কলাপাড়ায় চাঞ্চল্যকর শিশু সুমি হত্যা মামলার নিরপেক্ষ তদন্ত নিয়ে সংশয়

0

গোফরান পলাশ, কলাপাড়া ঃ পটুয়াখালীর কলাপাড়ার চাঞ্চ্যলকর শিশু সুমি হত্যা মামলার দ্রুত বিচার ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবীতে সংবাদ সম্মেলন করেছে নারী ও শিশু নির্যাতন প্রতিরোধ নেটওয়ার্ক ও সুমির পরিবার। সোমবার দুপুরে কলাপাড়া প্রেসক্লাব মিলনায়তনে নারী ও শিশু নির্যাতন প্রতিরোধ নেটওয়ার্কের সম্পাদক হাওয়া বেগম ও সুমির পরিবারের সদস্যরা এসময় উপস্থিত ছিলেন। সংবাদ সম্মেলনে সুমির পরিবারকে হুমকী, এজাহারভুক্ত প্রধান আসামী মো: খলিলুর রহমান পাহলান এর গ্রেফতার বিষয়ে পুলিশের পরস্পর বিরাধী বক্তব্যে পুলিশের চেইন অব কমান্ড ও নিরপেক্ষ তদন্ত নিয়ে সংশয়ের কথা উঠে এসেছে।

সংবাদ সম্মেলনে এক প্রশ্নের জবাবে সুমির বাবা হামেদ মৃধা জানান, গত শনিবার রাতে সুমি হত্যার প্রধান আসামী খলিল পাহলানকে গ্রেফতার করে পুলিশ। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই মো: শহিদুল ইসলাম খান আসামীকে গ্রেফতারের বিষয়টি মুঠো ফোনে নিশ্চিত করেন তাকে। অত:পর রোববার পুলিশ তাকে গ্রেফতার না দেখিয়ে স্বেচ্ছায় আদালতে আত্মসমর্পনের সুযোগ করে দেয়। এমনকি পুলিশ ওই দিন আদালতে আসামীর রিমান্ড আবেদন দাখিল না করে সোমবার দাখিল করায় বিজ্ঞ আদালত আগামী ২৮ তারিখ রিমান্ড শুনানীর দিন ধার্য করে। এদিকে চাঞ্চল্যকর সুমি হত্যার ১১ মাস পরও সুমি হত্যার মোটিভ পুলিশ উদ্ধার করতে না পারায় আসামীদের রিমান্ডে এনে জিজ্ঞাসাবাদ ও চার্জশীট না হওয়া পর্যন্ত আসামীদের জামিন বাতিলের দাবী জানানো হয় সংবাদ সম্মেলনে।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা কলাপাড়া থানার এসআই মো: শহিদুল ইসলাম খান সাংবাদিকদের জানান, খলিল পাহলানকে পার্শ¦বর্তী আমতলি উপজেলার খুঁড়িয়ার খেয়াঘাট এলাকা থেকে গ্রেফতার করে থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার কাছে তিনি হস্তান্তর করেন।

এ প্রসঙ্গে কলাপাড়া থানার অফিসার ইনচার্জ মো: আজিজুর রহমান সাংবাদিকদের জানান, মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা সস্তা ক্রেডিট নেওয়ার জন্য সাংবাদিকদের কাছে প্রধান আসামী খলিলকে গ্রেফতারের কথা বলেছেন। আসামী খলিল আদালতে আত্মসমর্পনের পর আদালত সূত্রে অবগত হয়ে আসামীকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য গতকাল আদালতে সাত দিনের রিমান্ড আবেদন দাখিল করার বিষয়টি নিশ্চিত করেন তিনি।

উল্লেখ্য, উপজেলার নিজামপুর গ্রামের প্রথম শ্রেনীর শিক্ষার্থী ছয় বছরের শিশু সুমিকে বিগত ৪ নভেম্বর ২০১৪ ইং তারিখ জবাই করে হত্যার পর লাশ ছয় টুকরা করে ধানক্ষেতের মধ্যে ফেলে রাখা হয়। লোমহর্ষক এ হত্যাকান্ডের ঘটনায় নিহত শিশুর মা শাহিনুর বেগম বাদী হয়ে খলিলসহ তিন জনের নাম উল্লেখ করে কলাপাড়া থানায় একটি মামলা (জি.আর-৩২৫/২০১৪) দায়ের করেন। মামলার অপর দুই আসামী আলী আহম্মেদ (৫০) এবং জলিল পাহলান (৪২) উচ্চ আদালত থেকে জামিন পেয়ে ভিকটিমের পরিবারকে মামলা প্রত্যাহারের জন্য হুমকী দিয়ে আসছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।