কলাপাড়ায় জামাতের রাজনীতি চাঙ্গা করতে ৫ নারী কর্মী মাঠে

1

গোফরান পলাশ, কলাপাড়া বিশেষ প্রতিনিধি: পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় রাষ্ট্রীয় সম্পত্তির ক্ষতিসাধনের প্রচেষ্টা, নিষিদ্ধ সংগঠন সমর্থন ও নাশকতার ষড়যন্ত্রের অভিযোগে চলমান মামলায় জামাতের ১৪ নেতা-কর্মীর মধ্যে পাঁচ নারী কর্মীর বিস্তারিত তথ্য উদঘাটনে সক্ষম হয়েছে পুলিশ। এরা সবাই কলাপাড়ার উপকূলীয় অঞ্চলে সংগঠনটির কর্মকান্ড পরিচালনার পাশাপাশি অর্থের যোগান দিয়ে আসছিল। এদের একজন বর্তমানে জেল হাজতে রয়েছে। বাকিরা সবাই আদালত থেকে জামিনে রয়েছে। মামলার প্রথম তদন্তকারী কর্মকর্তা মহিপুর থানার এসআই আতিক এ বিষয়গুলো নিশ্চিত করেছেন। তার বদলীর কারনে বর্তমানে মামলাটির তদন্তভার দেয়া হয়েছে এসআই হাফিজকে। সন্ত্রাস বিরোধী আইনের ২০০৯ সংশোধিত ২০১৩ এর অভিযোগে দায়ের করা পুলিশের মামলার তদন্তে এসব তথ্য বেরিয়ে এসছে।

নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা যায়, কুয়াকাটা পর্যটন কেন্দ্র, পায়রা বন্দর, ১৩২০ মেগাওয়াট তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্র, সাবমেরিন নৌ-ঘাঁটি সহ কলাপাড়া উপজেলায় বাস্তবায়ন হতে যাচ্ছে দেশের বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল। এ এলাকা ঘিরে চলছে বিভিন্ন ধরনের সরকারি মেগা প্রকল্প। তাই গুরুত্বপুর্ণ এ এলাকায় জামাাত তাদের সংগঠন শক্তিশালী করতে গড়ে তুলেছে শক্তিশালী নেটওয়ার্ক। তারা গোপনে গোপনে নিয়মিত সভা চালিয়ে যাচ্ছে। যার ফলশ্রুতিতে ১৪ মে কুয়াকাটার আজিমপুর গ্রামের জামায়াত শীর্ষনেতা মাওলানা নরুল ইসলামের বাড়িতে গোপন সভা চলাকালে পুলিশ হানা দেয়। তখন পুলিশ দুইজনকে গ্রেফতার করে। এছাড়া সেখান থেকে জামাতের কুয়াকাটার সাংগঠনকি কর্মকান্ডের পরিকল্পনার খাতা-পত্র, চাঁদা আদায়ের রশিদ, চাঁদা দাতাদের রশিদ বই, নগদ টাকা, ল্যাপটপ, মোবাইল ফোনসহ বিভিন্ন উপকরণ জব্দ করে পুলিশ। একই তারিখ মহিপুর থানার এসআই মনিরুজ্জামান ১৪ জনকে আসামি করে একটি মামলা দায়ের করেন। এদের একজন মুক্তিযোদ্ধা মেমোরিয়াল কলেজের শিক্ষক মোসা: জোবায়দা। এরা ছাড়াও বেশ কয়েকজন মাদ্রাসা, কলেজ ও স্কুল শিক্ষক রয়েছেন যাদের এসব কর্মকান্ডের সঙ্গে সম্পৃক্ততার তথ্য পেয়েছে পুলিশ। তবে এ অঞ্চলে জামাত তাদের নারী সংগঠনকে চাঙ্গা করতে নতুন কৌশলে এগুচ্ছে বলে পুলিশ নিশ্চিত হয়েছে। পুলিশ চাঁদা আদায়ের রশিদ পর্যালোচনা করে দাতাদের নাম সংগ্রহ করেছেন। যাদেরকে মূলতঃ নিষিদ্ধ সংগঠনের অর্থায়নকারী হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এমনকি পটুয়াখালী জেলার কার্যক্রমও চলত কুয়াকাটায় বসে। উপকূলীয় সাগরপারের এ জনপদে বিশেষ কোন বাহিনীর দৃশ্যমান অভিযান না হওয়ার সুযোগে জামাত তাদের পুরুষ সংগঠনের পাশাপাশি নারী সংগঠনকে চাঙ্গা করতে থাকে। ১৪ মে সভার পরে পুলিশ এদের কর্মকান্ড সম্পর্কে আরও ব্যাপক অনুসন্ধানে নেমে পড়ে। সরকারের একাধিক গোয়েন্দা সংস্থা মাঠ পর্যায়ে পুরুষ-নারী যারা এমন কর্মকান্ডে জড়িত রয়েছে তাদের সম্পর্কে খোঁজ-খবরে নেমেছে বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে।

 

মহিপুর থানার উপ-পরিদর্শক ও মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই হাফিজ জানান, মামলাটির অধিকতর তদন্ত চলছে। এজাহারভুক্ত আসামি ছাড়াও অজ্ঞাত আসামিদের সণাক্ত করে গ্রেফতার করার চেষ্টা চলছে বলে জানান তিনি।