কলাপাড়ায় একজন  শিক্ষক দিয়ে চলছে বিদ্যালয়ের পাঠদান

1

সোলায়মান পিন্টু,কলাপাড়া প্রতিনিধিঃ পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলার ধুলাসার ইউনিয়নের বৌলতলী সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় শিক্ষা কার্যক্রম চলছে মাত্র একজন শিক্ষক দিয়ে। দীর্ঘ বছর ধরে এ অবস্থা চলে আসলেও উদাসীন কলাপাড়া উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা। বারবার আবেদন নিবেদনের পরও শিক্ষক সংকটের কারনে পুরো মাত্রায় ব্যহত হচ্ছে বিদ্যালয়ের পাঠদান কার্যক্রম। আর কোমলমতি শিশু হচ্ছে শিক্ষা বিমুখ। ফলে দীর্ঘদিনের এ অচলাবস্থায় ক্ষোভে ফুসছে ওই এলাকার অভিভাবক ও সচেতন মহল।

বিদ্যালয় সূত্র জানায়, ১৯৭৩ সালে প্রতিষ্ঠিত বৌলতলী রেজিষ্টার প্রাথমিক বিদ্যালয়কে ২০১৩ সালে সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে উন্নীত করা হয়। ২০১৪ থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত প্রধান শিক্ষক ও একজন সহকারী শিক্ষকের মাধ্যমে চলত বিদ্যালয়টির পাঠদান কার্যক্রম। পরবর্তীতে সহকারী শিক্ষক বদলী হয়ে যাওয়ার পরে প্রধান শিক্ষক এবং একজন অস্থায়ী শিক্ষক দিয়ে বছরের পর বছর চলছে বিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রম। ২০১৬ সালে একজন শিক্ষক নিয়োগ হলেও তার অন্যত্র চাকুরী হওয়ায় তিনিও আর যোগদান করেননি। ফলে এখন শুধুমাত্র প্রধান শিক্ষক দিয়ে চলছে এ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টির শিক্ষা কার্যক্রম ।

রেজি: থেকে সরকারী বিদ্যালয়ে উন্নীত হওয়ার পর ২০১৩ সালে তিনজন, ২০১৪ সালে একজন ও ২০১৫ সালে দু’জন শিক্ষার্থী সমাপনী পরীক্ষায় বৃত্তিলাভ করে। বর্তমানে বিদ্যালয়ে শিশু শ্রেনী থেকে পঞ্চম শ্রেনী পর্যন্ত শিক্ষার্থী রয়েছে ১১৩ জন। প্রতিদিনি দু’শিফটের প্রতি শিফটে তিনটি শ্রেনী কক্ষে হচ্ছে পাঠদান। কেবলমাত্র একজন প্রধান শিক্ষকের পক্ষে প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালার পাশাপাশি তিনটি শ্রেনীতে পাঠদান সম্ভব হয়ে উঠছে না। এছাড়াও রয়েছে বিভিন্ন প্রশিক্ষন, সভাসহ দাপ্তরিক কাজে উপজেলা সদর অফিসে আসা-যাওয়া। ফলে প্রতিদিন শিক্ষার্থীরা ক্লাশে আসলেও শিক্ষকের অভাবে পাঠদান না পেয়ে ফিরে যাচ্ছে বাড়ী। লেখাপড়ায় হয়ে পড়ছে অমনোযোগী।

অভিভাবক শাজাহান মিয়া ক্ষোভ প্রকাশ করেন বলেন, তার ছেলে-মেয়ে ওই স্কুলে পড়াশোনা করে।া প্রতিদিন স্কুলে গেলেও অনেক সময় শিক্ষকদের দেখা মেলেনা।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হারুন গাজী জানান, এক শিফটে তিনটি শ্রেনীর পাঠদান থাকে। একার পক্ষে তা ব্যবস্থাপনা করা দুরহ। সব শ্রেনী কক্ষে সঠিকভাবে পাঠদান সম্ভব হচ্ছে না। মৌখিকভাবে একজন অস্থায়ী শিক্ষক দেয়া হলেও প্রতিদিন কোন না কোন ক্লাশ শিক্ষক শূন্যই থাকছে।

বিদ্যালয় পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি এ্যাডভোকেট আনোয়ার হোসেন জানান, তিনি দায়িত্ব নিয়েছেন কিছুদিন মাত্র। তবে উপজেলা পরিষদ এবং প্রাথমিক শিক্ষা অফিসে শিক্ষকের চাহিদা পত্র দেয়া হয়েছে।

এ বিষয়ে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা (ভারপ্রপ্ত) মো.আরিফুজ্জামান জানান, দীর্ঘদিন ধরে নিয়োগ বন্ধ থাকায় শিক্ষক সংকট সৃষ্টি হয়েছে। বর্তমানে মৌখিক ভাবে একজন শিক্ষক দেয়া হয়েছে।