কলাপাড়ায়  খেয়া পারাপারে দূর্ভোগ !

1

গোফরান পলাশ, কলাপাড়া বিশেষ প্রতিনিধি: পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় খেয়া পারাপারে চরম দূর্ভোগের শিকার হচ্ছেন ধানখালী ইউনিয়নের হাজার হাজার মানুষ। প্রতিদিন এ দূর্ভোগ সহ্য করে তাদের উপজেলা সদরে আসা-যাওয়া করতে হচ্ছে। টিয়াখালী নদী পার হতে টিয়াখালী-লোন্দা খেয়াঘাটে এমন ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন সাধারণ মানুষ। বিশেষ করে স্কুল-কলেজ ও মাদ্রাসাগামী  শিশু সহ নারী শিক্ষার্থীর দূর্ভোগ সবচেয়ে বেশি। প্রতিদিন এদের কেউ না কেউ আবার কাদায় পড়ে নাকাল হচ্ছেন। এসব ভোগান্তি ছাড়াও এঘাটে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগ রয়েছে ইজারাদারের বিরুদ্ধে।

জানা যায়, উপজেলা পরিষদ থেকে খেয়াঘাটটি প্রতি বছর ইজারা দেয়া হয়। ইজারার শর্তাবলীতে উল্লেখ রয়েছে- পারাপারে কর্তৃপক্ষের অনুমোদিত হারের অতিরিক্ত কোন অর্থ আদায় করলে ইজারা বাতিল করা হবে। ইজারাদারকে নিজ খরচে যাত্রীদের ওঠানামার জন্য পাটাতন ও সিড়ির ব্যবস্থা এবং ঘাটে যাত্রীদের অপেক্ষা করার জন্য যাত্রী ছাউনী নির্মাণ করতে হবে। এছাড়া খেয়াঘাটের উভয় পাড়ে ও প্রকাশ্য স্থানে নিজ খরচায় অনুমোদিত পারাপারের টোল রেট বাংলাভাষায় স্পষ্টরুপে সাইনবোর্ড আকারে লটকানোর নির্দেশনা রয়েছে। নইলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে। কিন্তু এসব যেন কাগুজে কথা বাস্তবে মানা  হচ্ছেনা এর একটি নির্দেশনাও। খেয়াঘাটে কোন টোল রেট নেই। ২০১৬ সালের ৯ মে সর্বশেষ টোলরেট নির্ধারন করা হয়। তৎকালীন উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোহাম্মদ মাসুদ হাসান পাটোয়ারী এ রেট নির্ধারন করেন। যান্ত্রিক নৌকায় মানুষ পারাপারে জনপ্রতি চার টাকা। অযান্ত্রিক (বৈঠা নৌকায়) জনপ্রতি দুই টাকা। মটর সাইকেল প্রতি দশ টাকা। বাই সাইকেল চার টাকা। ছাগল/ভেড়া চার টাকা। গরু/মহিষ দশ টাকা। বিভিন্ন মালামাল (প্রতি ৪০ কেজি) তিন টাকা। রিক্সা/ভ্যান ছয় টাকা। কিন্তু এসব টোল রেট মানা হয় না। টোলরেট টানানোর জন্য ইতোপুর্বে সংশ্লিষ্ট ইজারাদারকে চিঠি পর্যন্ত দেয়া হয়েছে। কিন্তু কাজের কাজ কিছুই হয়নি। খাম খেয়ালীর শেষ নেই। যাত্রীরা প্রতিবাদ পর্যন্ত করতে সাহস পায়না। প্রতিবাদ করলে লাঞ্চিত করা হয়। এছাড়া ঘাট নির্মাণ না করায় নারী-পুরুষ যাত্রীদের ভোগান্তির কোন শেষ নেই।

এ বিষয়ে কলাপাড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার এবিএম সাদিকুর রহমান জানান, সরকারি নির্দেশনা না মানলে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।