কলাপাড়ায় আদালত ভবনের সিলিং ফ্যান ছিটকে পড়ে বিচারক গুরুতর জখম

4

গোফরান পলাশ, কলাপাড়া প্রতিনিধি: পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় জরাজীর্ন আদালত ভবনের সিলিং ফ্যান লোহার হুক সহ ছিটকে পড়ে পড়ে সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট মো: আনিছুর রহমান গুরুতর জখম হয়েছেন। তার মুখমন্ডলে চারটি সেলাই লেগেছে। বর্তমানে তিনি শংকামুক্ত রয়েছেন বলে জানিয়েছে আদালত সূত্র। মঙ্গলবার শেষ বিকেলে আদালত ভবনের খাস কামরায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

এদিকে জরাজীর্ন আদালত ভবনের ছাদের ফ্যান বক্সের লোহার হুক সহ সিলিং ফ্যান ছিড়ে পড়ে জ্যেষ্ঠ বিচারক হাকিম গুরুতর জখম হওয়ার পর আইনজীবী, আদালত কর্মচারী, পুলিশসহ বিচার প্রত্যাশী মানুষ এখন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ভবনটি ব্যবহার করছে। এমনকি মূল ভবনের দেয়াল, ভিম ও পিলার ভেঙ্গে রড বেরিয়ে গেছে। কার্ণিশসহ ছাদের পলেস্তরা খসে পড়ছে। কর্নিশের নিচ বরাবর পুরো ভবনটিতে ফাটল ধরেছে। ছাঁদ চুইয়ে পানি পড়ার কারনে অফিসিয়াল নথিপত্র থেকে কাগজপত্র রক্ষা করতে পলিথিন দিয়ে ঢেকে রাখা হয়েছে। ভবনে থাকা হাজতখানা, পুলিশ ব্যরাক, পুলিশের উপ-পরিদর্শকের কক্ষ, বেঞ্চ সহকারীর কক্ষ, সেরেস্তাদারের কক্ষ সব ক’টির একই দশা। বাইরে থেকে এ ভবনটি এখন আর চেনার উপায় নেই। শ্যাওলার পুরু আস্তরণে ঢেকে গেছে।

জানা গেছে, ১৯৮৩ সালে অফিস মহল্লা এলাকায় একতলা এ আদালত ভবনটি চালু করা হয়। শুরুতে ফৌজদারি বিচার কাজ পরিচালিত হতো। ১৯৮৬ সালে ভবনটির পুর্বদিকে মুনসেফ আদালত (বর্তমানে দেওয়ানি আদালত) চালু হয়। পরে মুনসেফ আদালত সরিয়ে নেয়া হয়। পুনরায় ২০১১ সালের ২৪ এপ্রিল দেওয়ানি বিচার কাজের জন্য সহকারী জজ আদালতের কার্যক্রম চালু করা হয়। আদালত ভবনটি মেরামত করনসহ আবাসিক ভবন নির্মাণের দাবি নিয়ে ২০১৫ সালের জুন মাসে কলাপাড়ায় প্রাকটিসরত আইনজীবিরা পটুয়াখালী জেলা জজ এর মাধ্যমে আইন মন্ত্রী বরাবর আবেদন করেছেন।

কলাপাড়া জুডিসিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতের বেঞ্চ সহকারী মো: আরিফুজ্জামান রাসেল জানান, ছাঁদ চুইয়ে পানি পড়ায় তাদের নথিপত্র রক্ষা করতে পলিথিন দিয়ে ঢেকে রাখতে হয়। এ ভবনটি এখন আর ব্যবহার উপযোগী নেই। তিনি আরও জানান, গণপূর্ত বিভাগসহ উর্ধতন কর্তৃপক্ষকে গোটা বিষয়টি অবহিত করা হয়েছে। ভবনটি সংস্কারসহ নতুন ভবন নির্মাণ করা জরুরিভাবে প্রয়োজন।

পটুয়াখালী আইনজীবী সমিতির কলাপাড়া প্রতিনিধি অ্যাডভোকেট মোঃ হাবিবুর রহমান জানান, ফৌজদারি ও দেওয়ানি এ দু’টি আদালতে তিন সহ¯্রাধিক মামলা রয়েছে। প্রতিদিন বিচারপ্রার্থীসহ শত শত মানুষ ভবনটিতে আনাগোনা করেন। এখন এ ঝুঁকিপুর্ণ ভবনটি সংস্কারসহ নতুন ভবন নির্মাণ না করলে বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা করছেন তিনি।