কলাপাড়ায় খাল দখল করে প্রভাবশালীদের স্থাপনা নির্মান ॥ ভূমি প্রশাসন নিশ্চুপ

0

 

গোফরান পলাশ, কলাপাড়া বিশেষ প্রতিনিধি : পটুয়াখালীর কলাপাড়া পৌরশহর সহ এর পার্শ্ববর্তী টিয়াখালী ও চাকামইয়া ইউনিয়নের অভ্যন্তরে প্রবাহিত খাল গুলো অবৈধ দখলের কারনে মারাতœক পরিবেশ বিপর্যয়ের আশংকা দেখা দিয়েছে। এক সময়ের খরস্রোতা এ খাল গুলোর উভয় পাড়ে একাধিক বসতবাড়ি ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান গড়ে ওঠায় ধীরে ধীরে নাব্যতা হারিয়ে পানি নিস্কাশনে বিঘœ ঘটছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ষাটের দশকে উপজেলার গ্রামীন জনপদের কৃষি নির্ভর জনসাধারন এ খাল গুলো দিয়ে ছোট ছোট ডিঙ্গি নৌকায় করে বাজার করার জন্য কলাপাড়া শহরে আসতো। দুর-দুরান্তের মানুষের তখন যাতায়াতের একমাত্র পথ ছিল এ খাল গুলো। সত্তর দশকের দিকে স্থানীয় ব্যবসায়ীরা বড় বড় গয়না নৌকায় করে এ খাল গুলো দিয়ে মালামাল পরিবহন করত। বর্তমানে খাল গুলোর এ নাব্যতা সংকটের জন্য প্রকৃতি যতটা না দায়ী তার চেয়ে বেশী দায়ী খালের দু’পাড় দখলকারীরা। খালের জায়গা ভরাট করে বছরের পর বছর ধরে একাধিক টিনের ঘর ও পাকা ভবন নির্মান অব্যাহত থাকায় ক্রমশ: খাল গুলো মরা খালে পরিনত হয়েছে।

কলাপাড়া পৌরশহরের মাঝখান দিয়ে বয়ে যাওয়া একমাত্র খালটি এখন প্রভাবশালীদের দখলের কারনে হারিয়ে যেতে বসেছে। খালটির দুই দিক দখল করে বসতবাড়ি সহ তোলা হচ্ছে বিভিন্ন ধরনের স্থাপনা। খালটি রক্ষায় পৌরসভা কর্তৃপক্ষ দুই দফা নাম মাত্র খনন করে কোটি টাকার প্রকল্প বাস্তবায়ন করেছেন। কিন্তু খালটির সীমানা চিহ্নিত না করেই এ খনন কাজ করায় খালটি এখন অস্তিত্ব সঙ্কটে পড়েছে। অথচ গোটা পৌরশহরের প্রাণ এ খালটি। পৌর এলাকার পানি অপসারনসহ সকল বর্জ্য এখাল দিয়ে অপসারিত হয়ে আসছে। অন্তত: দশ কিলোমিটার দীর্ঘ এ খালটির কয়েকটি শাখা প্রশাখা রয়েছে। খালটি দিয়ে জোয়ার-ভাটার পানি অপসারনে এক প্রান্তের স্লুইসটি এখনও সচল রয়েছে। অপরদিকে নাচনাপাড়া চৌরাস্তা এলাকার এক ভেন্টের স্লুইসটি দখল করে মাটি ভরাট করে বহু আগেই অচল করে রাখা হয়েছে। এটি সচল করতে পাউবো কিংবা পৌরসভা কেউ উদ্যোগ নেয়নি। ফলে ক্রমশ সরু হয়ে আসছে পল্লী বিদ্যুৎ অফিসের সামনে সহ এর পেছনের রহমতপুর এলাকার খালটি। একই দশা চিঙ্গরিয়া এলাকায় কবি নজরুল ইসলাম সড়ক এলাকার খালটির। এ খালটিও দখল করে বাঁধ দিয়ে তোলা হয়েছে অসংখ্য স্থাপনা। বাদুরতলীর খালটি দখল করে তোলা হয়েছে বাড়ি-ঘরসহ বিভিন্ন ধরনের পাকা স্থাপনা। গত দশ বছর টানা দখল সন্ত্রাসে খালটির দুইপাড় দিয়ে অন্তত: এক তৃতীয়াংশ দখল হয়ে গেছে। এই দখল তান্ডবের কারণে খালটি ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে পড়ছে ক্রমশ:। পাকা, আধা-পাকা এসব স্থাপনা তুলে বিক্রি করে এক শ্রেণীর প্রভাবশালী কোটি টাকা হাতিয়ে নিলেও প্রশাসনের উদাসীনতায় দখল প্রক্রিয়া অব্যাহত রয়েছে এখনও। গুরুত্বপূর্ণ এই খালটি দখলের কারণে অন্তত: বিশ হাজার পরিবার তাদের পানি নিস্কাশনের পথ হারিয়ে ফেলছে। এমনকি পাঁচ হাজার পরিবারের কৃষিকাজ বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। পৌরশহরের পূর্বদিক দিয়ে প্রবাহিত খালটি পৌরশহর ছাড়াও বাদুরতলী, মধ্যটিয়াখালী গ্রামের পাশ দিয়ে বয়ে গেছে। পৌরশহরের একাংশসহ টিয়াখালী ইউনিয়নের চারটি গ্রামের জলাবদ্ধতা নিরসনে এই খালটি একমাত্র পথ। খালটির বাদুরতলী পয়েন্টে রয়েছে স্লুইস। যা পানি ওঠানামার কাজে ব্যবহৃত হয়। ইতোপূর্বে খালটির মাঝখান দিয়ে কয়েকটি বাঁধ দেয়ায় পানির প্রবাহ কমে দুই পাড়ে পলি পড়ে কিছুটা ভরাট হয়ে গেছে। বর্তমানে খাল দখলের এই দখল প্রক্রিয়া চরম পর্যায়ে পৌছেছে। আর এতে জড়িয়ে পড়ছে প্রভবিশালীরা। স্থানীয়দের দেয়া তথ্যমতে খালটির যে পরিমাণ এরিয়া দুই পাশ দিয়ে দখল করে নেয়া হয়েছে তার মূল্য বর্তমানে প্রায় ২০ কোটি টাকা হবে।

কলাপাড়া পৌরসভার মেয়র বিপুল চন্দ্র হাওলাদার জানান, খাল গুলো দখল মুক্ত করার বিষয়ে পৌরসভা ভূমি প্রশাসনকে সহযোগীতা করবে।

কলাপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এবিএম সাদিকুর রহমান বলেন, এ বিষয়ে জনপ্রতিনিধিদের নিয়ে উপজেলা প্রশাসনের সভায় খালগুলো দখল মুক্ত করার জন্য রেজুলেশন হয়েছে। জনসাধারনের মাঝে সচেতনতা সৃষ্টি করার পর খাল গুলোর সীমানা চিহ্নিত করে শীঘ্রই দখলমুক্ত করার জন্য পদক্ষেপ গ্রহন করা হবে বলে জানান তিনি।