কলাপাড়ায় ঘুষ-দুর্নীতির অভিযোগে অফিস সহকারীকে   দেড়যুগ পর বদলী

6

 

গোফরান পলাশ,কলাপাড়া বিশেষ প্রতিনিধি: পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসের অফিস সহকারী কাম মুদ্রাক্ষরিক মোঃ নেছার উদ্দিন কে ঘুষ-দুর্নীতির অভিযোগে দেড়যুগ পর অবশেষে বদলী করা হয়েছে। এর আগে পহেলা ফেব্রুয়ারি কলাপাড়ায় দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদকের) গণশুনানি চলাকালে নেছার উদ্দিনকে অভিযুক্ত করে লালুয়া এসকেজেবি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক মোঃ জুনায়েত হোসেন একটি লিখিত অভিযোগ উত্থাপন করেন। এছাড়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সকল কাজে যেমন টিএফ ফান্ড, উপ-বৃত্তির অর্থ ছাড় করানো, প্রশিক্ষণে অংশ গ্রহণে নাম অন্তর্ভুক্ত করাসহ সকল কাজে ফাইল আটকে আর্থিক সুবিধা দিতে বাধ্য করা হয়। এসংক্রান্ত লিখিত অভিযোগ উর্ধতন কর্তৃপক্ষের কাছে বিভিন্ন সময় শিক্ষকরা দিয়েছেন। কিন্তু কোন প্রতিকার পায়নি ভুক্তভোগী শিক্ষকরা। জুনায়েত হোসেন জানান, নিযোগ পরবর্তী তার বেতন-ভাতার কাগজপত্র ঠিক করতে তিন কিস্তিতে নেছার উদ্দিনকে ৪৬ হাজার টাকা ঘুষ দিতে হয়েছে। কোন তারিখে কিভাবে কত টাকা দিয়েছেন তাও জুনায়েত উল্লেখ করেছেন। টিএফ ফান্ডের চেক নেয়ার সময় প্রত্যেকবারে দুই হাজার টাকা দিতে বাধ্য করা হয়েছে। উপ-বৃত্তির অর্থ বিতরনকালে প্রতিবারে এক-দেড় হাজার টাকা দিতে হয়। এছাড়া বিভিন্ন প্রশিক্ষণে শিক্ষকদের নাম অন্তর্ভুক্ত করতে অর্থ আদায় করে নেছার উদ্দিন। এ কর্মচারীর অনিয়ম-দুর্নীতির প্রতিকার চেয়ে ২০০৯ সালে ৩৮ জন শিক্ষক যৌথ স্বাক্ষরে নেছার উদ্দিনের বিরুদ্ধে উর্ধতন কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিত অভিযোগ দেয়া হয়। কিন্তু অদৃশ্য শক্তির কারনে তার বিরুদ্ধে কোন কার্যকর ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। জুনায়েত আরও জানান, ১৯৯৮ সালের ২৮ ডিসেম্বর থেকে রহস্যজনকভাবে নেছার উদ্দিন কলাপাড়ায় কর্মরত রয়েছেন। স্থানীয় কয়েকটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রধানদের ম্যানেজ করে শিক্ষা অফিসের প্রশ্রয়ে এমনসব অপকর্ম করে যাচ্ছে। সাধারণ শিক্ষকদের জিম্মি দশায় ফেলেছে। তিনি নেছার উদ্দিনকে অন্যত্র দ্রুত বদলী করে অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি করেন। এ বিষয়ে নেছার উদ্দিন জানান, তার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ সম্পুর্ণ মিথ্যা। তিনি শিক্ষক জুনায়েত হোসেনের সঙ্গে ২০০৯ সালের পর থেকে কথাও বলেন না। উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা কাজী রুহুল আমিন জানান, বিষয়টি সুষ্ঠু তদন্ত না করে কিছুই মন্তব্য করা যাবে না।