কলাপাড়ায় জমির দখল নিতে রাতের অন্ধকারে স্থাপনা নির্মান!

1

 

গোফরান পলাশ, বিশেষ প্রতিনিধি কলাপাড়া: পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় ভূমি সংক্রান্ত বিরোধ নিয়ে সহকারী জজ আদালতে মামলা দায়েরের পর বিজ্ঞ আদালত বিবাদীদেরকে প্রথমে নোটিশ, পরবর্তীতে কারন দর্শানোর আদেশ দিলে বিরোধীয় ওই ভূমির অবৈধ দখল নিতে রাতের অন্ধকারে আবুল কালামের নেতৃত্বে একটি সংঘবদ্ধ চক্র স্থাপনা নির্মান করেছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। উপজেলার নীলগঞ্জ ইউনিয়নের আমিরাবাদ এলাকায় সম্প্রতি এ ঘটনা ঘটে।

জানা যায়, উপজেলার নীলগঞ্জ ইউনিয়নের সোনাতলা মৌজার ৪০৬ খতিয়ানের ৪.৫১ একর ভূমির রেহর্ডীয় মালিক বিপিন বিহারী। বিপিন বিহারীর মৃত্যুতে তার চার পুত্রের মধ্যে একপুত্র গৌরহরী মজুমদারের কাছ থেকে তার উত্তরাধিকার সূত্রে প্রাপ্ত সাড়ে ১৩ শতাংশ ভূমি বিগত ১২-০৭-৮০ তারিখে ৫৬৬৩ নং সাফ কবলা দলিল মূলে প্রমথ রঞ্জন ভৌমিক ক্রয় করেন। এরপর প্রমথ রঞ্জন ভৌমিকের নিকট থেকে ৩০-০১-৯০ তারিখে ৫০৩ নং সাফ কবলা দলিল মূলে উক্ত ভূমি ক্রয় করেন বিনোদ বিহারী। অত:পর কবলা গ্রহীতা বিনোদ বিহারীর কাছ থেকে ০৪-০৫-২০০৫ তারিখে ২৫৫০ নং সাফ কবলা দলিল ও ১০-০৮-৯৭ তারিখে ২৫৯০ নং সাফ কবলা দলিল মূলে মো. গোলাম সরোয়ার সাড়ে ৫ শতাংশ ভূমি ক্রয় করেন। সেই থেকে উক্ত ভূমি সে ভোগদখল করে আসলেও ওই ভূমি নিয়ে বিবাদীদের সাথে ঝগড়া-বিবাদের সৃষ্টি হওয়ায় ভুক্তভোগী মো. গোলাম সরোয়ার নিরুপায় হয়ে বিজ্ঞ কলাপাড়া সহকারী জজ আদালতে বিগত ২৭ নভেম্বর ২০১৬ তারিখে দে: মো: ১১৯/২০১৬ মামলা আনয়ন করেন। বিজ্ঞ আদালত বিবাদীদের প্রথমে নোটিশ এবং পরে কারন দর্শানোর আদেশ দিলেও বিবাদীরা গত ২৭ জানুয়ারী ২০১৮ রাতের অন্ধকারে ওই ভূমিতে অবৈধ দখল নিতে স্থাপনা নির্মান করেন। এরপর আদালতে গিয়ে শোকজের বর্ননা দাখিল করেন। মামলাটি বর্তমানে ইস্যু গঠনের স্টেজে আছে। এর আগে গোলাম সরোয়ার প্রতিকার চেয়ে নীলগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান এর কাছে লিখিত আবেদন করার পর চেয়ারম্যান ইউপি সদস্য জগৎ জীবন রায়কে বিষয়টি নিস্পত্তির দায়িত্ব দেন। কিন্তু একাধিকবার পরিষদে অভিযুক্ত আবুল কালাম কে ডাকলেও তিনি সাড়া দেননি।

নীলগঞ্জ ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ও কলাপাড়া সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতের রাষ্ট্র পক্ষের নিযুক্তীয় কৌশুলী অ্যাডভোকেট মো: নাসির উদ্দীন মাহমুদ বিরোধীয় ওই ভূমিতে রাতের অন্ধকারে স্থাপনা নির্মানের সত্যতা স্বীকার করে বলেন,’ বিষয়টি বিজ্ঞ সহকারী জজ আদালতে নিস্পত্তির জন্য আছে। বিজ্ঞ আদালত এ বিষয়ে আইনানুগ পদক্ষেপ নেবেন।’

এ বিষয়ে অভিযুক্ত আবুল কালাম জানান, ’প্রায় ৩৫ বছর ধরে এখানে বসবাস করি। আদালত থেকে নোটিশ করায় আদালতে গিয়েছেন বলে তিনি জানান।’