নের সুলতানগঞ্জ সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের একগুঁয়েমি সিদ্ধান্ত ও খামখেয়ালী আচরনে সুলতানগঞ্জ বিদ্যালয়টিতেও এমন অনিয়মের বাসা বেধেঁছে। ক্ষুব্দ অবিভাবক সহ স্থানীয় মানুষের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৭ জানুয়ারী বারোটা ২৫ মিনিটে সরেজমিনে বিদ্যালয়ে গিয়ে দেখা যায়, সকল শ্রেণীসহ অফিস কক্ষ তালাবদ্ধ। এ ঘটনার প্রমান মিলাতে গিয়ে পরদিন ১৮ জানুয়ারী সাড়ে বারোটায় গিয়েও দেখা মেলে একই চিত্রের। চারিদিকে সুনশান, নেই শিক্ষার্থী কোলাহল। এবিষয়ে বিদ্যালয়ের কাছের স্থানীয় ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী আ. ছালামের কাছে জানতে চাইলেও তিনি প্রথমে কথা বলতে রাজি হননি। পরে জানান, দীর্ঘ কয়েক মাস ধরে তিনটার পর কখনোই স্কুলে ক্লাস হয়না। একই কথা জানান স্থানীয় শাহাবুদ্দিন হাওলাদার। বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সদস্য মিলন জানান, প্রধান শিক্ষকসহ অন্যরা ইচ্ছা মাফিক সময়ে বিদ্যালয়ে আসেন। একই অভিযোগ স্থানীয় বাসিন্দা সবুজের।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বেশ কয়েকজন অভিভাবক জানান, শরীরচর্চা, জাতীয় পতাকার সম্মান প্রদর্শন এসব হতে দেখিনা এখানে। যেখানে শিক্ষকরা তাদের নৈতিক দ্বায়িত্ব পালন করেনা সেখানে ছাত্র-ছাত্রীদের কি নৈতিক শিক্ষা দিবেন।

সুলতানগঞ্জ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো: এনায়েত কবির মন্টু জানান, আমার বিরুদ্ধে এসব ষড়যন্ত্র। নির্ধারিত সময়ের আগে বিদ্যালয় ছুটি দেয়ার বিষয়ে তিনি কোন উত্তর দিতে পারেননি।

কলাপাড়া উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মনিলাল শিকদার বলেন, বিষয়টি তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়া হবে। কোন পক্ষ অগ্রাহ্য করলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।