কলাপাড়ায় জোয়ারের পানিতে ভাসছে ৩০ গ্রাম

2

গোফরান পলাশ, কলাপাড়া প্রতিনিধি: পটুয়াখালীর কলাপাড়ায়  জোয়ার পানিতে ভাসছে গ্রামের পর গ্রাম। অমাবশ্যার জো’র প্রভাবে সাগর ও নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় উপজেলার লালুয়া, মহীপুর,ধানখালী ও চাম্পাপুর ইউনিয়নের ৩০ টি গ্রামের মানুষ পানিবন্দী হয়ে পড়েছে। প্রতিদিন দু’দফা জোয়ারের পনিতে তলিয়ে যাচ্ছে ওইসব গ্রামের মানুষের বেঁচে থাকার শেষ আশ্রয়টুকু। গত কয়েক দিন ধরে বন্যানিয়ন্ত্রন বাঁধের ভাঙ্গা অংশ দিয়ে অস্বাভাবিক জোয়ারের পানি প্রবেশ করে ফের বাড়ি ঘর, ফসলি জমি সহ মাছের ঘের ৩/৪ ফুট পানিতে তলিয়ে গেছে। ফলে কৃষকদের চাষাবাদ বন্ধ হয়ে আছে। অধিকাংশ মানুষ এখন অনেকটাই জোয়ার-ভাটার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে।সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে, বেড়িবাঁধের ভাঙ্গা অংশ দিয়ে জোয়ারের পানি প্রবেশ করে গ্রামের পর গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। অস্বাভাবিক জোয়ারের পানিতে ফসলী জমি, পুকুর, ঘের সহ বাড়ি ঘর তলিয়ে আছে। ওইসব বানভাসি দেড় সহ¯্রাধিক পরিবারের চোখের ঘুম হারাম হয়ে গেছে। অস্বাভাবিক ¯্রােতের টানে মানুষ ভেসে বেড়ালেও তাদের আর্তনাদ কেউ শুনছে না। গো-খাদ্যের চরম সংকট দেখা দিয়েছে । এছাড়া যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়ায় বন্ধ হয়ে গেছে মহিপুর ইউনিয়নের নিজামপুর গ্রামসহ তিন গ্রামের স্কুল-কলেজগামী ছাত্র-ছাত্রীদের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যাওয়া আসা। এর পরও ভেঙ্গে যাওয়া বাঁধ সংস্কারে কোন উদ্যেগ নেয়া হয়নি।স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ২/৩ দিন ধরে লালুয়ার ৪৭/৫ পোল্ডারের চাড়িপাড়া বেড়িবাঁধের ভেঙ্গে যাওয়া অংশ দিয়ে নদীর পানি প্রবেশ করে চাড়িপাড়া, পশরবুনিয়া, বানাতিপাড়া, ১১নং হাওলা, বানাতিপাড়া, ধঞ্জুপাড়া ও নয়াকাটা গ্রাম রামনাবাদ নদীর জোয়ারের পানিতে তলিয়ে যায়। এছাড়া উপজেলার মহিপুর ইউনিয়নের সুধিরপুর, নিজামপুর, কমরপুর, ইউসুফপুর, পুরান মহিপুর ও চাম্পাপুর ইউনিয়নের দেবপুর বাঁধের ভাঙ্গা অংশ দিয়ে অস্বাভাবিক জোয়ারের পানিতে গ্রামের পর গ্রাম তলিয়ে গেছে। চম্পাপুর ইউপি চেয়ারম্যান রিন্টু তালুকদার জানান, দেবপুর ভেঙ্গে যাওয়া বাঁধ এখন এলাকার মানুষের কাছে আতংক। কৃষকদের চাষাবাদ বন্ধ হয়ে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে। বলতে গেলে ওইসব গ্রামের মানুষ এখন জোয়ার ভাটার ফাঁদে পড়ে আছে।

মহিপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবদুল ছালাম আকন জানান, জরুরী ভিত্তিতে নিজামপুর পয়েন্টের ভাঙ্গা অংশ মেরামত করা না হলে কৃষকরা তাদের জমিতে চাষাবাদ করতে পারবেনা।

বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড কলাপাড়া অঞ্চলের নির্বাহী প্রকৌশলী মো.আবুল খায়ের জানান, এলাকা পরিদর্শন করে তারা ঢাকায় ক্ষয়ক্ষতির তথ্য পাঠিয়েছেন। বর্ষা মৌসুম শেষে এই ভাঙ্গা বাঁধগুলো মেরামত করতে পারব বলে আশাকরি। কারন বর্ষায় বাঁধ মেরামতের কাজ শুরু করলে আবার ক্ষতির সম্ভাবনা রয়েছে বলে তিনি সাংবাদিকদের জানিয়েছেন।