কলাপাড়ায় গ্রামবাসীর উদ্যোগে বিধ্বস্ত স্লুইসসহ বেড়িবাঁধ মেরামত শুরু

1

 

গোফরান পলাশ, কলাপাড়া বিশেষ প্রতিনিধি: পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় লবনাক্ত পানির কবল থেকে আমন ফসল রক্ষায় বিধ্বস্ত স্লুইসসহ বেড়িবাঁধ নিজেদের উদ্যোগেই মেরামতে নামলেন গ্রামবাসী। উমেদপুর গ্রামসহ সংলগ্ন চারটি গ্রামের কৃষক এমন উদ্যোগ নিয়েছেন। শুক্রবার সকাল থেকে বিধ্বস্ত এলাকা মেরামতের কাজ শুরু করেছেন তারা। যারা মাটি কাটার কাজে সরাসরি অংশ নিতে পারেনি তারা নগদ অর্থ দিয়ে লেবার মজুরি বাবদ সহায়তা করছেন। জানা যায়, পানি উন্নয়ন বোর্ডের নীলগঞ্জ ইউনিয়নের ৪৬ নম্বর পোল্ডারের উমেদপুর গ্রাম সংলগ্ন এক ভেন্টের স্লুইসসহ বেড়িবাঁধ প্রায় বছর খানেক আগে বিধ্বস্ত হয়। ইতোপুর্বেও গ্রামবাসী এক দফা নিজেদের উদ্যোগে বিধ্বস্তদশা মেরামত করেছিল। অস্বাভাবিক জোয়ারের তান্ডবে ফের ভেঙ্গে গেছে। এখন ভাঙ্গা অংশ দিয়ে লোনা পানি প্রবেশ করে উমেদপুর ছাড়াও উত্তর হলদিবাড়িয়া, দক্ষিণ হলদিবাড়িয়া, লস্করপুর, মোহনপুর ও হাকিমপুর গ্রামের কৃষিজমির ফসল লোনা পানিতে প্লাবনের শঙ্কা দেখা দিয়েছে। স্থানীয় ইউপি মেম্বার হেমায়েত উদ্দিন উকিল জানান, উপজেলা পরিষদ, পানিউন্নয়ন বোর্ডসহ সব জায়গায় ধর্ণা দিয়েছেন। কেউ কোন উদ্যোগ নেয়নি বিধ্বস্ত স্লুইসসহ বাঁধটি মেরামতের। স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুল খালেক, মাওলানা নুর ছায়েদ, মাওলানা মোঃ আলমগীর জানান, ভাঙ্গা বেড়িবাঁধটি মেরামত না করায় লোনা পানি ঢুকে আমন ফসল নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। তাই তারা স্বেচ্ছ্বাশ্রমে বিধ্বস্ত স্লুইসসহ বাঁধ মেরামতের উদ্যোগ নিয়েছেন। যারা মাটি কাটায় অংশ নিতে পারেন নি তারা ৩০০ করে টাকা দিয়ে সহায়তা করছেন। স্থানীয়রা আরও জানান, শুধু আমন ফসল নয়। শীতকালীন শাক-সবজিসহ রবিশস্য ফলানো অনিশ্চিত হয়ে যাবে লোনা পানির কারনে। নীলগঞ্জ ইউপি চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট নাসির উদ্দিন মাহমুদ জানান, পানি উন্নয়ন বোর্ডসহ উপজেলা পরিষদের একাধিক সভায় বিষয়টি উপস্থাপন করা হয়েছে। এখন কোন উপায় না পেয়ে জনগণকে সঙ্গে নিয়ে বিধ্বস্ত স্লুইসসহ বাঁধটি মেরামতের জন্য নিজেরা উদ্যোগ নিয়েছেন। পানি উন্নয়ন বোর্ডের কলাপাড়াস্থ নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ আবুল খায়ের জানান, ওই ভাঙ্গা অংশটি মেরামত এবং নতুন স্লুইস করার প্রস্তাবনা উর্ধতন কর্তৃপক্ষের কাছে আগেই পাঠানো হয়েছে।