কলাপাড়ায় এসএসসি পরিক্ষার্থীদের কাছ থেকে কেন্দ্র-ফি’র নামে লাখ লাখ টাকা আদায়

1

 

বিশেষ প্রতিনিধি : পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় কেন্দ্র-ফি’র নামে এসএসসি পরীক্ষার্থীদের কাছ থেকে ৩৫০ থেকে ৪০০ টাকা আদায় করা হচ্ছে। একইভাবে দাখিল পরীক্ষার্থীদের কাছ থেকে ৩০০ টাকা আদায় করা হচ্ছে। এ টাকা না দিয়ে কোন পরীক্ষার্থী প্রবেশপত্র সংগ্রহ করতে পারছে না। খবর ভুক্তভোগী পরীক্ষার্থী অভিভাবকসহ নির্ভরযোগ্য সুত্রের।

নির্ভরযোগ্য সুত্রে জানা যায়, এ বছর কলাপাড়ায় তিনটি পরীক্ষা কেন্দ্রের চারটি ভেন্যুতে অনুষ্ঠিত হচ্ছে এসএসসি পরীক্ষা। নিয়মিত ও অনিয়মিতসহ মোট পরীক্ষার্থী রয়েছে ১৭৮৯ জন। এর মধ্যে খেপুপাড়া মডেল মাধ্যমিক বিদালয় কেন্দ্রে ৫৮২ জন। খেপুপাড়া বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে ৫৮০ জন এবং মহিপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে পরীক্ষার্থীর সংখ্যা ৬২৭ জন। যার মধ্যে কুয়াকাটা বঙ্গবন্ধু মাধ্যমিক বিদ্যালয় ভেন্যুতে পরীক্ষা দিচ্ছে ২২০ জন। এছাড়া দাখিলে খেপুপাড়া নেছারুদ্দিন সিনিয়র মাদ্রাসা কেন্দ্রে ৪১৭ জন এবং মহিপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে ১৭৩ জন পরীক্ষার্থী রয়েছে। এবছর ২৯টি মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও ২৫ টি মাদ্রাসা থেকে মোট ২৩৭৯ জন পরীক্ষায় অংশ গ্রহণ করছে। মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রধানরা প্রত্যেক পরীক্ষার্থীর কাছ থেকে ৩৫০-৪০০ টাকা এবং মাদ্রাসা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রধানরা প্রত্যেকের কাছ থেকে আদায় করছেন ৩০০ টাকা। পরীক্ষার্থী ও অভিভাবকদের অভিযোগ ফরম ফিলাপের সময় প্রত্যেকের কাছ থেকে আড়াই হাজার থেকে সাড়ে তিন হাজার টাকা নেয়া হয়েছে। অথচ শিক্ষাবোর্ডের নির্দেশনা ছিল ফরম ফিলাপে সর্বোচ্চ ১৬০০-১৭০০ টাকা নেয়ার। যেখানে ট্রান্সক্রিপট ফি পর্যন্ত ধার্য রয়েছে।

এদিকে পরীক্ষা চলাকালে কক্ষ পরিদর্শক শিক্ষকের রোষাণলে পড়ার শঙ্কায় কোন অভিভাবক কিংবা পরীক্ষার্থী এ বিষয়ে লিখিত অভিযোগ পর্যন্ত দিতে সাহস পাচ্ছে না। এভাবে কোন রশিদ ছাড়াই আদায় করা হচ্ছে লাখ লাখ টাকা।

এব্যাপারে একাধিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রধানদের বক্তব্য বকেয়া বেতনসহ বিশেষ কোচিং ফির নামে কিছু টাকা আদায় করা হয়েছে ফরম ফিলাপের সময়। কাউকে কোন রশিদ দেয়া হচ্ছে না। শিক্ষা বোর্ডের ওয়েবসাইটে নির্দেশনা রয়েছে কেন্দ্র-ফি আদায় করলেও যাদের ব্যবহারিক পরীক্ষা নেই তাদের কাছ থেকে ২৫০ টাকা এবং যাদের ব্যবহারিক পরীক্ষা রয়েছে তাদের কাছ থেকে ৩০০ টাকা আদায় করা যাবে। কিন্তু এসব নিয়ম কোন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রধানরা মানছেন না।

এব্যাপারে কলাপাড়া উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা কাজী রুহুল আমিন জানান, অনিয়মতান্ত্রিক ভাবে কেউ কিছু করলে তাদের বিরুদ্ধে বিধিমতে ব্যবস্থা নেয়া হবে।#