কলাপাড়ায় নদী তীরসহ বনাঞ্চল কেটে  চলছে স্থাপনা তোলার হিড়িক

2

 

গোফরান পলাশ, কলাপাড়া বিশেষ প্রতিনিধি: পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলার চাকামইয়া-টিয়াখালী দোন নদীর তীরসহ নদী দখল করে চলছে স্থাপনা তোলার হিড়িক। যে যেভাবে পারছে নদীপাড়ের বনবিভাগের ছইলা-কেওড়া গাছসহ বনাঞ্চল পর্যন্ত কেটে উজাড় করে সেখানে তুলছে স্থাপনা। ইতোমধ্যে নবনির্মিত বাসস্ট্যান্ড থেকে চাকামইয়া ব্রিজ হয়ে উত্তরদিকে পর্যন্ত অন্তত: শতাধিক স্থাপনা তোলা হয়েছে। কেউ কেউ আবার পাকা স্থাপনা তুলছে। বর্তমানে স্থাপনা তোলার কাজ অব্যাহত রয়েছে। টিয়াখালী ভূমি অফিসের অধীন এই এলাকা এখন দখলদারদের দৌরাত্মে সরকারের হাতছাড়া হয়ে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে। অবস্থাদৃষ্টে মনে হচ্ছে ভূমি প্রশাসনের কোন কর্তৃত্ব নেই এসব বন্ধে।

নতুনপাড়া (চইয়াপাড়া) রাখাইন পল্লীর বাসীন্দারা অভিযোগ করেন তাদের শ্মশানসহ গোটা এলাকা দখল করে করাত কলসহ বাড়িঘর তোলা হয়েছে। বহুবার বাধা দেয়া হয়েছে কিন্তু কোন প্রতিকার তারা পাননি। এখন শ্মশানে যাওয়া-আসার পথটুকু পর্যন্ত নেই। চারপাশ দিয়ে মাটি কেটে নেয়া হয়েছে। কলাপাড়া পৌরশহর থেকে এ নদীর পাড়ের বেড়িবাঁধটি সড়ক ও জনপথ বিভাগ মহাসড়কে উন্নীত করে। বেড়িবাঁধের নদীর সাইটে পাঁচ বছর আগেও বনবিভাগের সংরক্ষিত বাগান ছিল। ছিল ছইলা-কেওড়াসহ বাঁধের স্লোপে সামাজিক বনায়নের গাছপালা। কিন্তু এসব কেটে সাবাড় করে দেয়া হয়েছে। এখন বাঁধের স্লোপসহ বাঁধ সংরক্ষণের মাটি কাটার জায়গাসহ ভরাট করে বাড়িঘরসহ স্থাপনা তোলা হয়েছে। বনের গাছের মধ্যে পাকা স্থাপনা তোলা হয়েছে। নদী পর্যন্ত রক্ষা পাচ্ছে না।

দখলদারদের একজন নাম না বলার শর্তে জানান, সবাইকে উচ্ছেদ করা হলে তিনিও দখল ছেড়ে দিবেন। বনবিভাগ, পানিউন্নয়ন বোর্ড, সড়ক ও জনপথ বিভাগ এমনকি খোদ ভূমি প্রশাসন কেউ এসব বন্ধে কোন ব্যবস্থা নেয়নি। ফলে দখলদাররা তাদের দখল সন্ত্রাস চালাচ্ছে ফ্রি-স্টাইলে। সংশ্লিষ্ট দফতরের কর্তাব্যক্তিদের মন্তব্য প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে। অবস্থা এমন হয়েছে যে এই দখলের ধারা অব্যাহত থাকলে আগামি কিছু দিনের মধ্যে এই নদীরপাড় বিরানভূমিতে পরিণত হবে। পাশাপাশি বেহাত হবে সরকারের বিপুল পরিমান খাস জায়গা। ফলে সিডরের মতো ঝড়-জলোচ্ছ্বাসের ঝাপটা বাধাগ্রস্ত হওয়ার মতো কোন বন থাকবেনা। বেড়িবাঁধসহ সড়ক ভেসে যাবে প্লাবনে। দূর্যোগকালীন ঝুঁকি চরমে পৌছবে। প্রথমে আড়ালে আবডালে ঘর তোলা হয়। পরে রাতের আধারে গাছ কেটে পাশের করাতকলে চেরাই করে পাচার করা হয়।

এ বিষয়ে কলাপাড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার এবং উপজেলা নদী রক্ষা কমিটির সভাপতি এবিএম সাদিকুর রহমান জানান, দখলদার উচ্ছেদে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।

বনবিভাগের কলাপাড়ার কর্মকর্তা আবুল কালাম আযাদ জানান, তদন্ত করে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেয়া হবে।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের কলাপাড়ার নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ আবুল খায়ের জানান, ভূমি প্রশাসনের সঙ্গে যৌথভাবে এসব স্থাপনা উচ্ছেদ করে সরকারি জায়গা দখলমুক্ত করা হবে।